রাজধানীর রামপুরা ও শান্তিনগরসহ বেশ কিছু কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামের চিত্র যেন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ছুটির আমেজ কাটিয়ে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও বাজারের থলে হাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
বিশেষ করে সবজি ও মুরগির বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দামের যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের। ওই খুচরা বাজারগুলোতে এখন ৮০ টাকার নিচে ভালো মানের কোনো সবজি পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। করলা ও চিচিঙ্গার মতো নিত্যদিনের সবজিগুলো এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামপুরা বাজারের নিয়মিত ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। তিনি বাজারের করুণ দশা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "প্রতিবার বাজারে এসে আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। সবজির দাম এখন নাগালের বাইরে। ৮০ টাকার নিচে হাত দেওয়ার মতো কোনো সবজি নেই বাজারে। করলা আর চিচিঙ্গা কিনতে গেলে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।" তার এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বাজারের অন্যান্য সাধারণ ক্রেতাদের কণ্ঠেও।
বিক্রেতারা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আমদানির ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। রামপুরা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী শাকিল হোসেন জানান, ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসায় প্রায় প্রতি কেজি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা এবং পেঁপে ও টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও বেগুন, শিম বা পটল ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, যা এখন একলাফে ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
সবজির পাশাপাশি প্রোটিনের বাজারেও অস্বস্তি ছড়াচ্ছে মুরগির দাম। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে একলাফে অনেকটা বেড়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি মুরগির দাম। ওই সব খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর কেবল ব্রয়লার মুরগিতে, যা কিছুটা কমে ১৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম গাজী এই সংকটের নেপথ্যে খামারিদের দুরাবস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "ফিডের অতিরিক্ত খরচ আর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণে অনেক খামারি লোকসানের মুখে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামার পর্যায় থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।"

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর রামপুরা ও শান্তিনগরসহ বেশ কিছু কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামের চিত্র যেন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ছুটির আমেজ কাটিয়ে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও বাজারের থলে হাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
বিশেষ করে সবজি ও মুরগির বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দামের যে উল্লম্ফন ঘটেছে, তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের। ওই খুচরা বাজারগুলোতে এখন ৮০ টাকার নিচে ভালো মানের কোনো সবজি পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। করলা ও চিচিঙ্গার মতো নিত্যদিনের সবজিগুলো এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামপুরা বাজারের নিয়মিত ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। তিনি বাজারের করুণ দশা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "প্রতিবার বাজারে এসে আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। সবজির দাম এখন নাগালের বাইরে। ৮০ টাকার নিচে হাত দেওয়ার মতো কোনো সবজি নেই বাজারে। করলা আর চিচিঙ্গা কিনতে গেলে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।" তার এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বাজারের অন্যান্য সাধারণ ক্রেতাদের কণ্ঠেও।
বিক্রেতারা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আমদানির ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। রামপুরা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী শাকিল হোসেন জানান, ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসায় প্রায় প্রতি কেজি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা এবং পেঁপে ও টমেটো ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও বেগুন, শিম বা পটল ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, যা এখন একলাফে ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
সবজির পাশাপাশি প্রোটিনের বাজারেও অস্বস্তি ছড়াচ্ছে মুরগির দাম। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে একলাফে অনেকটা বেড়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি মুরগির দাম। ওই সব খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর কেবল ব্রয়লার মুরগিতে, যা কিছুটা কমে ১৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম গাজী এই সংকটের নেপথ্যে খামারিদের দুরাবস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "ফিডের অতিরিক্ত খরচ আর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণে অনেক খামারি লোকসানের মুখে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামার পর্যায় থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।"

আপনার মতামত লিখুন