আজ বিজয়া দশমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। পাঁচ দিনের উৎসব শেষে আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও এর আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে থাকুক সবার জীবনে।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের কাশফুল, শিউলির সুবাস আর নির্মল আকাশের আবহে এই উৎসব বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে পূজামণ্ডপে যেমন ভক্তির পরিবেশ তৈরি হয়, তেমনি জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে আনন্দ ও মিলনের আবহ। এ কারণেই দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আয়োজন নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধর্মীয় বিশ্বাসে দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। এই বিশ্বাসের তাৎপর্য শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থানও শুভ শক্তির প্রকাশ। যে সমাজে দুর্বল ও অসহায় মানুষ নিরাপদে বাঁচতে পারেন, মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা থাকে, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে শুভের পথে এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশের সমাজ বহুধর্ম ও বহুসংস্কৃতির মানুষের মিলনে গড়ে উঠেছে। এই বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। তাই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। কোনো ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ, উপাসনালয়ে হামলা কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করার ঘটনা সম্প্রীতির চেতনার পরিপন্থী। উৎসবের আনন্দ যেন সবার জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের সবার।
বিজয়া দশমী বিদায়ের দিন হলেও এর শিক্ষা চিরন্তন। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় ও শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে মানুষ পুরোনো বিরোধ ভুলে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রেরণা পায়। হিংসা দিয়ে নয়, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দিয়েই মানুষের মন জয় করা সম্ভব।
বিজয়া দশমীর মূল বার্তা হোক অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বিভেদের বদলে ঐক্য এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতি। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার। এই প্রত্যয়েই গড়ে উঠুক শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক বাংলাদেশ।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
আজ বিজয়া দশমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। পাঁচ দিনের উৎসব শেষে আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও এর আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে থাকুক সবার জীবনে।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের কাশফুল, শিউলির সুবাস আর নির্মল আকাশের আবহে এই উৎসব বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে পূজামণ্ডপে যেমন ভক্তির পরিবেশ তৈরি হয়, তেমনি জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে আনন্দ ও মিলনের আবহ। এ কারণেই দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আয়োজন নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধর্মীয় বিশ্বাসে দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। এই বিশ্বাসের তাৎপর্য শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থানও শুভ শক্তির প্রকাশ। যে সমাজে দুর্বল ও অসহায় মানুষ নিরাপদে বাঁচতে পারেন, মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা থাকে, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে শুভের পথে এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশের সমাজ বহুধর্ম ও বহুসংস্কৃতির মানুষের মিলনে গড়ে উঠেছে। এই বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। তাই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। কোনো ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ, উপাসনালয়ে হামলা কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করার ঘটনা সম্প্রীতির চেতনার পরিপন্থী। উৎসবের আনন্দ যেন সবার জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের সবার।
বিজয়া দশমী বিদায়ের দিন হলেও এর শিক্ষা চিরন্তন। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় ও শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে মানুষ পুরোনো বিরোধ ভুলে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রেরণা পায়। হিংসা দিয়ে নয়, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দিয়েই মানুষের মন জয় করা সম্ভব।
বিজয়া দশমীর মূল বার্তা হোক অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বিভেদের বদলে ঐক্য এবং বিদ্বেষের পরিবর্তে সম্প্রীতি। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার। এই প্রত্যয়েই গড়ে উঠুক শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও মানবিক বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন