সংবাদ

৯৬ ভাগ পুলিশ আগের পোশাক চায়

পুলিশের নতুন পোশাকের রঙ নিয়ে আপত্তি



পুলিশের নতুন পোশাকের রঙ নিয়ে আপত্তি

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে পুলিশের নতুন রঙের পোশাক কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যরা পরতে শুরু করেছেন। আবার অনেকেই আগের পুরনো পোশাক পরছেন।

পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে জানা গেছে, বর্তমানে যে রংয়ের পোশাক পুলিশ ব্যবহার করছে। তা প্রায় ৯৬ ভাগ পুলিশ পছন্দ করে না। সম্প্রতি সারাদেশে পুলিশে বিভিন্ন ইউনিটের এক জরিপে এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

মতামতে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনী আগের পুরনো পোশাকে ফিরে যেতে চায় বলে তাদের জরিপে মতামত দিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে মাঠ পর্যায়ের একজন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সংবাদকে বলেন, পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে সারাদেশে থানাসহ মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে শতকরা ৯৬ ভাগ পুলিশ তাদের মতামত জানিয়েছেন। তারা আগের পোশাকে ফিরে যেতে চায় এমন মতামত পুলিশ সদর দপ্তরকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে। এর আগে মাঠ পর্যায়ে পোশাক সম্পর্কে চিঠি দিয়ে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে বলে ওই ওসি সংবাদকে জানিয়েছেন।

এ দিকে কয়েকজন চাকরীজীবী সংবাদকে বলেন, পুলিশের নতুন পোশাক সাধারণ মানুষও পছন্দ করে না। এ পোশাকে রাস্তায় পুলিশকে চেনাও কষ্টকর বলে তারা মন্তব্য করেন। শহরের চেয়ে গ্রাম-গঞ্জে ডিউটি বা অভিযান চালাতে গেলেও পুলিশের পোশাক নিয়ে সমালোচনা করা হয় বলে  জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকতা সংবাদকে জানায়, পুলিশ ছাড়াও সাধারণ মানুষ পুলিশের পরিবর্তিত নতুন পোশাক পছন্দ করে না। এটা দেখতে বিশ্রী, রঙও ভাল না। এ পোশাক পরে বাসায় গেলে স্ত্রী ও স্বজনরা বোকাবকি করছেন। পোশাকে নিজেকে দারোয়ানের মত লাগে বলে একজন ডিআইজি মন্তব্য করেন। তাই এই পোশাক পরিবর্তন করা দরকার।

পুলিশের একজন ডিআইজি বলেন,পুলিশকে যে রংয়ের পোশাক দেয়্ হয়েছে। সে পোশাক রাতে স্পষ্ট হয় না। একই পোশাক অন্য সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্য পরে। আগের রংই ভাল ছিল।

আর পুলিশের পোশাক নয়, আচরণ, অভ্যাস, রুচি পরিবর্তন করা দরকার। তা না করে যে পোশাক দেয়া হয়েছে এটা পরলে সাধারণ মানুষ হাসহাসি করে। আগের পোশাকে পুলিশ ফিরে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ দিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ  পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাকটি ছিল তা ২০০৩-২০০৪ সালের তৎকালিন সরকার গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই বাছাই করে ঐ সময় বাংলাদেশ পুলিশের  চাকুরিতে  কর্মরত  ব্যক্তিদের গায়ের রং আবহাওয়া, রাতে ও দিনের ডিউটিতে যাতে সহজেই চিহ্নিত করা যায় এবং অন্য যে কোন বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয় এ সব বিষয় বিবেচনা করেই পোশাক পরিবর্তন করেছিলো।

অন্তবর্তীকালিন সরকার বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া, পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনরূপ জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য এক সংস্থা যে ইউনিফরম পরে থাকেন তাদের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এমন পোশাক নির্বাচিত করা হয়েছে।

যার ফলে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে মর্মে মাঠ পর্যায় থেকে মতামত তুলে ধরা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের গোচরীভূত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসিয়েশন গভীর উদ্যোগের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, বাহিনীর বেশীর ভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নয়।

চলতি বছর (২০২৬ সালে) গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর  প্রায় সকল সদস্য এই পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে  তাদের  সর্বোচ্চ  পেশাদারিত্ব  বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। যা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সকলের কাছে প্রশংসিত  হয়েছে।

এ ছাড়াও পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির  প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল পরিমান অর্থ নতুন পোশাক তৈরীর  পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ, লজিস্ট্রিক সার্পোট বৃদ্ধি করাই  অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। পোশাকের রঙ বা নকশা নয়, বরং  পুলিশ সদস্যদের মন মানসিকতা পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিবৃতিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করে তা আরও অধিক গবেষনা ও জনমত যাচাই করে বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা   এবং পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬


পুলিশের নতুন পোশাকের রঙ নিয়ে আপত্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে পুলিশের নতুন রঙের পোশাক কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যরা পরতে শুরু করেছেন। আবার অনেকেই আগের পুরনো পোশাক পরছেন।

পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে জানা গেছে, বর্তমানে যে রংয়ের পোশাক পুলিশ ব্যবহার করছে। তা প্রায় ৯৬ ভাগ পুলিশ পছন্দ করে না। সম্প্রতি সারাদেশে পুলিশে বিভিন্ন ইউনিটের এক জরিপে এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

মতামতে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনী আগের পুরনো পোশাকে ফিরে যেতে চায় বলে তাদের জরিপে মতামত দিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে মাঠ পর্যায়ের একজন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সংবাদকে বলেন, পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে সারাদেশে থানাসহ মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে শতকরা ৯৬ ভাগ পুলিশ তাদের মতামত জানিয়েছেন। তারা আগের পোশাকে ফিরে যেতে চায় এমন মতামত পুলিশ সদর দপ্তরকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে। এর আগে মাঠ পর্যায়ে পোশাক সম্পর্কে চিঠি দিয়ে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে বলে ওই ওসি সংবাদকে জানিয়েছেন।

এ দিকে কয়েকজন চাকরীজীবী সংবাদকে বলেন, পুলিশের নতুন পোশাক সাধারণ মানুষও পছন্দ করে না। এ পোশাকে রাস্তায় পুলিশকে চেনাও কষ্টকর বলে তারা মন্তব্য করেন। শহরের চেয়ে গ্রাম-গঞ্জে ডিউটি বা অভিযান চালাতে গেলেও পুলিশের পোশাক নিয়ে সমালোচনা করা হয় বলে  জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকতা সংবাদকে জানায়, পুলিশ ছাড়াও সাধারণ মানুষ পুলিশের পরিবর্তিত নতুন পোশাক পছন্দ করে না। এটা দেখতে বিশ্রী, রঙও ভাল না। এ পোশাক পরে বাসায় গেলে স্ত্রী ও স্বজনরা বোকাবকি করছেন। পোশাকে নিজেকে দারোয়ানের মত লাগে বলে একজন ডিআইজি মন্তব্য করেন। তাই এই পোশাক পরিবর্তন করা দরকার।

পুলিশের একজন ডিআইজি বলেন,পুলিশকে যে রংয়ের পোশাক দেয়্ হয়েছে। সে পোশাক রাতে স্পষ্ট হয় না। একই পোশাক অন্য সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্য পরে। আগের রংই ভাল ছিল।

আর পুলিশের পোশাক নয়, আচরণ, অভ্যাস, রুচি পরিবর্তন করা দরকার। তা না করে যে পোশাক দেয়া হয়েছে এটা পরলে সাধারণ মানুষ হাসহাসি করে। আগের পোশাকে পুলিশ ফিরে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ দিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ  পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাকটি ছিল তা ২০০৩-২০০৪ সালের তৎকালিন সরকার গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই বাছাই করে ঐ সময় বাংলাদেশ পুলিশের  চাকুরিতে  কর্মরত  ব্যক্তিদের গায়ের রং আবহাওয়া, রাতে ও দিনের ডিউটিতে যাতে সহজেই চিহ্নিত করা যায় এবং অন্য যে কোন বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না হয় এ সব বিষয় বিবেচনা করেই পোশাক পরিবর্তন করেছিলো।

অন্তবর্তীকালিন সরকার বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া, পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনরূপ জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্য এক সংস্থা যে ইউনিফরম পরে থাকেন তাদের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এমন পোশাক নির্বাচিত করা হয়েছে।

যার ফলে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে মর্মে মাঠ পর্যায় থেকে মতামত তুলে ধরা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের গোচরীভূত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসিয়েশন গভীর উদ্যোগের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, বাহিনীর বেশীর ভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নয়।

চলতি বছর (২০২৬ সালে) গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর  প্রায় সকল সদস্য এই পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে  তাদের  সর্বোচ্চ  পেশাদারিত্ব  বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। যা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সকলের কাছে প্রশংসিত  হয়েছে।

এ ছাড়াও পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির  প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই বিপুল পরিমান অর্থ নতুন পোশাক তৈরীর  পরিবর্তে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ, লজিস্ট্রিক সার্পোট বৃদ্ধি করাই  অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। পোশাকের রঙ বা নকশা নয়, বরং  পুলিশ সদস্যদের মন মানসিকতা পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিবৃতিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি যেন পুনর্বিবেচনা করে তা আরও অধিক গবেষনা ও জনমত যাচাই করে বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা   এবং পুলিশের প্রতিটি সদস্যের আবেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত