সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কায়রোতে


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০ পিএম

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কায়রোতে

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মিসরের রাজধানী কায়রোতে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে খরচ কমাতে কায়রোর সব দোকান ও ক্যাফে আগেভাগে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা ‘ঘুমহীন শহর’ কায়রো এখন সন্ধ্যা নামলেই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে।

গত সপ্তাহ থেকে জারি করা এক মাসের এই নির্দেশনায় সপ্তাহের কার্যদিবসগুলোতে রাত ৯টা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও বড় হোটেলগুলো এই আওতার বাইরে থাকলেও ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও ক্যাফে মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। কায়রোর প্রবীণ নাগরিক আবু আলী আক্ষেপ করে বলেন, "আগে রাত ২টা পর্যন্ত আড্ডা দিতাম, এখন ১১টার আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। এটা আমাদের চেনা কায়রো না।"

প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে মিসরের মাসিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের গতি কমানো হয়েছে।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সড়কবাতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রোববার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হয়েছে।
  • মুদ্রাস্ফীতি: ডলারের বিপরীতে মিসরীয় পাউন্ডের মান রেকর্ড কমে ৫৪.৩-এ পৌঁছেছে এবং মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১৩.৬ শতাংশে।

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে বিনোদন ও পর্যটন খাত। চলচ্চিত্র প্রযোজক গ্যাবি খৌরি জানান, সিনেমা হলের আয় ৬০ শতাংশ কমে গেছে, কারণ মূল ব্যবসা হতো রাত ৯টার পরের শো-গুলোতে। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক খান এল-খলিলি বাজারের দোকানিরা বলছেন, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ করে দিলে পর্যটকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

শহরের রাস্তাঘাটে পুলিশের টহল নিশ্চিত করছে যেন কেউ নিয়ম অমান্য না করে। পোশাকের দোকানদার আলী হাগাগ বলেন, "রাস্তাঘাট এখন ফাঁকা, ঠিক ২০২০ সালের লকডাউনের মতো মনে হচ্ছে।" তবে কড়াকড়ির মধ্যেও কিছু ক্যাফে মালিক চোর-পুলিশ খেলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন—শাটার অর্ধেক নামিয়ে ভেতরে গ্রাহক বসিয়ে রাখছেন তারা।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কায়রোতে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মিসরের রাজধানী কায়রোতে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে খরচ কমাতে কায়রোর সব দোকান ও ক্যাফে আগেভাগে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা ‘ঘুমহীন শহর’ কায়রো এখন সন্ধ্যা নামলেই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে।

গত সপ্তাহ থেকে জারি করা এক মাসের এই নির্দেশনায় সপ্তাহের কার্যদিবসগুলোতে রাত ৯টা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও বড় হোটেলগুলো এই আওতার বাইরে থাকলেও ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও ক্যাফে মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। কায়রোর প্রবীণ নাগরিক আবু আলী আক্ষেপ করে বলেন, "আগে রাত ২টা পর্যন্ত আড্ডা দিতাম, এখন ১১টার আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। এটা আমাদের চেনা কায়রো না।"

প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে মিসরের মাসিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের গতি কমানো হয়েছে।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সড়কবাতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রোববার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হয়েছে।
  • মুদ্রাস্ফীতি: ডলারের বিপরীতে মিসরীয় পাউন্ডের মান রেকর্ড কমে ৫৪.৩-এ পৌঁছেছে এবং মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১৩.৬ শতাংশে।

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে বিনোদন ও পর্যটন খাত। চলচ্চিত্র প্রযোজক গ্যাবি খৌরি জানান, সিনেমা হলের আয় ৬০ শতাংশ কমে গেছে, কারণ মূল ব্যবসা হতো রাত ৯টার পরের শো-গুলোতে। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক খান এল-খলিলি বাজারের দোকানিরা বলছেন, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ করে দিলে পর্যটকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

শহরের রাস্তাঘাটে পুলিশের টহল নিশ্চিত করছে যেন কেউ নিয়ম অমান্য না করে। পোশাকের দোকানদার আলী হাগাগ বলেন, "রাস্তাঘাট এখন ফাঁকা, ঠিক ২০২০ সালের লকডাউনের মতো মনে হচ্ছে।" তবে কড়াকড়ির মধ্যেও কিছু ক্যাফে মালিক চোর-পুলিশ খেলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন—শাটার অর্ধেক নামিয়ে ভেতরে গ্রাহক বসিয়ে রাখছেন তারা।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত