রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা।
দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও ঘটনার নির্দেশদাতা ও অন্যান্য আসামিদের ‘লঘু দণ্ড’ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। এদিন ক্যাম্পাসে কোনো আনন্দ মিছিল হয়নি।
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হলেও যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই পুলিশ কমিশনার ও ডিসিদের মাত্র ৫ থেকে ৭ বছরের সাজা হয়েছে। আমি আশা করেছিলাম তাদেরও ফাঁসি হবে। ঘটনার আগে আবু সাঈদকে মারধর করা ছাত্রলীগ নেতাদেরও লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায্য বিচার পাইনি।’
একইভাবে হতাশা প্রকাশ করে মা মনোয়ারা বেগম বলেন, বড় অপরাধীরা কম সাজা পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি দ্রুত সাজা কার্যকর করার দাবি জানান।
সহযোদ্ধা শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে যেভাবে গুলি করা হয়েছিল, সেই হুকুমদাতাদের সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় তারা হতবাক।
শিক্ষার্থী সুমন ও আশিক বলেন, ‘আমরা হুকুমদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের ফাঁসি চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের নামমাত্র সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় জুলাই আন্দোলনের মহান নেতার প্রতি অসম্মানজনক।’
আরেক শিক্ষার্থী আতিক অভিযোগ করেন, আবু সাঈদকে গুলি করার আগে বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়াসহ অন্যরা তাকে মারধর ও গলা চিপে ধরেছিলেন। তাদেরও ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী রায়কে স্বাগত জানালেও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার আগে রায় পর্যালোচনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীরা উপযুক্ত সাজা পেয়েছে কি না, তা তার পরিবার ও সহযোদ্ধারাই ভালো বলতে পারবেন।’
আপনার মতামত লিখুন