সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও কূটনৈতিক প্রতিবাদের দাবিতে আজ শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন এবং সৌদি আরবকে লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং সাম্প্রতিক কিছু রাষ্ট্রীয় বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে নেতারা বলেন, "বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রবাসীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, আইনি সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো সরকারের দায়িত্ব। অথচ এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতা চূড়ান্তভাবে সামনে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘শিক্ষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। প্রবাসীদের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবর্তে এমন বক্তব্য তাদের মর্যাদা ও অধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল।"
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "প্রতিমন্ত্রীদের শিক্ষা নিতে হবে, কীভাবে দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। অন্য কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করলে নির্বাচিত সরকারের সাহসিকতার সঙ্গে তার প্রতিবাদ জানানো উচিত।"
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি সৈকত আরিফ পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, "সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় শ্যামা ওবায়েদের বক্তব্য দায়িত্বহীন ও প্রবাসীদের মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর। মন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব প্রবাসীদের বিপদকে ‘শিক্ষা’ হিসেবে উপস্থাপন করা নয়, বরং তাঁদের জীবন, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদের তাঁর মন্তব্যের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এ বিষয়ে তদন্ত করে দায়িত্ব পালনে কী কী গাফিলতি ছিল, তা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।"
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে সৈকত আরিফ আরও বলেন, "এ ঘটনায় বিরোধী দলেরও কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তাদের এই নীরবতা কি পেট্রোডলারের ভাগ পাওয়ার কারণে, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে; সেই প্রশ্ন জনমনে তৈরি হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিরোধী দলের যে ভূমিকা নেওয়ার কথা, বর্তমান বিরোধী দল সে ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার যদি এ ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করব।"
সমাবেশে সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব তুহিন ফরাজী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার স্কুলবিষয়ক সম্পাদক অনামিকা চৌধুরীসহ ছাত্র ও যুব ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও কূটনৈতিক প্রতিবাদের দাবিতে আজ শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন এবং সৌদি আরবকে লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং সাম্প্রতিক কিছু রাষ্ট্রীয় বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে নেতারা বলেন, "বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রবাসীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, আইনি সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো সরকারের দায়িত্ব। অথচ এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতা চূড়ান্তভাবে সামনে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘শিক্ষা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। প্রবাসীদের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবর্তে এমন বক্তব্য তাদের মর্যাদা ও অধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল।"
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "প্রতিমন্ত্রীদের শিক্ষা নিতে হবে, কীভাবে দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। অন্য কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করলে নির্বাচিত সরকারের সাহসিকতার সঙ্গে তার প্রতিবাদ জানানো উচিত।"
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি সৈকত আরিফ পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, "সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় শ্যামা ওবায়েদের বক্তব্য দায়িত্বহীন ও প্রবাসীদের মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর। মন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব প্রবাসীদের বিপদকে ‘শিক্ষা’ হিসেবে উপস্থাপন করা নয়, বরং তাঁদের জীবন, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদের তাঁর মন্তব্যের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এ বিষয়ে তদন্ত করে দায়িত্ব পালনে কী কী গাফিলতি ছিল, তা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।"
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে সৈকত আরিফ আরও বলেন, "এ ঘটনায় বিরোধী দলেরও কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তাদের এই নীরবতা কি পেট্রোডলারের ভাগ পাওয়ার কারণে, নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে; সেই প্রশ্ন জনমনে তৈরি হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিরোধী দলের যে ভূমিকা নেওয়ার কথা, বর্তমান বিরোধী দল সে ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার যদি এ ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করব।"
সমাবেশে সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব তুহিন ফরাজী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার স্কুলবিষয়ক সম্পাদক অনামিকা চৌধুরীসহ ছাত্র ও যুব ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন