১৬ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকায় ৭ বছরের এক শিশুকে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য অঙ্গহানি’ করার অভিযোগে ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত এবং দুই শিশুকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
ঢাকার
নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক
মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান
বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা
করেন। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: সালাহউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া,
খন্দকার ওমর ফারুক, মো.
রমজান ও সাদ্দাম। এ
ছাড়া আঠারোর কম বয়সী দুই
আসামিকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছর কারাদণ্ড।
তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় একই বিচারক শিশু
আদালতের বিচারক হিসেবে তাদের বিচার করেন।
আদালতের
বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির প্রত্যেককে
পাঁচ লাখ টাকা করে
অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে
বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর দুই শিশু
আসামিকে দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা
করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে
বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা
আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম
বা তার পরিবারকে দেওয়ার
জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। কাউসার ও নাজমা আক্তার
নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের
খালাস দিয়েছে আদালত।
আসামিদের
মধ্যে কোরবান, কাউসার ও নাজমা রায়
ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত
ছিলো। রায় শেষে কোরবানকে
সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো
হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০
সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে
আসামিরা কামরাঙ্গীচর এলাকার সাত বছরের এক
শিশুকে অপহরণ করে পাকাপুল রোডের
বেড়িবাঁধের পাশে পরিত্যক্ত একটি
ঘরে নিয়ে যায়।
তারা শিশুটিকে
ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার জন্য তার
পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এছাড়া
গলায়, বুকে ও পেটে
ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে
এবং ইট দিয়ে আঘাত
করে মাথার একদিক থেঁতলে দেয়। রাত ১০টায়ও
বাসায় না ফেরায় তার
মা চিৎকার করে খুঁজতে থাকে।
মায়ের চিৎকারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে সে
মা মা বলে জোরে
ডাকতে থাকে। পরে তাকে সেখান
থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। পরে
শিশুটির বাবা নারী ও
শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে এজাহার
হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
থানা
পুলিশের হাত ঘুরে মামলার
তদন্তভার পায় র্যাব।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১১ সালের
১৫ মে ৭জনের বিরুদ্ধে
অভিযোগপত্র এবং দুই শিশুর
বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন র্যাব-১ এর
এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন।
অভিযোগপত্রে
বলা হয়, শিশুটিকে দিয়ে
ভিক্ষা করানোর জন্য ওইভাবে তার
অঙ্গহানি করে আসামিরা। পরে
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের
বিচার শুরু হয়। মামলার
বিচার চলাকালে ২০ জনের সাক্ষ্য
শোনে আদালত। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার সাতজনকে
দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলো
ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
১৬ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকায় ৭ বছরের এক শিশুকে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার জন্য অঙ্গহানি’ করার অভিযোগে ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত এবং দুই শিশুকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
ঢাকার
নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক
মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান
বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা
করেন। আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: সালাহউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া,
খন্দকার ওমর ফারুক, মো.
রমজান ও সাদ্দাম। এ
ছাড়া আঠারোর কম বয়সী দুই
আসামিকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছর কারাদণ্ড।
তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় একই বিচারক শিশু
আদালতের বিচারক হিসেবে তাদের বিচার করেন।
আদালতের
বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির প্রত্যেককে
পাঁচ লাখ টাকা করে
অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে
বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর দুই শিশু
আসামিকে দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা
করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে
বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা
আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিম
বা তার পরিবারকে দেওয়ার
জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। কাউসার ও নাজমা আক্তার
নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের
খালাস দিয়েছে আদালত।
আসামিদের
মধ্যে কোরবান, কাউসার ও নাজমা রায়
ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত
ছিলো। রায় শেষে কোরবানকে
সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো
হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০
সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে
আসামিরা কামরাঙ্গীচর এলাকার সাত বছরের এক
শিশুকে অপহরণ করে পাকাপুল রোডের
বেড়িবাঁধের পাশে পরিত্যক্ত একটি
ঘরে নিয়ে যায়।
তারা শিশুটিকে
ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার জন্য তার
পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এছাড়া
গলায়, বুকে ও পেটে
ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে
এবং ইট দিয়ে আঘাত
করে মাথার একদিক থেঁতলে দেয়। রাত ১০টায়ও
বাসায় না ফেরায় তার
মা চিৎকার করে খুঁজতে থাকে।
মায়ের চিৎকারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে সে
মা মা বলে জোরে
ডাকতে থাকে। পরে তাকে সেখান
থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। পরে
শিশুটির বাবা নারী ও
শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে এজাহার
হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
থানা
পুলিশের হাত ঘুরে মামলার
তদন্তভার পায় র্যাব।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১১ সালের
১৫ মে ৭জনের বিরুদ্ধে
অভিযোগপত্র এবং দুই শিশুর
বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন র্যাব-১ এর
এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন।
অভিযোগপত্রে
বলা হয়, শিশুটিকে দিয়ে
ভিক্ষা করানোর জন্য ওইভাবে তার
অঙ্গহানি করে আসামিরা। পরে
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের
বিচার শুরু হয়। মামলার
বিচার চলাকালে ২০ জনের সাক্ষ্য
শোনে আদালত। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার সাতজনকে
দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলো
ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন