সংবাদ

অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন, ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষা


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন, ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষা
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুনে পুড়ে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ। ছবি : সংবাদ

একটি ফোনকলের উৎকণ্ঠিত অপেক্ষা, প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল থেকে মর্গে ছুটে বেড়ানো, আর বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা আশঙ্কা। কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এমনই দুঃসহ সময় পার করছেন যশোরের মনিরামপুরের একটি পরিবার। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি মরদেহ এতটাই বিকৃত যে চেনার উপায় নেই। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে এই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা দিয়েছেন স্বজনেরা। এখন শুধু ফলের অপেক্ষা আর প্রিয়জনদের নিথর দেহ গ্রামে ফিরিয়ে এনে শেষবিদায় জানানোর আকুতি।

মনিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর এলাকায় তুহিনের গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। যে বাড়িতে আনন্দঘন পরিবেশে স্বজনদের ফিরে আসার কথা ছিল, সেখানে এখন বুকভরা হাহাকার। তুহিনের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমানের কাছে ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিই বারবার ফিরে আসছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে এসি বাসে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তুহিন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে তারা উখিয়ার ইনানীতে সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন ইন্টুইট রিসোর্টের একটি কক্ষে ওঠেন। শুক্রবার বিকেলে বাবার সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তুহিন। কিন্তু শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ওই রিসোর্টে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন আর বাজেনি।

তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, উদ্ধারকারীরা রিসোর্টের বাথরুম থেকে দুই শিশুসহ চারজনের জড়াজড়ি করা মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। মরদেহগুলোর চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। তুহিনের চাচাতো ভাই রিয়াজ আহমেদ জানান, মরদেহগুলো কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে তুহিনের বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ি ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা ঢাকায় জমা দিয়েছেন। পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

তুহিন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সাইন্স বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে ঢাকায় চাকরি করতেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে মনিরামপুরের ওই পরিবারের চারজন মারা গেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। স্বজনেরা ডিএনএ পরীক্ষার ফল ও লাশ নিয়ে গ্রামে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন, ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একটি ফোনকলের উৎকণ্ঠিত অপেক্ষা, প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল থেকে মর্গে ছুটে বেড়ানো, আর বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা আশঙ্কা। কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এমনই দুঃসহ সময় পার করছেন যশোরের মনিরামপুরের একটি পরিবার। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি মরদেহ এতটাই বিকৃত যে চেনার উপায় নেই। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে এই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা দিয়েছেন স্বজনেরা। এখন শুধু ফলের অপেক্ষা আর প্রিয়জনদের নিথর দেহ গ্রামে ফিরিয়ে এনে শেষবিদায় জানানোর আকুতি।

মনিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর এলাকায় তুহিনের গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। যে বাড়িতে আনন্দঘন পরিবেশে স্বজনদের ফিরে আসার কথা ছিল, সেখানে এখন বুকভরা হাহাকার। তুহিনের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমানের কাছে ছেলের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিই বারবার ফিরে আসছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে এসি বাসে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তুহিন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে তারা উখিয়ার ইনানীতে সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন ইন্টুইট রিসোর্টের একটি কক্ষে ওঠেন। শুক্রবার বিকেলে বাবার সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তুহিন। কিন্তু শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ওই রিসোর্টে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন আর বাজেনি।

তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, উদ্ধারকারীরা রিসোর্টের বাথরুম থেকে দুই শিশুসহ চারজনের জড়াজড়ি করা মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। মরদেহগুলোর চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। তুহিনের চাচাতো ভাই রিয়াজ আহমেদ জানান, মরদেহগুলো কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে তুহিনের বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ি ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা ঢাকায় জমা দিয়েছেন। পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

তুহিন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সাইন্স বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে ঢাকায় চাকরি করতেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে মনিরামপুরের ওই পরিবারের চারজন মারা গেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। স্বজনেরা ডিএনএ পরীক্ষার ফল ও লাশ নিয়ে গ্রামে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত