ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসউদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে ঝিনাইদহের নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. নোমান হোসেনকে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে আব্দুল্লাহ আল মাসউদকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
অন্য এক আদেশে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. নোমান হোসেনকে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ওই অডিওতে ইউএনও হোসনে আরা স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করা হয়েছে।
অডিওতে ইউএনওকে আরও বলতে শোনা যায়, জেলা প্রশাসক তাকে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিকভাবে নানাভাবে হেনস্তা করেছেন। এমনকি তার অসুস্থ দুই সন্তানসহ তাকে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করতে চাপ সৃষ্টি করেন। ওই অডিওতে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চারিত্রিক স্খলনেরও নানা অভিযোগ করেন ইউএনও।
এর আগে ওই ইউএনওকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল। তবে অডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে পুনরায় বদলি করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
ইউএনওর অভিযোগ এবং অডিও ক্লিপ নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আপনার মতামত লিখুন