সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

টাঙ্গাইল থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

টাঙ্গাইল থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপীকৃষক কার্ডবিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে টাঙ্গাইলে তার প্রথম সফর। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রটোকল অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সড়ক পথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রাক-পাইলটিং হিসেবেকৃষক কার্ডকর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। দুপুর সোয়া ১২টায় টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন।

কৃষি কার্ডটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে রয়েছে, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি প্রণোদনা সরাসরি গ্রহণ, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা এবং পিওএস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ মৎস্য/প্রাণিখাদ্য কেনা। এছাড়াও ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে ,৫০০ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে তিন ধাপে এই কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবে। টাঙ্গাইলের উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এই কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে সেখানে অবস্থান করছেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, প্রাক-পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী আগস্ট থেকে পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরু হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এর আগে ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারের জন্যফ্যামিলি কার্ডচালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৩৭,৫৬৭ জন উপকারভোগী মাসিক ,৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। ৩০ মার্চ ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকেক্রীড়া কার্ড বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


টাঙ্গাইল থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপীকৃষক কার্ডবিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে টাঙ্গাইলে তার প্রথম সফর। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রটোকল অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সড়ক পথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রাক-পাইলটিং হিসেবেকৃষক কার্ডকর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। দুপুর সোয়া ১২টায় টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন।

কৃষি কার্ডটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে রয়েছে, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি প্রণোদনা সরাসরি গ্রহণ, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা এবং পিওএস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ মৎস্য/প্রাণিখাদ্য কেনা। এছাড়াও ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে ,৫০০ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে তিন ধাপে এই কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসবে। টাঙ্গাইলের উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এই কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে সেখানে অবস্থান করছেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, প্রাক-পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী আগস্ট থেকে পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরু হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এর আগে ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারের জন্যফ্যামিলি কার্ডচালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৩৭,৫৬৭ জন উপকারভোগী মাসিক ,৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। ৩০ মার্চ ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকেক্রীড়া কার্ড বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। ১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত