সংবাদ

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর আশা


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পিএম

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর আশা
শিমগাছে ফুল এসেছে। ছবি : সংবাদ

নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন শীতকালীন আগাম সবজি চাষের হিড়িক পড়েছে। জেলাজুড়ে কৃষক পরিবারগুলোর কাটছে চরম ব্যস্ত সময়। খেতের পর খেত সবুজ ফসলের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই জনপদের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো। ফলন ভালো রাখতে কেউ ফসলের আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ নিবিড়ভাবে ওষুধ ছিটানো ও সেচ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত আছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া ও খরকমার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা ব্যস্ত হাতে সবজি খেতের পরিচর্যা করছেন। অনেকে আবার নতুন চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি করছেন। ইতোমধ্যে এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, শসা, মিষ্টি কুমড়া এবং ধনেপাতাসহ নানা জাতের আগাম শাকসবজির চাষ হয়েছে। এলাকার উর্বর দোআঁশ মাটিতে প্রতিবছরই শীতের শুরুতে এসব সবজির বাম্পার ফলন মেলে। বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়–এমন প্রত্যাশাতেই এবারও আগাম চাষে ঝোঁক বাড়িয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগামী ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব সবজি বাজারে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

বেলাবো উপজেলার চর উজিলাবো গ্রামের কৃষক আলমগীর জানান, এক বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বেগুন এবং অন্যটিতে শিমের চারা রোপণ করেছেন তিনি। বর্তমানে শিমগাছে ফুল এসেছে, প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

একই আশার কথা শোনালেন পলাশ উপজেলার সেকান্দরদী গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন। দুই বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন ও শিম লাগিয়ে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও কীটনাশক ব্যবহারের কথা জানান তিনি।

তবে বৃষ্টির কারণে শুরুর দিকে কিছু সংকট তৈরি হয়েছিল। শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া গ্রামের ইসমাইল মিয়া প্রায় ২০ বছর ধরে শীতকালীন চারার বীজতলা তৈরি করে আসছেন। তিনি জানান, অসময়ের ঘন বৃষ্টির পানিতে বীজতলায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চারা নষ্ট হয়েছিল। এতে চারা পুন রোপণে খরচ ও শ্রম দুই-ই বেড়েছে, ফলে প্রাথমিক ধাপে অনেককে লোকসান গুনতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক জানান, জেলার কৃষকেরা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা সার, সেচ ও রোগবালাই দমনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমান অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকেরা তা দ্রুত পুষিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সার, বীজ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর আশা

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন শীতকালীন আগাম সবজি চাষের হিড়িক পড়েছে। জেলাজুড়ে কৃষক পরিবারগুলোর কাটছে চরম ব্যস্ত সময়। খেতের পর খেত সবুজ ফসলের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই জনপদের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো। ফলন ভালো রাখতে কেউ ফসলের আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ নিবিড়ভাবে ওষুধ ছিটানো ও সেচ ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত আছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া ও খরকমার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা ব্যস্ত হাতে সবজি খেতের পরিচর্যা করছেন। অনেকে আবার নতুন চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি করছেন। ইতোমধ্যে এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, শসা, মিষ্টি কুমড়া এবং ধনেপাতাসহ নানা জাতের আগাম শাকসবজির চাষ হয়েছে। এলাকার উর্বর দোআঁশ মাটিতে প্রতিবছরই শীতের শুরুতে এসব সবজির বাম্পার ফলন মেলে। বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়–এমন প্রত্যাশাতেই এবারও আগাম চাষে ঝোঁক বাড়িয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আগামী ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব সবজি বাজারে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

বেলাবো উপজেলার চর উজিলাবো গ্রামের কৃষক আলমগীর জানান, এক বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বেগুন এবং অন্যটিতে শিমের চারা রোপণ করেছেন তিনি। বর্তমানে শিমগাছে ফুল এসেছে, প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

একই আশার কথা শোনালেন পলাশ উপজেলার সেকান্দরদী গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন। দুই বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন ও শিম লাগিয়ে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও কীটনাশক ব্যবহারের কথা জানান তিনি।

তবে বৃষ্টির কারণে শুরুর দিকে কিছু সংকট তৈরি হয়েছিল। শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া গ্রামের ইসমাইল মিয়া প্রায় ২০ বছর ধরে শীতকালীন চারার বীজতলা তৈরি করে আসছেন। তিনি জানান, অসময়ের ঘন বৃষ্টির পানিতে বীজতলায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চারা নষ্ট হয়েছিল। এতে চারা পুন রোপণে খরচ ও শ্রম দুই-ই বেড়েছে, ফলে প্রাথমিক ধাপে অনেককে লোকসান গুনতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক জানান, জেলার কৃষকেরা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা সার, সেচ ও রোগবালাই দমনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমান অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকেরা তা দ্রুত পুষিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে সার, বীজ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত