টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক সময়ের প্রমত্তা কুচিয়া খাল এখন দখল আর দূষণে মৃতপ্রায়। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ভরাট হয়ে থাকা এই খালে পুনরায় প্রাণের স্পন্দন ফেরাতে খননকাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামে এই খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মধুপুর উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় কুচিয়া খাল দিয়ে নিয়মিত পানির প্রবাহ ছিল। খালের পানি দিয়ে চলত কৃষিকাজ, মেটানো হতো গৃহস্থালি প্রয়োজন। কিন্তু গত দুই দশকে পলি জমে ও স্থানীয়দের দখলে খালটি সরু ড্রেনে পরিণত হয়। অনেক জায়গায় খাল ভরাট করে ফসলি জমি বানানো হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিত।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর উপজেলায় ধাপে ধাপে প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর অংশ হিসেবে কুচিয়া খালের ৯৬০ মিটার এলাকা খনন করা হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে।
খাল খনন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এবং বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘এই খালটি খনন করা এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।’
ইউএনও জুবায়ের হোসেন বলেন, সারা দেশের মতো মধুপুরেও আজ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হলো। ৯৬০ মিটারের কুচিয়া খালটি খনন শেষ হলে কৃষকেরা এর সুফল পাবেন এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
আপনার মতামত লিখুন