জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার ১১টির মালিকই চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ। বাকি তালিকায় স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মালিকানা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের হাতে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে এ তালিকা উপস্থাপন করেন। তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির মধ্যে প্রথম পাঁচটিই এস আলম গ্রুপের।
শীর্ষে এস আলম গ্রুপ: তালিকার ১ থেকে ৫ নম্বরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেড ও সোনালী ট্রেডার্স।
এ ছাড়া তালিকার ৭ থেকে ১০ ও ১৬-১৭ নম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাও এস আলম গ্রুপের। এগুলো হলো— গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লিমিটেড ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ।
ইনফিনিট গ্রুপের মালিক এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। শেখ হাসিনার পতনের আগপর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।
তালিকায় সালমান এফ রহমান, মোর্শেদ খান: ষষ্ঠ স্থানে থাকা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও ১৯তম স্থানে থাকা বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আকাশ ডিটিএইচ)-এর মালিকানা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পরিবারের।
তালিকার ১৫তম স্থানে থাকা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) মালিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান।
সাবেক এমপি ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদেরও স্থান: তালিকার ১১তম স্থানে থাকা কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের মালিক আবদুল খালেক পাঠান। ১২তম স্থানে থাকা দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের মালিক গোলাম মোস্তফা।
১৩ ও ১৪তম স্থানে থাকা পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারার দুই পাওয়ার প্ল্যান্ট সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন। প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের দুই ছেলে রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদার এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক।
১৮তম স্থানে থাকা সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন। ২০তম স্থানে থাকা রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেডের মালিক নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির বেশির ভাগের ঋণ ইসলামী ব্যাংক ও একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে নেওয়া। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকেও এসব প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ রয়েছে।
উচ্চ খেলাপি ও টাকা ফেরত দিতে না পারায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক- এই পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
এ তালিকার ঋণখেলাপিদের কেউ এখন জেলে, কেউ পলাতক। সাধারণ ব্যাংক গ্রাহক ও জমানো টাকা জমা রাখা লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন অপেক্ষায়- কবে ফেরত আসবে তাদের টাকা।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার ১১টির মালিকই চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ। বাকি তালিকায় স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মালিকানা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের হাতে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে এ তালিকা উপস্থাপন করেন। তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির মধ্যে প্রথম পাঁচটিই এস আলম গ্রুপের।
শীর্ষে এস আলম গ্রুপ: তালিকার ১ থেকে ৫ নম্বরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেড ও সোনালী ট্রেডার্স।
এ ছাড়া তালিকার ৭ থেকে ১০ ও ১৬-১৭ নম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাও এস আলম গ্রুপের। এগুলো হলো— গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লিমিটেড ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ।
ইনফিনিট গ্রুপের মালিক এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। শেখ হাসিনার পতনের আগপর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।
তালিকায় সালমান এফ রহমান, মোর্শেদ খান: ষষ্ঠ স্থানে থাকা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও ১৯তম স্থানে থাকা বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আকাশ ডিটিএইচ)-এর মালিকানা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পরিবারের।
তালিকার ১৫তম স্থানে থাকা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) মালিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান।
সাবেক এমপি ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদেরও স্থান: তালিকার ১১তম স্থানে থাকা কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের মালিক আবদুল খালেক পাঠান। ১২তম স্থানে থাকা দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের মালিক গোলাম মোস্তফা।
১৩ ও ১৪তম স্থানে থাকা পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারার দুই পাওয়ার প্ল্যান্ট সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন। প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের দুই ছেলে রন হক সিকদার ও রিক হক সিকদার এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক।
১৮তম স্থানে থাকা সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন। ২০তম স্থানে থাকা রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেডের মালিক নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির বেশির ভাগের ঋণ ইসলামী ব্যাংক ও একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে নেওয়া। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকেও এসব প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ রয়েছে।
উচ্চ খেলাপি ও টাকা ফেরত দিতে না পারায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক- এই পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
এ তালিকার ঋণখেলাপিদের কেউ এখন জেলে, কেউ পলাতক। সাধারণ ব্যাংক গ্রাহক ও জমানো টাকা জমা রাখা লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন অপেক্ষায়- কবে ফেরত আসবে তাদের টাকা।

আপনার মতামত লিখুন