শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর বাতাসে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা, নানন্দিক সাজসজ্জা আর পূজার নানা আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার দুর্গাপূজার আকর্ষণ যেন একটু আলাদা। এখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে অনন্য গুরুত্ব পায় মণ্ডপের সৌন্দর্য, উৎসবের জাঁকজমক এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের অভাবনীয় মিলনমেলা।
শ্রীমঙ্গলকে সাধারণত মানুষ চেনেন চায়ের রাজধানী হিসেবে। পাহাড়ি টিলা, সবুজ চা-বাগান, বনাঞ্চল ও হাওর পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে ছুটে আসেন। তবে শ্রীমঙ্গলের আরেকটি বড় পরিচয় রয়েছে - বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবে এর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যেরই এক উজ্জ্বল ও সুন্দর প্রকাশ ঘটে দুর্গাপূজার দিনগুলোতে।
শহরের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার দুর্গাপূজামণ্ডপটি শ্রীমঙ্গলের অন্যতম আকর্ষণীয় মণ্ডপ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর পূজার সময় এখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমা দর্শন, নান্দনিক আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী ছুটে আসেন। শাপলাবাগের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল শহরের ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দুর্গাবাড়ী, রামকৃষ্ণ মিশন, শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়ী, রূপসপুর, সবুজবাগ ও পূর্বাশা আবাসিক এলাকার মণ্ডপগুলোতেও চলছে আনন্দঘন আয়োজন।
পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষক চন্দন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই শাপলাবাগে জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূজায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া চাপ সামলানো এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি আরও জানান, দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য প্রতিদিন মহাপ্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষেরাও সানন্দে এসব মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান। এতে করে দুর্গাপূজা কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক বর্ণিল মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর বাতাসে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা, নানন্দিক সাজসজ্জা আর পূজার নানা আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার দুর্গাপূজার আকর্ষণ যেন একটু আলাদা। এখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে অনন্য গুরুত্ব পায় মণ্ডপের সৌন্দর্য, উৎসবের জাঁকজমক এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের অভাবনীয় মিলনমেলা।
শ্রীমঙ্গলকে সাধারণত মানুষ চেনেন চায়ের রাজধানী হিসেবে। পাহাড়ি টিলা, সবুজ চা-বাগান, বনাঞ্চল ও হাওর পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে ছুটে আসেন। তবে শ্রীমঙ্গলের আরেকটি বড় পরিচয় রয়েছে - বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবে এর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যেরই এক উজ্জ্বল ও সুন্দর প্রকাশ ঘটে দুর্গাপূজার দিনগুলোতে।
শহরের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার দুর্গাপূজামণ্ডপটি শ্রীমঙ্গলের অন্যতম আকর্ষণীয় মণ্ডপ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর পূজার সময় এখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমা দর্শন, নান্দনিক আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী ছুটে আসেন। শাপলাবাগের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল শহরের ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দুর্গাবাড়ী, রামকৃষ্ণ মিশন, শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়ী, রূপসপুর, সবুজবাগ ও পূর্বাশা আবাসিক এলাকার মণ্ডপগুলোতেও চলছে আনন্দঘন আয়োজন।
পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষক চন্দন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই শাপলাবাগে জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পূজায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া চাপ সামলানো এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি আরও জানান, দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য প্রতিদিন মহাপ্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষেরাও সানন্দে এসব মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান। এতে করে দুর্গাপূজা কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক বর্ণিল মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন