লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ বন্ধ এবং কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপে অংশ নেবে না ইরান। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে তেহরান তাদের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে,
ইরানি আলোচক দল এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে
জানিয়েছে যে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনার
টেবিলে ফিরবে না।
এর আগে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ দাবি করেছিল যে, একটি
ইরানি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন,
যেকোনো আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর—বিশেষ করে
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের
একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পাকিস্তান এতে মধ্যস্থতা করছিল, কিন্তু লেবাননে
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, ইসরায়েল ও লেবানন
এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে
শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩৯ জনে। আহত হয়েছেন
সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক
পরেই। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলের ১০০টি বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন
নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ভয়াবহ হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে
আখ্যা দিয়েছে রেডক্রস সোসাইটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক
এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার ভাগ্য এখন লেবানন ফ্রন্টের পরিস্থিতির
ওপর ঝুলে আছে। লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ বন্ধ এবং কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপে অংশ নেবে না ইরান। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে তেহরান তাদের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে,
ইরানি আলোচক দল এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে
জানিয়েছে যে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনার
টেবিলে ফিরবে না।
এর আগে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ দাবি করেছিল যে, একটি
ইরানি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন,
যেকোনো আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর—বিশেষ করে
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের
একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পাকিস্তান এতে মধ্যস্থতা করছিল, কিন্তু লেবাননে
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, ইসরায়েল ও লেবানন
এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে
শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩৯ জনে। আহত হয়েছেন
সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক
পরেই। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলের ১০০টি বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন
নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ভয়াবহ হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে
আখ্যা দিয়েছে রেডক্রস সোসাইটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক
এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার ভাগ্য এখন লেবানন ফ্রন্টের পরিস্থিতির
ওপর ঝুলে আছে। লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন