বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। হায়দরাবাদের এক এনআরআই যুবককে ফাঁসিয়ে এই অর্থ আত্মসাত করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী আশু রেড্ডি।এ ঘটনায় ফেরারি ঘোষণা করা হয়েছে অভিনেত্রীর বোনকেও।হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় ক্রাইম শাখায় দায়ের করা মামলাটি খারিজ চেয়ে করা অভিনেত্রীর আবেদনের শুনানি করেছে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট।বিচারপতি বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৪ মে বিষয়টির পরবর্তী শুনানি হবে।‘বিগ বস তেলুগু’র মতো জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া আশু রেড্ডির পুরো নাম ভেঙ্কটা অশ্বিনী রেড্ডি কোয়া। তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন হায়দরাবাদের শাইকপেট এলাকার বাসিন্দা সত্যনারায়ণ। তিনি লন্ডন-প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওয়াইভি ধর্মেন্দ্রর বাবা।অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ধর্মেন্দ্রকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিনেত্রী তার সঙ্গ পেতে থাকেন। এই সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে তিনি বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেন।অভিনেত্রী বেশ কয়েকটি গাড়ি, প্রায় পাঁচ কেজি স্বর্ণ এবং একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন-সবই অভিযোগকারীর ছেলের টাকায়। সম্পত্তিগুলো অভিনেত্রীর নিজের নামে নিবন্ধিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সত্যনারায়ণ।প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে সম্প্রতি ধর্মেন্দ্র ৯ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য ও রশিদ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া আশু রেড্ডির বোনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, তিনি ধর্মেন্দ্রের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে তা ফেরত দেননি।আশু রেড্ডি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের পিটিশনে দাবি করেন, ‘এনআরআই যুবকটি নিজের ইচ্ছায় আমার পরিবারকে রাজি করানোর জন্য অর্থ ব্যয় করেছে। আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি বা প্রতারণা ছিল না।’রেড্ডি আরও দাবি করেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এটি শুধু তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই করা হয়েছে। তিনি তদন্ত স্থগিত ও আইনি প্রক্রিয়া বন্ধেরও আবেদন জানিয়েছেন।সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে অভিনেত্রীকে ১.৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে শোনা যায়। সেই অডিওতে তিনি সমঝোতা না হলে পাল্টা হয়রানির মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।অডিওটির সত্যতা যদিও নিশ্চিত করেনি কেউ। আগামী ৪ মে হাইকোর্টে শুনানির পর এ জটিল মামলার পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।