সংবাদ

কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা, দুই আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা, দুই আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে
যুবদল নেতা কাউসার। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা নগরের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা মো. আবু কাউছার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান দুই আসামি তৌহিদুল ইসলাম ও তানজির আলমের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির ১৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।

এর আগে রোববার দুপুরে নিহত কাউছারের ভাই মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-কুমিল্লা সদর উপজেলার মাঝিগাছা এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), তানজির আলম (৪৮), তাদের বাবা খোরশেদ আলম ওরফে মো. হাবিব (৭০), ডুমুরিয়া চাঁনপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম সুমন (৪০) এবং মাঝিগাছা এলাকার ফরহাদ হোসেন (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে তানজির ও তার ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন উপস্থিত হলে তৌহিদ ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এ সময় তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন কাউছার। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউছারের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ দল। একই রাতে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সময় র‌্যাব-১১-এর কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আসামি তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। আর তানজিরের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা, দুই আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা নগরের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা মো. আবু কাউছার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান দুই আসামি তৌহিদুল ইসলাম ও তানজির আলমের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির ১৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।

এর আগে রোববার দুপুরে নিহত কাউছারের ভাই মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-কুমিল্লা সদর উপজেলার মাঝিগাছা এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (৩৫), তানজির আলম (৪৮), তাদের বাবা খোরশেদ আলম ওরফে মো. হাবিব (৭০), ডুমুরিয়া চাঁনপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম সুমন (৪০) এবং মাঝিগাছা এলাকার ফরহাদ হোসেন (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে তানজির ও তার ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন উপস্থিত হলে তৌহিদ ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান। এ সময় তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন কাউছার। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউছারের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ দল। একই রাতে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। এ সময় র‌্যাব-১১-এর কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আসামি তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। আর তানজিরের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত