সংবাদ

কবিতা

এ সপ্তাহের কবিতা

বাতিঘরে পূর্ণিমাপ্রাণজি বসাক কোথাও কি জড়িয়ে থাকল এই নীলাভ মেঘদরজা খোলা পেয়ে ঢোকে রশ্মি অনুগত প্রশ্রয়েতার চোখেমুখে লেপ্টে থাকা অজস্র প্রশ্নের স্রোতএক এক করে বসতে দাও  উত্তর দেবে তুমি সবারটুকরো মেঘ সরে গেছে নীল আকাশে উড়ছে প্রেমবাতিঘরের আলো কতটা দূর থেকে দেখা যায়সে কথা অভিজ্ঞ নাবিক জানে  জানে তট কতদূরেমেঘে ঢাকা পড়েছে ধ্রুবতারা বাতিঘরের আলো সম্বলসুচারু পথ বেছে নেয় ধূর্ত নাবিক সে চেনে ঢেউয়ের নৃত্যউদ্বেলিত পূর্ণিমার চাঁদ ডেকে নেয় কাছে ঝড় ওঠে বাতাসে সহজ কবিতাপুলক হাসানশরতের ধ্যানমগ্ন আকাশের মতো তোমার স্থিরতাপ্রকাশ করে যে এক ধরনের কাতরতাআমি তার মধ্যেই দেখিশান্ত পুকুরে শাপলা ফুলের মতো ফুটে উঠেছে আমার কবিতা।আমি অনুভব করি শব্দের চেয়ে ভারি নৈঃশব্দ্যঅনুভব করি ঋষির আত্মমগ্নতাকী বিপুলআমাকে খলপাখির নিশানা থেকে রাখে দূরেমৌনতার ভেতরে।তবে এটা নয় শুধু সুন্দরের বার্তাবরং অস্থির পৃথিবীর  জ্যোৎস্না থেকে আলাদাকঠিনের ভেতর একটুকরো কোমলতা।যার সঙ্গে তুলনা হতে পারে চাঁদেরযার সঙ্গে তুলনা হতে পারে মৃদুমন্দ তটিনীরনইলে তোমার প্রেমে কেন বাঁধব নীড়? প্রকৃতিভাষাপারভেজ আহসানরূপের বদল:ফলভারে নোয়ানো গাছ,ঝিঁঝিঁ পোকা ভাঙে ঘুমন্ত দুপুর,মৌ মৌ ঘ্রাণ।হাওর ভরা জল,কেরাই নাওয়ে নাইওর,‘বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকার’।নদীর কিনার সাদার বাহার,ছাতিমগন্ধে মাতাল রাতশিউলিঝরা সকাল।পাতার পতনজমিনে সোনার চাদর,ঘাসে মুক্তোদানা।কুয়াশার কুহক,কোমল রোদ্দুর,ধ্যানমগ্ন বক।রঙের প্রস্ফুটন,কুহুতান,‘মাতাল সমীরণ’।মানুষ শেখে প্রকৃতির ভাষা—চোখে ফোটে ভোর,মুখে মেঘের ছায়া;চৈত্রের রুক্ষতা।  ঠিকানারাফেয়া আবেদীনআমাকে দাও নৈঃশব্দ্য, নির্জন রাত্রিআঁধার উন্মোচনে আমার চেতনার রহস্যস্খলিত পুনর্জন্মে কেঁদে উঠুক।আমাকে দাও নৈসর্গিক প্রেম, অন্তিত্বের বিলাপবিমূঢ় স্বপ্নের বন্ধন ছিন্ন করে চলে যাওয়াদূর মেঘের প্রাচুর্যে।জেনে গেছি নিস্তব্ধতাই আমার আধারচেতনার মৃত মাংস-মেদ-অহঙ্কারচূর্ণবিচূর্ণ পরস্পর প্রেমের ছায়াপ্রতিচ্ছায়া।কতদিন হলো নিস্তরঙ্গ সময়ের বীভৎস চিৎকারহাড়ের ভেতর খেলা করে বিষরক্ত ছড়িয়েএমন ঋতুর শূন্যতায় কতকাল হেঁটেছিগোধূলিধূলির দিকচিহ্নহীন সড়কে? নদী ও নারীফারুক ফয়সলনদীকে ভাবতে গেলেচোখের সামনে ভেসে ওঠে নারী‘নদী ও নারী’ যমজ বোন যেন, এক জঠরে বেড়ে ওঠা!সমান্তরালে চলা তাদের,দুজনেরই আছে বেগ ও আবেগদুইয়ের জীবনই বয়ে চলা নিরবধিছন্দের ও ছন্দ পতনের,চলার পথ বড় অমসৃণ, শত বাঁকে গতি-ফেরা!ভাঙা-গড়া নিয়ত দুইয়েরই নিয়তি,এ পাড়ে ভাঙ্গার খেলা, ওকূলে তখন গড়ানদীর পাড় ভাঙে তো, নারীর হৃদয় চুরমার!সূর্যের মতো তেজ, আর ধরিত্রীর মতো ধৈর্য ধারণনারী ধরে এক অঙ্গে কতো রূপের ছটানদীর বুকেও জোয়ার ভাটা,দিবারাতি বৈঠার ঘা, জলতোলা, ময়লা ঢালামানুষের পাপ, খেদ, ক্লেদ, সকলই সে নেয় গতরেনারীও ধরে সংসারের শত গ্লানি, অপমানের বোঝাসব সয়ে নিজে ক্ষয়ে, স্বামী-সন্তানের সুখ খোঁজা!রজঃস্বলা নারীও তো বয়সে এসে রজঃনিবৃত্তিতে বাঁধা,প্রমত্তা যৌবন ফুরিয়ে নদীও স্তিমিত, গতি-হারা, হাজা-মজা!উন্মূল পালকরাহমান ওয়াহিদস্থির হয়ে বস একটুখানিমুখোমুখি হই, কথা বলিখানিক বোঝাপড়া হোক;তুমুল তক্কাতক্কি হোকমন ছেঁড়াছিঁড়িও হয় যদি, হোক। তবু বস,  চোখে তোমার রাঙা চোখটি রাখোধূসর খোপার বাঁধনটি খোল হেঁসেলের গন্ধটা গা থেকে সরাওধনে পাতার স্বাদু আচারটা আজ আর নাইবা হলো। কথা বলি;ধূপছায়া আড়ালটা ছিঁড়ে ফেলে দেখি—আমরা আসলে কী খেলায় মজেছি,         কোন্ রসায়নে আমাদের সাবধানী হিসেবগুলো সাতারু হাঁসেরউন্মূল পালক হলো। চিন চিন ব্যথা হয়মাহবুবা ফারুকঘর থেকে দু’পা বের হয়ে যদি দেখি শিশুদের হাসিনির্ভয়ে আনন্দে খেলাধুলা করে কাটায় বেলামনে পড়ে সেই মাছ বাজারের মিন্তির কথাচা দোকানের বাসনধোয়া শুকনো দুটো হাতের কথাযারা রোজ অমূল্য শৈশব বিক্রি করে কম দামেলোভী ও প্রতারকের কাছে অসহায়ত্বের দায়েদারিদ্র্য-যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার সব অধিকারতাদের ভেবে বুকের বামে চিন চিন ব্যথা হয়।যদি দেখি নারী নিশ্চিন্তে চলে মানুষের মতোমানুষের সমান মূল্যে কাটায় জীবনচলনবলনের বিভিন্ন ভয় ফেলে দিয়েছে দূরেআনন্দ হয়, সম্মান জানাই তাকেতার সাহস ঋণ নিতে ইচ্ছে করেতখন মনে পড়ে খুব মহাজন বাড়ির সেইএঁটোবাসী খেয়ে খুশি থাকা মেয়েটার কথাসম্পন্ন বৃদ্ধের কিশোরী তৃতীয় বউটির কথাতখন বুকে চিন চিন ব্যথা হয়।অহর্নিশ পতনরত ওই বিশাল জলরাশিযদি পৃথিবীর কান্না হয়ে থাকেতাহলে আমি এক ফোঁটা জল নেবার জন্যেতার সামনে হাঁটু মুড়ে হাত পেতে বসতে চাইমাটিতে পা ফেলেই দেখেছি ধ্বংসের লীলাখেলাঅকৃতজ্ঞদের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বার্থপরতাজন্মের ঋণ ভুলে করছে মৃত্যুর উল্লাসআমার নগণ্য জীবনের এত দুঃখ যদি তাহলেবিশ্বের ভাঁজে ভাঁজে জমেছে কত বেদনার ভারমানুষ ছড়িয়েছে যুদ্ধ মানুষে মানুষে যুগে যুগেপৃথিবীর জন্যে আমার বুকে চিন চিন ব্যথা হয়এই ব্যথার নিরাময় কীসে হয় খুঁজি নিরাময়। মাছরাঙার চোখরাশেদ শাহরিয়ারজলের মগ্নতা নষ্ট করেছিপ হাতে সারাক্ষণ বসে থাকেস্বপ্নসন্ধিৎসু কতিপয় মৎস্যশিকারী                   জীবনের পাশেদূরেগলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটির ওপরএকটা নিঃসঙ্গ মাছরাঙামাছরাঙার চোখ দেখে ভাবি মানুষের দৃষ্টি—তাকিয়ে আছে জীবনের দিকেবেশুমার বিষাদসোয়েব আল হাসানচোখের সামনেএক পীতবর্ণের পোকাকেপ্রকাণ্ড দীর্ঘশ্বাস গিলে খেতে দেখে,আমি আমার বেশুমার বিষাদউড়িয়ে দিলাম অন্তরীক্ষে।বিষাদ, ভেজা বাতাসে উড়ছেপিছে-পিছে ঘুরছে ঘুঘুসই আর্তনাদ।আমি হেঁটে-হেঁটে বাতাসে আঁকিহারানোর হ্যাশট্যাগ।বুকের ভেতর বিরাণ বনভূমিভনভন করছে।মনের মগজে ছুটে যাচ্ছেমোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। 

এ সপ্তাহের কবিতা