সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম মেরামতে অর্থ আত্মসাৎ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম মেরামতে অর্থ আত্মসাৎ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের (অধিবেশন হল) সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের নামে অনিয়ম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দুদকের কাছে সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিতএসআইএসসিস্টেম পরিচালনা, মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগটি কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।

জানা গেছে, তিনি সাবেক চিফ হুইপ নূর--আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) ঘনিষ্ঠজন বা ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আত্মীয়।

দুদক জানায়, বিদায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। রেকর্ডপত্র পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলেরএসআইএসসিস্টেম পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কাজের আড়ালেওভার ইনভয়েসিংবা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও একই কৌশলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এর মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদফতর।

সে সময় জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটি পরীক্ষা করে মেরামতের সক্ষমতা থাকার দাবি জানিয়ে একটি প্রাক্কলন জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শুধু সিস্টেম পরীক্ষার জন্য প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন সম্মানি বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি পুরো সিস্টেম মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার উচ্চমূল্যের প্রাক্কলনও দেওয়া হয়েছিলো।

দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অনুসন্ধান কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে চার ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত সংস্কারের কার্যাদেশ টেন্ডার সংক্রান্ত সব রেকর্ড। মালামাল ক্রয়ের চাহিদাপত্র, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজার যাচাই প্রতিবেদন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশন, বিল পরিশোধের ভাউচার, স্টক রেজিস্টার, নোটশিট নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র।

এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নাম, পদবি বর্তমান ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্যও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল কী না এবং কীভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


সংসদের সাউন্ড সিস্টেম মেরামতে অর্থ আত্মসাৎ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলের (অধিবেশন হল) সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের নামে অনিয়ম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দুদকের কাছে সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিতএসআইএসসিস্টেম পরিচালনা, মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগটি কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।

জানা গেছে, তিনি সাবেক চিফ হুইপ নূর--আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) ঘনিষ্ঠজন বা ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আত্মীয়।

দুদক জানায়, বিদায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। রেকর্ডপত্র পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাহিদুর রহিম জোয়ারদার দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলেরএসআইএসসিস্টেম পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন কাজের আড়ালেওভার ইনভয়েসিংবা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও একই কৌশলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এর মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদফতর।

সে সময় জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটি পরীক্ষা করে মেরামতের সক্ষমতা থাকার দাবি জানিয়ে একটি প্রাক্কলন জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শুধু সিস্টেম পরীক্ষার জন্য প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন সম্মানি বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি পুরো সিস্টেম মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার উচ্চমূল্যের প্রাক্কলনও দেওয়া হয়েছিলো।

দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অনুসন্ধান কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে চার ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত সংস্কারের কার্যাদেশ টেন্ডার সংক্রান্ত সব রেকর্ড। মালামাল ক্রয়ের চাহিদাপত্র, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজার যাচাই প্রতিবেদন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশন, বিল পরিশোধের ভাউচার, স্টক রেজিস্টার, নোটশিট নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র।

এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নাম, পদবি বর্তমান ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্যও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল কী না এবং কীভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত