সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সাটুরিয়ার অনন্য নারী জনপ্রতিনিধি

‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর’


মো. লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ
মো. লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর’
সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের নারী জনপ্রতিনিধি ধলা ভুরু। ছবি: প্রতিনিধি

পল্লীকবি জসীম উদদীনের ‘প্রতিদান’ কবিতার সেই চিরন্তন লাইন- “আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর।” মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের এক নারী জনপ্রতিনিধির জীবন যেন এই কবিতারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

নাম ধলা ভুরু। হরগজ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য। যিনি দিনরাত ছুটে বেড়ান মানুষের সেবায়। যার হাত ধরে অনেকে পেয়েছেন সরকারি সহায়তা, পেয়েছেন সান্ত্বনা। কিন্তু সেই ধলা ভুরুর নিজের ঘরটির অবস্থা দেখলে পাথরও গলে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলা ভুরুর ঘরটি জরাজীর্ণ টিনশেড। চালের ওপর অসংখ্য ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। বিছানা, আসবাবপত্র ভিজে যায়। বর্ষার রাতে পলিথিন টাঙিয়ে, কিংবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কাটে তার রাত। আর এই ঘর নিয়েই তার লড়াই। লড়াই শুধু প্রকৃতির সঙ্গেই নয়, জীবনেও।

ধলা ভুরুর গলায় যখন কষ্টের সুর, চোখেমুখে তখন বিষাদের ছাপ। তিনি বলেন, “আমি ভোটে জিতে এসেছি মানুষের সেবা করতে। চেষ্টা করি কারো যেন কষ্ট না হয়। কিন্তু আমার নিজের ঘরখানার অবস্থা খুব খারাপ। একটু বৃষ্টি হলেই সব ভিজে যায়।” একটু থেমে তিনি যুক্ত করেন, “এই ঘর দেখেই আমার ছেলের বউ চলে গেছে। বলেছে, এ ঘরে থাকতে পারবে না।”

এক নারীর জন্য ঘর মানে শুধু চার দেওয়াল নয়- আশ্রয়, নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদার জায়গা। ধলা ভুরুর কাছ থেকে সেটিও যেন কেড়ে নিয়েছে জীবন। অন্যের দুঃখে যার মন ভাঙলেও নিজের ভাঙা ঘর জোড়া লাগে না।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধলা ভুরু অত্যন্ত সাদামনের মানুষ। এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের পাশে তিনি সবার আগে দাঁড়ান। সরকারি অনুদান হোক বা ব্যক্তিগত সহযোগিতা- স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার কোনো কমতি নেই তার।

কিন্তু যে হাতে অন্যের ঘর বাঁধেন, সেই হাত দিয়ে নিজের ঘর বাঁধতে পারেন না। সরকারি সহায়তায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এলাকার সচেতন মহলের অভিমত, যিনি দিনরাত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন, তার এমন মানবেতর জীবন অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে তাকে একটি সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সাটুরিয়ার এই ত্যাগী জনপ্রতিনিধি কি পাবেন একটি নিরাপদ আশ্রয়?এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে হরগজ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। আর অপেক্ষা- প্রশাসনের কাছে, যেন পল্লীকবির সে লাইনটিই সত্যি হয়- “তবু আমি বাঁধি তার ঘর”। যে ঘর বাঁধেন অন্যের জন্য, তার ঘরও যেন বাঁধে কেউ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর’

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পল্লীকবি জসীম উদদীনের ‘প্রতিদান’ কবিতার সেই চিরন্তন লাইন- “আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর।” মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের এক নারী জনপ্রতিনিধির জীবন যেন এই কবিতারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

নাম ধলা ভুরু। হরগজ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য। যিনি দিনরাত ছুটে বেড়ান মানুষের সেবায়। যার হাত ধরে অনেকে পেয়েছেন সরকারি সহায়তা, পেয়েছেন সান্ত্বনা। কিন্তু সেই ধলা ভুরুর নিজের ঘরটির অবস্থা দেখলে পাথরও গলে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলা ভুরুর ঘরটি জরাজীর্ণ টিনশেড। চালের ওপর অসংখ্য ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। বিছানা, আসবাবপত্র ভিজে যায়। বর্ষার রাতে পলিথিন টাঙিয়ে, কিংবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কাটে তার রাত। আর এই ঘর নিয়েই তার লড়াই। লড়াই শুধু প্রকৃতির সঙ্গেই নয়, জীবনেও।

ধলা ভুরুর গলায় যখন কষ্টের সুর, চোখেমুখে তখন বিষাদের ছাপ। তিনি বলেন, “আমি ভোটে জিতে এসেছি মানুষের সেবা করতে। চেষ্টা করি কারো যেন কষ্ট না হয়। কিন্তু আমার নিজের ঘরখানার অবস্থা খুব খারাপ। একটু বৃষ্টি হলেই সব ভিজে যায়।” একটু থেমে তিনি যুক্ত করেন, “এই ঘর দেখেই আমার ছেলের বউ চলে গেছে। বলেছে, এ ঘরে থাকতে পারবে না।”

এক নারীর জন্য ঘর মানে শুধু চার দেওয়াল নয়- আশ্রয়, নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদার জায়গা। ধলা ভুরুর কাছ থেকে সেটিও যেন কেড়ে নিয়েছে জীবন। অন্যের দুঃখে যার মন ভাঙলেও নিজের ভাঙা ঘর জোড়া লাগে না।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধলা ভুরু অত্যন্ত সাদামনের মানুষ। এলাকার গরিব-অসহায় মানুষের পাশে তিনি সবার আগে দাঁড়ান। সরকারি অনুদান হোক বা ব্যক্তিগত সহযোগিতা- স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার কোনো কমতি নেই তার।

কিন্তু যে হাতে অন্যের ঘর বাঁধেন, সেই হাত দিয়ে নিজের ঘর বাঁধতে পারেন না। সরকারি সহায়তায় একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এলাকার সচেতন মহলের অভিমত, যিনি দিনরাত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন, তার এমন মানবেতর জীবন অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে তাকে একটি সরকারি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সাটুরিয়ার এই ত্যাগী জনপ্রতিনিধি কি পাবেন একটি নিরাপদ আশ্রয়?এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে হরগজ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। আর অপেক্ষা- প্রশাসনের কাছে, যেন পল্লীকবির সে লাইনটিই সত্যি হয়- “তবু আমি বাঁধি তার ঘর”। যে ঘর বাঁধেন অন্যের জন্য, তার ঘরও যেন বাঁধে কেউ।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত