সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বরেন্দ্রে পানি সংকট

খরার শুরুতেই ১৫ ফুট গর্তে সেচ পাম্প


গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

খরার শুরুতেই ১৫ ফুট গর্তে সেচ পাম্প
খরা মৌসুমের শুরুতেই সেচ পাম্প বসাতে হচ্ছে মাটির ১৫-১৬ ফুট গভীরে। ছবি: প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে ১৫-১৬ ফুট গভীর গর্ত করে সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

এর প্রভাব পড়েছে খাবার পানিতেও, তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, কামদিয়া, কাটাবাড়ী, সাখাহার ও রাজাহার ইউনিয়নে প্রতিবছর খরা মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়।  

এবার ফাল্গুনের শুরুতেই এসব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। সাধারণ শ্যালো মেশিনে পানি না ওঠায় কৃষকদের অনেকেই বাধ্য হয়ে সাবমারসিবল পাম্পের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন করে সেচ কাজ পরিচালনা করছেন।

এদিকে, সেচের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য পানির তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। মাদারপুর, জয়পুর, সাহেবগঞ্জ, চক রহিমাপুর, পলুপাড়া, রামপুরা, সিন্টাজুরী, গোয়ালপাড়া ও শ্রীপুর মদনপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ নলকূপগুলো দিয়ে পানি উঠছে না। 

ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে প্রতিবছরই এই অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে আগামীতে এই এলাকায় পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, "প্রতিবছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এই পানি সংকট দেখা দেয়। সাধারণ নলকূপে পানি না ওঠায় এই সমস্যা সমাধানে আমরা এখন আলাদা প্রযুক্তির নলকূপ সরবরাহ করছি।"

প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে পানির স্তর নিচে নামার এই পরিস্থিতি ঠেকাতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


খরার শুরুতেই ১৫ ফুট গর্তে সেচ পাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে ১৫-১৬ ফুট গভীর গর্ত করে সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

এর প্রভাব পড়েছে খাবার পানিতেও, তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত সাপমারা, গুমানীগঞ্জ, কামদিয়া, কাটাবাড়ী, সাখাহার ও রাজাহার ইউনিয়নে প্রতিবছর খরা মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়।  

এবার ফাল্গুনের শুরুতেই এসব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। সাধারণ শ্যালো মেশিনে পানি না ওঠায় কৃষকদের অনেকেই বাধ্য হয়ে সাবমারসিবল পাম্পের সাহায্যে মাটির গভীর থেকে পানি উত্তোলন করে সেচ কাজ পরিচালনা করছেন।

এদিকে, সেচের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য পানির তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। মাদারপুর, জয়পুর, সাহেবগঞ্জ, চক রহিমাপুর, পলুপাড়া, রামপুরা, সিন্টাজুরী, গোয়ালপাড়া ও শ্রীপুর মদনপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ নলকূপগুলো দিয়ে পানি উঠছে না। 

ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে প্রতিবছরই এই অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে আগামীতে এই এলাকায় পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, "প্রতিবছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এই পানি সংকট দেখা দেয়। সাধারণ নলকূপে পানি না ওঠায় এই সমস্যা সমাধানে আমরা এখন আলাদা প্রযুক্তির নলকূপ সরবরাহ করছি।"

প্রতিবছর আশঙ্কাজনক হারে পানির স্তর নিচে নামার এই পরিস্থিতি ঠেকাতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত