‘নৃশংস বাংলাদেশ নয়, বরং কবি নজরুলের গান ও নাচের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখতে চাই’-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও ভালোবাসার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুন্দর দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইলের সখিপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ ঘাঁটির বিএএফ শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরে জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘কাব্য ও ছন্দে নজরুল’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি নন; তিনি বাঙালির চেতনা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি লেখনীকে হাতিয়ার করেছিলেন। তার সাহিত্যে যেমন বিদ্রোহ আছে, তেমনি আছে প্রেম ও মানবতার অমর বার্তা।’
নতুন প্রজন্মকে নজরুলের জীবনদর্শন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নজরুল ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে তাঁর মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘ভবন নির্মাণ মানেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণই প্রকৃত উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি টেকসই হবে না।’
বিএএফ শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরের ফলাফলের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৯.৯২ শতাংশ এবং ৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা অত্যন্ত গৌরবজনক। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
কলেজের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দুটি বাস এবং যাতায়াতের সড়ক প্রশস্ত ও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কবির কবিতা, গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ-এর অধিনায়ক এয়ার কমডোর মো. মাহমুদুর হাসান, বিএএফ শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মনজিলা রিজওয়ানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
আপনার মতামত লিখুন