কন্যাশিশুর মধ্যে দেবীর রূপ কল্পনা করে আরাধনা, ফুল-চন্দনে পূজা আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন মন্দির। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরের পাশাপাশি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। এর মধ্যে গোবিন্দপুরের শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে এবারই প্রথমবারের মতো এই পূজার আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি, রাজনগর উপজেলার তারাপাশা গ্রামের শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধাম এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে একযোগে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি স্থানের ভক্তিসিক্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ভক্তি ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
কন্যার মাঝে দেবীর আরাধনা :
কুমারী পূজা হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় আচার। এই পূজায় অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ কল্পনা করে আরাধনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নারীশক্তি ও সৃষ্টির উৎস প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে কুমারীকে দেবীরূপে পূজার বিধান রয়েছে। নিষ্পাপ ও নির্মল মনের নিষ্পাপ শিশুর মধ্যে ঈশ্বরীয় সত্তার বিশেষ প্রকাশ ঘটে–এমন বিশ্বাস থেকেই কুমারী কন্যার মধ্যে দেবীশক্তির আবাহন করা হয়। কুমারী পূজার অন্যতম মূল বার্তা হলো নারীকে শ্রদ্ধা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করা।
রঘুনাথপুরে ২৯ বছরের ঐতিহ্য :
শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ধারাবাহিক ঐতিহ্যে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে। শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপশিখা ধর জানান, কন্যাশিশুকে নতুন পোশাক, ফুলের মালা ও অলংকারে দেবীর সাজে সজ্জিত করে মন্দিরের নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে পুরোহিতেরা পূজা পরিচালনা করেন।
দীপশিখা ধর বলেন, 'নারীকে দেবী জ্ঞানে শ্রদ্ধা জানানোই কুমারী পূজার মূল বার্তা। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক নারীই মাতৃরূপা। তাই সমাজে নারীদের উপযুক্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার আসনে স্থান দেওয়া উচিত।'
গোবিন্দপুরে প্রথমবার, তারাপাশায় উৎসবের আমেজ :
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে এবারই প্রথমবারের মতো কুমারী পূজার সূচনা হয়েছে। নতুন এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সৃষ্টি হয় বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। অন্যদিকে, রাজনগর উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধামেও নিয়ম মেনে শ্রদ্ধাভরে কুমারী পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়।
২০০৮ সালে সরকার মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। চা-বাগানের সবুজ সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার সুবাদে দুর্গোৎসবের এই সময়ে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুল দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সমাগম ঘটে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন মৌলভীবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করবে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
কন্যাশিশুর মধ্যে দেবীর রূপ কল্পনা করে আরাধনা, ফুল-চন্দনে পূজা আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন মন্দির। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরের পাশাপাশি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। এর মধ্যে গোবিন্দপুরের শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে এবারই প্রথমবারের মতো এই পূজার আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি, রাজনগর উপজেলার তারাপাশা গ্রামের শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধাম এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে একযোগে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি স্থানের ভক্তিসিক্ত এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ভক্তি ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
কন্যার মাঝে দেবীর আরাধনা :
কুমারী পূজা হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় আচার। এই পূজায় অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী কন্যাশিশুর মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ কল্পনা করে আরাধনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নারীশক্তি ও সৃষ্টির উৎস প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে কুমারীকে দেবীরূপে পূজার বিধান রয়েছে। নিষ্পাপ ও নির্মল মনের নিষ্পাপ শিশুর মধ্যে ঈশ্বরীয় সত্তার বিশেষ প্রকাশ ঘটে–এমন বিশ্বাস থেকেই কুমারী কন্যার মধ্যে দেবীশক্তির আবাহন করা হয়। কুমারী পূজার অন্যতম মূল বার্তা হলো নারীকে শ্রদ্ধা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করা।
রঘুনাথপুরে ২৯ বছরের ঐতিহ্য :
শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁওয়ের রঘুনাথপুর শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়িতে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ধারাবাহিক ঐতিহ্যে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে। শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপশিখা ধর জানান, কন্যাশিশুকে নতুন পোশাক, ফুলের মালা ও অলংকারে দেবীর সাজে সজ্জিত করে মন্দিরের নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে পুরোহিতেরা পূজা পরিচালনা করেন।
দীপশিখা ধর বলেন, 'নারীকে দেবী জ্ঞানে শ্রদ্ধা জানানোই কুমারী পূজার মূল বার্তা। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক নারীই মাতৃরূপা। তাই সমাজে নারীদের উপযুক্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার আসনে স্থান দেওয়া উচিত।'
গোবিন্দপুরে প্রথমবার, তারাপাশায় উৎসবের আমেজ :
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর শ্রীশ্রী গৌর সেবা আশ্রমে এবারই প্রথমবারের মতো কুমারী পূজার সূচনা হয়েছে। নতুন এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সৃষ্টি হয় বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। অন্যদিকে, রাজনগর উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধামেও নিয়ম মেনে শ্রদ্ধাভরে কুমারী পূজার আয়োজন সম্পন্ন হয়।
২০০৮ সালে সরকার মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। চা-বাগানের সবুজ সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার সুবাদে দুর্গোৎসবের এই সময়ে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুল দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সমাগম ঘটে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন মৌলভীবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন