পৃষ্ঠাজুড়ে কবিতা
কোনো এক আবহ পাখির প্রতিআবদুর রাজ্জাকসহসা মেঘ থেকে লাফিয়ে পড়ে স্থাপত্য বৃষ্টি, তুমিওশাদা বর্ষাতি পরা,শীতের লংকোট পরে অতীতেও বৃষ্টি নেমেছিলো,বর্ষাতি ছাড়া পৃথিবীতে কখনো কোনো বৃষ্টি নামেনি|গোপনে তোমার পিঠে হাত রেখেছি, তোমার গাল বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা সমুদ্র ঝরেছে আর আগুনের লাল শিখা হৃৎপিণ্ডে হাহাকার করেছে|ঘামে ভিজে যাওয়া শাড়ির ভেতরে এমন এক অমৃতকে দেখতে চাইনি, কী অদ্ভুত! দেখতেই হলো!তুমি ঈষৎ কুঁজো হয়ে হাঁটো, ছিপিছপ শব্দে পা দুটো মাটি ছুঁয়ে যায়, শাদা দুধের মতো সিন্ড্রোম থেকে বেরিয়ে আসা চাঁদে পাওয়া মানুষ আমি—তোমার পৃথিবীতে এসে হাওয়া দিই পালে|মধু রং বাতাস, আকাশ কাঁপছে, না আসাই ভালো ছিলো,শরীরে ভয়ানক জ্বর, কুঞ্চিত ভ্রু দুটির কী গঠনশৈলী,বদমাশ! তোমার সলিল সমাধি হোক|এ অবস্থায় জ্বর না উঠে পারে? ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করুন|বুকের আরেকটি পাতলা আবরণ আমার দৃষ্টিউদযাপনেপ্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে|আমি তোমার সৌন্দর্যের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছি, আমাকে কেউ বাঁচাতে আসেনি| আছি তোমার প্রতীক্ষায়খালেদ হোসাইনমনে আছে? তুমি এলে না বলেফুল ফুটলো না মহুয়া গাছে,গতবার?তোমাকে ডেকেছি কতবার!এবারও তুমি আসোনিভালোবাসোনিতবুও এসেছে কুঁড়িমনে হয় যেন সর্ব অঙ্গেমনে হয় যেন মূলেওকতকিছু ঘটে—কিছু বুঝেশুনেকিছু তো মনের ভুলেও!কী আশ্চর্য, মহুয়া ফুটেছেঅন্য অন্য গাছেওদূরে তো বটেই, কাছেও|মহুয়া-কুঁড়ির গন্ধে মাতালশাল-সেগুনের ভূমিকথা দিয়েছিলে,তবু আসবে না?তবু আসবে না তুমি?ফুল ফোটার শব্দমাহফুজ আল-হোসেনকবিতার ফুল ফোটার শব্দ শুনেছো কী কখনো !আমি শুনেছি—সংরক্ত হৃদয় গভীরে|শব্দ-বীজেরা সাংসারিক কথকতার আড়মোড়া ভেঙেআকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে—মুক্তির মিছিলে শামিল হয় আগুনপাটেরশাড়ি পরে |মুগ্ধতার মৃদুমন্দ বাতাসও যেনসম্মোহিতের মতোপ্রকৃতিমুগ্ধ চিত্রকল্পের পাল্কি বয়ে নিয়ে যায়নিটোল ছন্দের গীতসুধায়;আর অস্থির অনুপ্রাসের মোহনীয় নূপুর- নিক্বণেনৈঃশব্দ্যের লোকলজ্জা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে মেশক অম্বরের সৌগন্ধ দশ দিগন্তে|নির্ঘুম প্রতীক্ষার ঘর্মাক্ত প্রহর যেন শেষ হতে চায় না—অথচ অপেক্ষার অপ্রস্তুত এক শুভক্ষণে গগণবিদারী সুতীব্র চিৎকারে উৎপ্রেক্ষার উরুসন্ধিতে প্রস্ফুটিত হয় কবিতার ভাটফুল|ধবল পালের উপহাসদিলারা মেসবাহভেঙে ফেলি মাস্তুল, ধবল পালের উপহাস|ছাইভস্ম লিখেছি যা বেহুদা, শিরপীড়াসমূহএই চৈত্রে সাজানো পিলসুজে রক্তজবা উদ্বাহুপ্রতাপে নাচে দেখ| নিশি ঘন অগ্নুৎসব দেখ|আমারি হীরামন কণ্ঠে তুলেছে শুনি বজ্রের বাহানা!চতুর সভার বাতি নিভে যাক, সাজানো বন্দিশ সহসা তামাদি ধারাপাত ঘরগেরস্তি, হামানদিস্তা বাতিল,যখন ছিলাম আকণ্ঠ বিভ্রমে, বেমক্কা আশালতা বুনেহে আমার ত্রস্ত হরিণী, বিভোল মন| দেখ নাই চর্মচক্ষে টেরিকাটা থাবা,উলুঝুলু বাবরি বাহার? সরে পড়িলুকিয়ে রাখি ভাঙাচোরা বিহবল প্রাণ, ভ্রুকুটি সমূহ,বনবকুলের হাতছানি, প্রেমময় জলের বিজন উৎসব|আমার আমিকে পাই নরম আলোয় আকাশ বিহার||নিরন্ন জোনাকিশফিক ইমতিয়াজপুলিপিঠা বানানোর সামান্য গুড়ের আয়োজনচারপাশে ভনভন বেহায়া মাছিহাতপাখা নিয়ে বসে থাকা ক্লান্তিহীন শাশ্বতী মাতার আঁচল-ছায়ায় নিবুজ্বলা নিরন্ন জোনাকি|মাতৃমুখি জীবনের এক সুবিস্তৃত পাঠকারা যেন দল বেঁধে তীক্ষ্ম নখে ছিঁড়েফেড়ে যায়!পোলট্রি-কলরব ন্যাড়াবৃক্ষ; পতিত পাতার স্তূপে মরভাঁপখরবায়ু; মনীষা গভীর মর্মাহতএকারাতে ভিজে ওঠা বুকের একান্ত গিরিমাটি|প্রকৃতি টালমাটাল, পথে যৌনগিঁট কুকুরপ্রবাহসেসব ঘিরেই বোধহীন রিরংসার ভ্রষ্ট করতালি| অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে কামরুল ইসলামএতোদিনে কিছুই হয়নি, জেনে গেছে স্বয়ং ঈশ্বর; শান্তশিশুর মতন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যাই, মায়ের আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকি, স্বপে¦ দেখি— অসম্ভব বীভৎস একমেষপালকের চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে, আর আমিপিপড়ার সারিতে ঢুকে পড়ি চিত্তের ভয়াল বিপর্যয়ে—চলতে চলতে পিঁপড়াদের ভাষাটাও শিখে ফেলিঅতঃপর গোধূলি পার হয়ে এলে ওরা বলে, এবার হবে, দেখো|এই তল্লাটে পিপড়ারা খাদ্যের খোঁজে আসেগোধূলি পার হলেই পাবে তারে—এপারে শিশির নয় রক্ত ঝরে ভোরে, পিঁপড়ারা সেই রক্ত পান করেসেই রক্ত পান করে আমি গভীর জঙ্গলে ঢুকি, কড়া নাড়ি নিস্তব্ধ প্রাচীন এক দালানের— পিপড়ার দল শস্যদানা নিয়ে ফিরে গেছে পাহাড়ের দিকে আমি নিস্তব্ধ দালানের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, ভুলে গেছি মানুষের ভাষা, পিঁপড়াদের ভাষায় ডাকাডাকি করি বাতাসে শূন্য এঁকে ধ্বনিগণ মহাশূন্যের ভাঁজ খুলে ঘুমুতে যায়আমি দাঁড়িয়ে থাকি নির্ভার, বর্ণালী স্বপ্নের স্রোতে ভেসে যায় আমার না-ফেরার গল্পদূরে জঙ্গলের ওপারে ছাতিম ফুলের গন্ধ হয়েবাতাসে উড়ে বেড়ায় আমার হারানো ভাষা, আর পিঁপড়ে-মানুষ আমি ভিজতে থাকি ঝুম বৃষ্টিতে, এই নিপাট অবেলায়— অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে পাহাড় ডিঙিয়েঢাকা আছে বয়ামেপ্রণব মজুমদারযা বলি তা কী করি উদযাপন;যা করি তা কী সত্যি মনের পণ?বিচার মানি তবে ওটা যে আমার তালগাছঘরে বাইরে দেখ ভয়ঙ্কর শোল মাছ!শোরগোল, অশান্ত সময় আর সর্বনাশদুঃচিন্তায় তোমার আমার হাসফাঁস!একদা কবি বলেছেন উদ্ভট উটে...বিষয়টি নয় মোটেও বিদখুটে!অটুট অনিয়ম, বিনিময় হয় খামেআদর্শ তুলে রাখ কাচের বয়ামে!রৌদ্রের পালকমোহাম্মদ হোসাইনআমাদের এখানে কয়েকজন উকিল আছেন| কিন্তু, একজনও উকিল মুনশি নেই, তাদের ভিতর কারো কোনো অলক্ত চুম্বন নেই মায়াবী বেহাগ নেই!পৃথিবীতে বহু বহু জালাল উদ্দিন বাস করেন কিন্তু, একজনও রুমি বাস করেন না| একজনও ফানা ফিল্লায় অলৌকিক প্রেমিক দেখি না!আমার ভেতরে একজন নিস্ব নিশাতযার কান্না আমি টের পাইআর জিকিরে জিকিরে থাকি যেন অলৌকিক ঝরনা নির্জন পাহাড়ের শূন্যতা...ভোরের যে রাগ ও রক্তিমাভাধ্যানরত মাঠের বর্ণমালা আর নিবিড় রেখা ও রঙের অমল উচ্চারণ কিংবাপঙক্তির বিনীত প্রকাশ যাচিরদিন আমাকে ফকিরি শিখিয়েছেআমি তা পাঁজরে লুকিয়ে রাখি যেন রক্তেলেখা সুগন্ধি রুমালআমি ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা হাতে তুলে নিই আর গায়ে মাখি জাফরি কাটা জ্যোৎস্নার গরিমা|দেখি শীত শেষে রুদ্র নয় রৌদ্রের পালকফাল্গুনের বাজি ফোটাচ্ছে... মস্তানির ফিরিস্তিরাহেল রাজিবশহর জুড়ে নতুন মস্তানি চলে, মস্তানদের চারপাশেই বসবাস— এ শহরে পুরনো কিছু মস্তান ঘোরাফেরা করে বীরদর্পে| তাদের হাতে পিস্তল কিংবা লাঠি নেই, ঝোলাভর্তি বই এবং জীবনের সময়ভর্তি জ্ঞানচর্চায় তাঁরা হেঁটে বেড়ায় শহরের প্রান্তজুড়ে| তাঁদের চিনতে হলে যেতে হবে ফরাসি রেস্তোরাঁয় কিংবা যশুরে চুঁইঝালে; কখনো কখনো তাঁদের খুঁজে পাবে প্যাস্ট্রিশপের কোনায়- কফিতে চুমুক দিয়ে লাস্কি-নেহরুরা সরব থাকে, অমলেশ ত্রিপাঠী, অম্লান দত্ত, রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব ও তপন রায়চৌধুরীরা এদের আলাপে রাজধানীকে সরগরম রাখে— এসো এইসব মস্তানদের সাথে হেঁটে যাই ইতিহাসের পথে, মহেঞ্জোদারো থেকে ভ্যাটিকানের পথে কিংবা কথাপ্রেমে জেগে থাকি কায়রোয় গিজার সামনে সুন্দরী সমাজবিজ্ঞানীর সাথে... ছাতারহমান মুজিবভাসছে জ্যৈষ্ঠের মেঘপিওনরিমঝিম পুঁথিপাঠে আজ কাকভেজা গ্রামআমরাও শৈশবের নাম বৃষ্টির রেখাচিত্রভিজে ভিজে কখন যে এসে পরলাম কাক-সন্ধ্যায়অথচ সন্ধ্যা এক প্রতীক্ষাপত্র, পড়তে পড়তেঅশ্রুধারায় ভিজে গেছে মায়েরও সারাটা জীবনমা এবং আমি-উভয়ই বৃষ্টির সতীর্থ চেরাপুঞ্জিযদিও আমাদের কারোরই ছাতা নাইমা বিধবা, ছাতা নামক তার স্বামী নাইপিতৃহীন আমি, উত্তরাধিকার সূত্রে তাই আমারওকোন ছাতা নাইডিলেরিয়ামপারভেজ আহসানদাঁত কটমটে আকাশ—ঝরছে বিদ্যুৎশিশুরা খেলছে মাঠেহঠাৎ চোখে ঘুমশরীরে লিচুর বাকল|মানুষের মাথায় মহিষের শিং‘হাট্টিমাটিম টিম’তাদের রক্তাক্ত পা ডিম থেকে বেরুচ্ছে অজগর|নার্স ইনজেক্ট করছে হেলোপেড়িডল|বদলা নয়, বদলটা কাম্যতোফায়েল তফাজ্জল নোংরা-কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি উভয়ের লাগে গায়, জায়গা-বেজায়গায়|গন্ধও ছড়ায় চতুর্দিকে|স্বার্থ রক্ষা হয় হাতেগোনা ক’জনের|স্থিরতার দৈন্য দেখা দেয় ঘরে ঘরে|মাথাচাড়া দেয় সোডা-সাবানের ব্যয়|এইসব হুল বিঁধানো বা দংশনের দুঃসংবাদউঠে এসে কানকে যন্ত্রণা দেয় যখন-তখনবা রক্তের হিসাব-নিকাশ রাখতে গিয়েসর্ষেফুল দেখে বা টেবিলে মূর্ছা খায়সংশ্লিষ্ট সকলে;আরামের স্থলে খরা বা মঙ্গায় ভুগে থাকে জাতি|তাই, কোনো বদলা নয়, বদলটা কাম্য হওয়া চাই|তাহলেই মাতৃভূমি দেখে একদিনসটান দাঁড়িয়ে যাবে অনেকের চোখ|সীমা অতিক্রম করে বাইরে থেকেও তুমুল বেগে উঠে আসবেবুক চওড়া হয়ে যাওয়ার সহস্র গল্প-কাহিনী বা মূল্যায়ন| সুঁইভাঙা স্মৃতিসুমন ইসলামপ্রিয়তমাসুতোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার সুবাসিত ঘাসফুলগুলো আমার শরীরে জড়িয়ে রাখে—তবু যেনো রঙবেরঙ সুতার সুঁই ভেঙে যায় নকশার উপমা থেকেযখন নিজের মনন উদ্বাস্তু হয়ে উঠে|মুছে যাচ্ছে মুখাবয়ব- জলে আঁকা সর্পিল চলন|তার চোখের অতলে ভেসে ওঠা রূপালি মাছগুলোর ছায়াও মুছে যায়|ধানসিঁড়ি ভোরে,মানসপটে আঁকা নারকেল গাছটি দুলে ওঠে—এক ধ্যানমগ্ন আত্মার প্রার্থনায়|প্রিয়তমাসু,তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার উঞ্চতায়আর লক্ষীপেঁচার নেই প্রাণসঞ্চার—ভয়ঙ্কর সিঁধেল চোর মুখগুজে আছে অন্ধকোণে!তারা আঁচলের সীমান্ত জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিঃশব্দ বিভ্রম লেপে দেয়- যেমন পিঁপড়ার গণহিংসা,ছিড়ে ফেলে কাপড়ের বুননচিত্র|পোষা পাখিগুলো উড়ে গেছে—রেখে গেছে তার দুই-একটি শৈল্পিক কল্পনার পালক,লতাপাতা ছড়িয়ে যা ছিলো তাও নিশ্চুপ—আর শিকড়ের সন্ধানে এগুতে পারেনি|কী আশ্চর্য! মলিন হলে নিঃসরণ ছড়ায়—তা তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার ভাঁজ খুললে বুঝতে পারি|ভাঙনের সুরমোর্শেদা মৌভাঙনের সুরে বুক কাঁপে থরথরদুরন্ত হাওয়া আর ভারী কালো মেঘ,লড়াই চলে আত্মাবন্দী পাখির মতোছটফট করে হাওয়ার ঘূর্ণিপাকে|ভীতিবিহ্বল অনুচ্চারিত শব্দপুঞ্জ-সীমাহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত|ক্রমশ জটিলতায় অদৃশ্য হয়ে যাইআতঙ্ক আর শিহরনে অস্তিত্ব সংকট,তীব্র দহনেও অন্তর্ময় তীক্ষ্ণ সংরাগতবু বাকরুদ্ধ কণ্ঠ, ছাইচাপা আর্তনাদ|শুক্রবারএহসানুল ইয়াসিনদীর্ঘ খরায় তীব্র চাওয়ার মতোআমি কেবল অপেক্ষা করিদূরগ্রাম থেকে ভেসে আসেভরাট কণ্ঠে অমোঘ ঘোষণা!কার ঘর পড়ে গেল ঝড়েকে আহত ডানা ঝাপটায়কে গেল চিরদিনের পথে?আমি তোমার জন্য দাঁড়িয়েবুকের ভেতর নদীর কলতানএত শূন্যতায় অপেক্ষা যেসবুজ ছড়ায় বুঝিনি আগে|পৃথিবীর পথে পথেপায়ের ধুলো—ছাপচিত্রতালপাতায় লেখা ইতিহাসআমাদের উত্থান পতন|রাত জাগে নিশাচর পাখিকত বেদনা তোমার হয়েনিঃশব্দে ডেকে আনে ভোর|কে রাখে কার খবর?সময় বড় নিষ্ঠুর—আগুনের দাহনিজে পুড়ে বাতাসে ছড়ায় প্রবাহযদি কোনদিন উত্তাপ আসেবুঝবে কি আজ ছিল হাটবার?সন্ধ্যা নামে গভীর অন্ধকারকোলাহল শেষে তোমার হয়েপরে থাকে শুক্রবার|আহা আমার শুক্রবার!খরস্রোতা চোখসাইয়্যিদ মঞ্জুবিদায় দিও না, তুমিও নিও না...জানি—অনুভবের তীব্রতা একান্ত আমার নয়!বুকজুড়ে হাহাকার, খরস্রোতা আমাজন চোখেবেশিদিন কাঁদবো না, তুমিও না...সচরাচর নেপথ্যে এই অনুভব, কেনগভীর যে প্রেম আগায় না অনাগত জীবনের দিকে|তোমার মতোন এতটা ভালোবাসবে বল কেউ!বিদায় দিও না, তুমিও নিও নাঋতু ভেঙে—জলের চরিত্র হবো, ব্যথাশূন্য কোনো নদী...নৈর্ব্যক্তিকতাহিতি ফারজানাতুমি যখন একটা মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকোঅথচ বুঝতে পারো না সে সুখী না দুঃখীউদাসীনতা তাকে ঢেকে রাখে আপাদমস্তক|তুমি যখন তাকে চাও আযানের আহ্বান এর ভেতরঅথচ জানো না সে কী চায়, আদৌ চায় কিনা|তোমার ভালোবাসা তার ঔদাসীন্যকে গাঢ় করে তোলেতুমি শিখে নাও ক্ষত ও ক্ষতি, ভালোবাসাহীনতা!আজন্ম কলি সে, আলো-হাওয়ায় আদরে ফোটার আগেইঅধৈর্য তুমি হারাও তাকে আত্মা ও শরীরে মিশিয়ে|মুছে যায় সে সমর্পণের আগে, প্রার্থনায় ধরো আবার|তুমি যখন তাকে চাও, নিজেকে হারাতে থাকো—যখন নিজেকে চাও, তখন কিছুই চাও না আসলে|| কলাতীর্থশাহান সাহাবুদ্দিনজ্যামিতিক সজ্জা ও পুষ্পিত ˆশলীবোঝা ভাস্করের কাজ—অপ্সরা, সুরসুন্দরীর সংজ্ঞাওজানা হয়নি আমার| খাজুরাহো মন্দিরের দেয়ালে উৎকীর্ণঅনুপম ভঙ্গিমার শ্রীমন্ত রমণীদের বিভব,নানা ভঙ্গির বাঁকুভাঁজ,সুন্দরের লীলায়িত মানবী-কান্তিরসূক্ষ্ম কারুকাজ—যুগপৎ তুমি একাই ধারণ করে আছোজেনে গৌরব ও স্পর্ধায়তোমার ভাস্করকে জানাইস্যালুট, নমস্কার|সারল্য, আবেগ, যৌনতাও সুন্দরের আদি নিবাস তুমি|শ্লীলুঅশ্লীল নিয়েবাদানুবাদ চলুক পণ্ডিত ও যাজকে|আমি তার্কিক নই, যাজকও নই—আমি সুন্দরের পূজারি|তুমিই আমার কলাতীর্থ,দুরূহ শিল্পুভাস্কর্যভাণ্ডার| ব্ল্যাক ম্যাটারশেখর দেবপড়ার টেবিলে বসে ঘুম চলে আসেবিছানায় গিয়ে দেখি কোথায় হারালো নিদ্রা দেবীঅথবা ঘুমের মাঝে স্লিপ খেয়ে পড়ে যেতে যেতেযে কবিতাটা মাথায় এসেছিলঘুম থেকে উঠে তার বাক্য শব্দ আর অবশিষ্ট নাই|জেগে জেগে যে স্বপ্নগুলো দেখেছিতারা প্রলম্বিত কোন দিগন্ত রেখায় উঁকি দিয়ে আছে|আমাদের দিন রাতকে প্রার্থনা করতে চায় নাঅথবা রাতেরা ভোর, চায় শুধু এক রৈখিক যাপন!অথচ আমারা চাই শীতকাল চলে যাকগ্রীষ্মকালও, বসন্ত শুধু থেকে যাক|ঋতুরা সমুদ্রের সন্তান, আমরা জানি নাপ্রশান্তের জল কখনো কি আটলান্টিকে পড়েছে?অথবা চাঁদ ও সূর্য কি ব্ল্যাক ম্যাটার চুষে নিয়েনিজের মৃত্যুর পথ তৈরি করছে নিয়ত!মানুষ যেভাবে ধীরে এগিয়ে যাবার নামেএকদিন সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ঢুকে পড়ে গোরে!বসন্তের নিয়তিআদ্যনাথ ঘোষআঁধারে চাদর ঢেকে ফেটে পড়ে বসন্ত মাঠ|যে মাঠ দিনের শরীরখুঁড়ে আগুনের নিঃশ্বাস খুঁজেচোখের কোণে ঝুলে থাকে নিয়তির খোলা খাম হয়ে|অচেনা গাছেও কি তারা বসন্ত চাঁদের মতন!নাকি গোপন হাওয়ার একগুচ্ছ আকাশ নিয়ে বসে থাকে চাবি নিয়ে অপেক্ষার নিশ্বাস জুড়ে| যে চাবি দিনরাত আলাপ ছাড়াই মানুষের মহল্লা খোঁজে, কপালের তিলকের মতোন|আরে ও বসন্ত বাউল! কতটুকু দূরত্ব হলেআঁধারেও আলো ফোটে নিয়তির বিপরীত পাড়ায়|ধোঁকার মাটিখুঁড়ে উঠে আসে কোনো এক গোপন নকশায়|নতুন গন্ধ নিয়ে চোখের কোণেও ঢলে পড়ে বসন্ত কাজল|শেষ অন্ত্যমিলমেহনাজ মুস্তারিনএইতো তোমার চিন্তার পাশে ষোড়শী বালিকার মতো সারাদিনস্থির চোখে দেখছো সারস পাখির ঠোঁটে উষ্ণ আর্তিতীব্র আবেগ নেমে গেলে ঝুরো বৃষ্টি নিরবতা ভেঙে এন্ট্রিনার সংকেতের অপেক্ষায় বসে থাকেছোট্ট নদী পশ্চিম দিকে যেতেই বেলা পড়েবুকের বাঁকে আচ্ছন্ন হয় ঐকান্তিক প্রেমকোমল হাসির বর্ণময় সুখচ্ছবিফুটন্ত জলে তখন একরাশ বিস্ময়সূর্যাস্তের শেষ অন্ত্যমিল ধরে রাখার প্রবল ইচ্ছে যদি ছুঁয়ে যায় পৃষ্ঠার শেষ অংশতবে নির্জনতা ভেঙে একবার সেতু হীন নদী হেঁটে যাব মানবিক দহনমাসুমুর রহমান মাসুদপ্রজ্বলিত অনলের দহনে পোড়াও এমন ভাবেযেন শিরা-উপশিরায় রুধিরধারা প্রবাহিত না হয়একবিন্দু শোণিত জ্যান্ত থাকলে তার অনন্ত গহিনেউঁকিঝুঁকি মারবে ‘‘ভালোবাসি’’ অমোঘ শব্দঅন্যথায় অপঘাতে মৃত্যুর স্বাদ দিও, যাতেদেহকায়ার একটা কোষও বেঁচে না থাকেমাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিজেন সরবরাহবন্ধ করে দিও, না যেন হয় শক্তি উৎপাদন!একক কোষ জীবিত থাকলেও সে বলে উঠবেআমি মানবের একান্ত ভালোবাসা চাইমানবিকতা আমার সাধারণ ধর্মগুণতোমাদের অনর্গল বারুদ আর বোমা ঝড়েএত যে নিষ্পাপ শিশু স্বর্গে করুণ আর্তনাদ করেআমি তাদের ভালোবাসি সীমাহীন মায়ার চাদরেপ্রতিটি মৃত্যু একেকটি নক্ষত্রের পতনসমছায়াপথ আলোশূন্য করে তোমরা যে পাপে মত্ততার নির্মম প্রতিশোধ নিতে না পারলেধরায় অহেতুক হবে আমার আগমন| দিনাজপুরউম্মে হাবীবাব্যাগ ভর্তি চিঠি নিয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে প্রতিটি মানুষের মুখই দিনাজপুর|শীতকাল যেখানে আগেভাগে চলে আসে| পিঁয়াজ কলি ছিঁড়ে বাসিভাত মাখানো সকালে কারো কারো জুতো হারিয়ে যায়| খালি পা নিয়ে লোকেদের সামনে গেলে এমন করে কথা বলে| যেনো প্রত্যেক শব্দের শেষে একটা ছিঃ জুড়ে দেয়া| বুঝে নিতে হয় সংখ্যালঘু মানে যার পায়ে আজীবন কোনো জুতো মানায় না|