সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

জাতীয় সংসদে পাস হলো শ্রম ‘সংশোধন’ বিল ২০২৬


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

জাতীয় সংসদে পাস হলো শ্রম ‘সংশোধন’ বিল ২০২৬

দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুসংহত করার জন‌্য জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর জারি করা ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের এক সার্থক প্রতিফলন।
​সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের সময় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, এই আইন পাসের মাধ্যমে আমরা শ্রমিকদের স্বার্থে বেশ কিছু পরিবর্তন নিশ্চিত করেছি। এখন থেকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে আগের সেই শতকরা হারের জটিলতা আর থাকছে না; মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে।
নারী শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন বা চার মাস করা হয়েছে।
বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিনে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এমন প্রতিষ্ঠানে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন বা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
​আইনটির মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকটি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘যৌন হয়রানি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের সুনির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে শ্রম নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের ওপর তিনি জোর দেন।
​শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক দৃঢ়তার সাথে বলেন, শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইন বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি প্লাস) ধরে রাখতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই আইনের হাত ধরে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে এক স্থিতিশীল ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে সরকার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


জাতীয় সংসদে পাস হলো শ্রম ‘সংশোধন’ বিল ২০২৬

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুসংহত করার জন‌্য জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর জারি করা ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের এক সার্থক প্রতিফলন।
​সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের সময় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, এই আইন পাসের মাধ্যমে আমরা শ্রমিকদের স্বার্থে বেশ কিছু পরিবর্তন নিশ্চিত করেছি। এখন থেকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে আগের সেই শতকরা হারের জটিলতা আর থাকছে না; মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে।
নারী শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন বা চার মাস করা হয়েছে।
বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিনে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এমন প্রতিষ্ঠানে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন বা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
​আইনটির মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকটি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘যৌন হয়রানি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের সুনির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে শ্রম নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের ওপর তিনি জোর দেন।
​শ্রমিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক দৃঢ়তার সাথে বলেন, শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইন বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি প্লাস) ধরে রাখতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই আইনের হাত ধরে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে এক স্থিতিশীল ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে সরকার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত