সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ও শেয়ারবাজারে চাঞ্চল্য


প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০ এএম

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ও শেয়ারবাজারে চাঞ্চল্য

দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাপিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতেই পাল্টে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির দৃশ্যপট।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে এই সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলের দামে এক অভাবনীয় ধস নেমেছে, যা গত কয়েক মাসের চরম অস্থিরতার পর বিশ্ববাসীর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির এই ইতিবাচক প্রভাবে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই চিত্র দেখা গেছে ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রেও, যার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৫ ডলারে। তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে জাপানের নিক্কেই সূচক এক লাফে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
​বিশ্ববাজারের এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস তার পর্যবেক্ষণে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাজারে স্বস্তি ফিরলেও যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করলেও এই যুদ্ধবিরতি আদতে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হোলমসের মতে, এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে কি না, তা বোঝার জন্য ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শক্তিশালী পক্ষগুলো সামনের দিনগুলোতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে পক্ষগুলোর মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান বিদ্যমান, যার ফলে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা বর্তমানে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না; বরং তারা এখনো একটি ‘অপেক্ষা করে দেখার’ (Wait and see) অবস্থানে রয়েছেন।
​আল-জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, আজকের এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আনলেও তেলের দাম এখনো গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থায়ী করতে হলে কেবল যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যুদ্ধের কালো মেঘ সরতে শুরু করায় বাজার কিছুটা চাঙা হলেও বিশ্বনেতাদের পরবর্তী কূটনৈতিক চালের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেল ও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের প্রকৃত গতিপথ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ও শেয়ারবাজারে চাঞ্চল্য

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাপিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতেই পাল্টে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির দৃশ্যপট।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে এই সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলের দামে এক অভাবনীয় ধস নেমেছে, যা গত কয়েক মাসের চরম অস্থিরতার পর বিশ্ববাসীর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির এই ইতিবাচক প্রভাবে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই চিত্র দেখা গেছে ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রেও, যার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯২.৩৫ ডলারে। তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে জাপানের নিক্কেই সূচক এক লাফে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
​বিশ্ববাজারের এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস তার পর্যবেক্ষণে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাজারে স্বস্তি ফিরলেও যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করলেও এই যুদ্ধবিরতি আদতে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হোলমসের মতে, এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে কি না, তা বোঝার জন্য ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শক্তিশালী পক্ষগুলো সামনের দিনগুলোতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে পক্ষগুলোর মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান বিদ্যমান, যার ফলে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা বর্তমানে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না; বরং তারা এখনো একটি ‘অপেক্ষা করে দেখার’ (Wait and see) অবস্থানে রয়েছেন।
​আল-জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ বলছে, আজকের এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আনলেও তেলের দাম এখনো গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থায়ী করতে হলে কেবল যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যুদ্ধের কালো মেঘ সরতে শুরু করায় বাজার কিছুটা চাঙা হলেও বিশ্বনেতাদের পরবর্তী কূটনৈতিক চালের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেল ও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের প্রকৃত গতিপথ।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত