সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে এনবিআরের অভিযানে ধরা চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে এনবিআরের অভিযানে ধরা চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি
প্রতীকী ছবি।

  • কম শুল্কের আড়ালে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
  • পাওয়ার স্প্রেয়ার ও টুথপিকের চালানে মিলল দামি প্রসাধনী
  • কন্টেইনারের সিল বদলে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অপচেষ্টা নস্যাৎ

কম শুল্কের পণ্য আমদানির তথ্য দিয়ে চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু ও বিয়ারিং এনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির এক বড় অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক কন্টেইনারে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আনা এবং লক করা কন্টেইনারের সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টার মতো মারাত্মক অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আল আমিন শেখ এক বিবৃতিতে জানান, ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কন্টেইনার খুলে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু। ঘোষিত পণ্যের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি অতিরিক্ত পণ্যও পাওয়া যায়, যেখানে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ কর্পোরেশনের একটি চালানে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরীক্ষায় টুথপিক পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে এবং বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম; এতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়।

একইভাবে ঢাকার এইচআর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির কথা বলে মাত্র ৬ হাজার ৬২৫ কেজি রবার বুশ আনে এবং বাকি জায়গায় দামি মোটরযান যন্ত্রাংশ এনে ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিতে চায়। নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার এনে ৪০ লাখ টাকা ফাঁকির চেষ্টা চালায়।

স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকাভেটর গিয়ার আমদানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ নাট-বল্টু ও বিয়ারিং এনে নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ এবং মোহাম্মাদীয়া ট্রেড যথাক্রমে ৪২ লাখ ও ৩২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করে।

সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি চালানে, যা সিস্টেমে লক থাকা সত্ত্বেও মূল সিল ভেঙে নতুন সিল লাগিয়ে এবং বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানান, ডিজিটাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার কারণে এ জালিয়াতি ধরা পড়েছে এবং রাজস্ব রক্ষা ও দেশীয় শিল্প রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে এনবিআরের অভিযানে ধরা চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • কম শুল্কের আড়ালে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
  • পাওয়ার স্প্রেয়ার ও টুথপিকের চালানে মিলল দামি প্রসাধনী
  • কন্টেইনারের সিল বদলে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অপচেষ্টা নস্যাৎ

কম শুল্কের পণ্য আমদানির তথ্য দিয়ে চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু ও বিয়ারিং এনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির এক বড় অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক কন্টেইনারে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আনা এবং লক করা কন্টেইনারের সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টার মতো মারাত্মক অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আল আমিন শেখ এক বিবৃতিতে জানান, ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কন্টেইনার খুলে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু। ঘোষিত পণ্যের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি অতিরিক্ত পণ্যও পাওয়া যায়, যেখানে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ কর্পোরেশনের একটি চালানে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরীক্ষায় টুথপিক পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে এবং বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম; এতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়।

একইভাবে ঢাকার এইচআর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির কথা বলে মাত্র ৬ হাজার ৬২৫ কেজি রবার বুশ আনে এবং বাকি জায়গায় দামি মোটরযান যন্ত্রাংশ এনে ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিতে চায়। নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার এনে ৪০ লাখ টাকা ফাঁকির চেষ্টা চালায়।

স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকাভেটর গিয়ার আমদানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ নাট-বল্টু ও বিয়ারিং এনে নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ এবং মোহাম্মাদীয়া ট্রেড যথাক্রমে ৪২ লাখ ও ৩২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করে।

সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি চালানে, যা সিস্টেমে লক থাকা সত্ত্বেও মূল সিল ভেঙে নতুন সিল লাগিয়ে এবং বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানান, ডিজিটাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার কারণে এ জালিয়াতি ধরা পড়েছে এবং রাজস্ব রক্ষা ও দেশীয় শিল্প রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত