সংবাদ

প্রবাস

নাহিদারও বেঁচে থাকার আশা নেই

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবরে প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে এলাকার একটি সেতু থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়েও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছে মার্কিন পুলিশ। যদিও এখন পর্যন্ত নাহিদার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশ তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছে।রক্তাক্ত অ্যাপার্টমেন্ট ও পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্যবিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ঢাকায় অবস্থান করছেন। বোনকে হারানোর শঙ্কায় শোকবিহ্বল জাহিদ জানান, “পুলিশ এখনো নাহিদার মরদেহ খুঁজে পায়নি। তবে সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা দেখে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে নাহিদা আর বেঁচে নেই। শনিবার ভোরে আমাদের ফোনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”পিএইচডি করতে যাওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। এর আগে শুক্রবার জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানায়নি প্রশাসন।রুমমেট হিশাম গ্রেফতার ও লোমহর্ষক অপরাধের বিবরণএই নৃশংস ঘটনায় জামিল লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, মরদেহ গুম, প্রমাণ নষ্ট এবং হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের চিফ ডেপুটি জোসেফ মাওরার জানিয়েছেন, “২৪ এপ্রিল সকালে আমরা একটি পারিবারিক সহিংসতার খবর পাই। সোয়াট টিম ও নেগোশিয়েটরদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর হিশাম আত্মসমর্পণ করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়।”সহিংস ইতিহাস ও নিখোঁজ বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশিতদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অভিযুক্ত হিশাম আগে থেকেই অপরাধপ্রবণ ছিলো। তার বিরুদ্ধে চুরি ও পারিবারিক সহিংসতার পুরনো রেকর্ড রয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নাহিদা বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে সেতুর আশপাশে ডুবুরি দল ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। ১৬ এপ্রিলের পর থেকে নিখোঁজ এই দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এভাবেই থমকে গেল প্রবাসের মাটিতে। নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জামিল ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পিএইচডি করছিলেন। বর্তমানে ‘ঘাতক’ হিশাম পুলিশি হেফাজতে থাকলেও এখনো উদ্ধার হয়নি বৃষ্টি।

নাহিদারও বেঁচে থাকার আশা নেই