সংবাদ

দীর্ঘদিন বন্ধ গিজার চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

দীর্ঘদিন বন্ধ গিজার চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি

শীতের শুরুতে গরম পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাড়িতেই চালু করা হয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার। তবে যন্ত্রটির অবস্থা পরীক্ষা না করে ব্যবহার শুরু করলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাস লিক কিংবা বায়ু চলাচলের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গিজার চালুর আগে এর সংযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সামগ্রিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার আগে পরীক্ষা করান

দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা গিজার চালুর আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির সরবরাহ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো তার, ঢিলা সংযোগ কিংবা যন্ত্রের ভেতরের ত্রুটি বিপদের কারণ হতে পারে।

নিজে গিজার খুলে পরীক্ষা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া ভালো। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে মেরামত না করা পর্যন্ত যন্ত্রটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে অবহেলা নয়

গিজারের কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে যন্ত্রের ত্রুটি, পানির প্রবাহে সমস্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করা যায়।

বৈদ্যুতিক গিজারের তার ও সংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। অন্যদিকে, গ্যাস গিজারের বার্নার, গ্যাসের পাইপ এবং সংযোগে লিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাতে হবে।

বৈদ্যুতিক ও গ্যাস গিজারের ঝুঁকি আলাদা

দুই ধরনের গিজারেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, তবে ঝুঁকির ধরন ভিন্ন।

·         বৈদ্যুতিক গিজার: ক্ষতিগ্রস্ত তার, ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ কিংবা আর্থিংয়ের সমস্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

·         গ্যাস গিজার: গ্যাস লিক, আগুন লাগা এবং কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে বদ্ধ বাথরুমে গ্যাস গিজার ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন হওয়ায় এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। এর সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে; গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

তাই গ্যাস গিজার প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে বসানো এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্ঘটনা এড়াতে মানুন ৫ সতর্কতা

১. দক্ষ কর্মী দিয়ে ইনস্টলেশন করান

গিজার স্থাপন ও মেরামতের কাজ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে করান। নিজে থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ বা গ্যাসের পাইপে পরিবর্তন করবেন না।

২. আর্থিং ও সার্কিট ব্রেকার পরীক্ষা করুন

বৈদ্যুতিক গিজারে সঠিক আর্থিং এবং উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার থাকা জরুরি। এমসিবি (MCB) অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্ট সার্কিটের মতো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে সাহায্য করে। তবে এটি থাকলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সব ঝুঁকি দূর হয় না।

৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে গিজার চালাবেন না

গ্যাস লিকের সন্দেহ হলে গিজার চালু করবেন না। আগুন জ্বালানো কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকুন। নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে জরুরি পরিষেবা বা যোগ্য টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।

৪. অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে ব্যবহার বন্ধ করুন

পোড়া গন্ধ, অস্বাভাবিক শব্দ, পানি চুইয়ে পড়া কিংবা বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে গিজার বন্ধ রাখুন। পরীক্ষা ও মেরামত না করে আবার চালু করবেন না।

৫. প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন

গিজার চালু ও বন্ধ করার নিয়ম, ব্যবহারের সময়সীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশনা মেনে চলুন। গ্যাস গিজারের ক্ষেত্রে বায়ু চলাচল ও ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, বিশেষভাবে নিশ্চিত করুন।

শীতে গরম পানির স্বস্তি পেতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। গিজার চালুর আগে পরীক্ষা, নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


দীর্ঘদিন বন্ধ গিজার চালুর আগে যে ৫ সতর্কতা জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শীতের শুরুতে গরম পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাড়িতেই চালু করা হয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার। তবে যন্ত্রটির অবস্থা পরীক্ষা না করে ব্যবহার শুরু করলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাস লিক কিংবা বায়ু চলাচলের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গিজার চালুর আগে এর সংযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সামগ্রিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার আগে পরীক্ষা করান

দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা গিজার চালুর আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির সরবরাহ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো তার, ঢিলা সংযোগ কিংবা যন্ত্রের ভেতরের ত্রুটি বিপদের কারণ হতে পারে।

নিজে গিজার খুলে পরীক্ষা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া ভালো। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে মেরামত না করা পর্যন্ত যন্ত্রটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে অবহেলা নয়

গিজারের কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে যন্ত্রের ত্রুটি, পানির প্রবাহে সমস্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করা যায়।

বৈদ্যুতিক গিজারের তার ও সংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। অন্যদিকে, গ্যাস গিজারের বার্নার, গ্যাসের পাইপ এবং সংযোগে লিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাতে হবে।

বৈদ্যুতিক ও গ্যাস গিজারের ঝুঁকি আলাদা

দুই ধরনের গিজারেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, তবে ঝুঁকির ধরন ভিন্ন।

·         বৈদ্যুতিক গিজার: ক্ষতিগ্রস্ত তার, ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ কিংবা আর্থিংয়ের সমস্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

·         গ্যাস গিজার: গ্যাস লিক, আগুন লাগা এবং কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে বদ্ধ বাথরুমে গ্যাস গিজার ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন হওয়ায় এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। এর সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে; গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

তাই গ্যাস গিজার প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে বসানো এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

দুর্ঘটনা এড়াতে মানুন ৫ সতর্কতা

১. দক্ষ কর্মী দিয়ে ইনস্টলেশন করান

গিজার স্থাপন ও মেরামতের কাজ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে করান। নিজে থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ বা গ্যাসের পাইপে পরিবর্তন করবেন না।

২. আর্থিং ও সার্কিট ব্রেকার পরীক্ষা করুন

বৈদ্যুতিক গিজারে সঠিক আর্থিং এবং উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার থাকা জরুরি। এমসিবি (MCB) অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্ট সার্কিটের মতো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে সাহায্য করে। তবে এটি থাকলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সব ঝুঁকি দূর হয় না।

৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে গিজার চালাবেন না

গ্যাস লিকের সন্দেহ হলে গিজার চালু করবেন না। আগুন জ্বালানো কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকুন। নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে জরুরি পরিষেবা বা যোগ্য টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন।

৪. অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে ব্যবহার বন্ধ করুন

পোড়া গন্ধ, অস্বাভাবিক শব্দ, পানি চুইয়ে পড়া কিংবা বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে গিজার বন্ধ রাখুন। পরীক্ষা ও মেরামত না করে আবার চালু করবেন না।

৫. প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন

গিজার চালু ও বন্ধ করার নিয়ম, ব্যবহারের সময়সীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশনা মেনে চলুন। গ্যাস গিজারের ক্ষেত্রে বায়ু চলাচল ও ধোঁয়া নির্গমনের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, বিশেষভাবে নিশ্চিত করুন।

শীতে গরম পানির স্বস্তি পেতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। গিজার চালুর আগে পরীক্ষা, নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত