সংবাদ

শব্দদূষণ: অসহনীয় শব্দ থেকে মুক্তি চাই


কামরুজ্জামান
কামরুজ্জামান
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

শব্দদূষণ: অসহনীয় শব্দ থেকে মুক্তি চাই
হকার ও ভাসমান দোকানিরা বৈদ্যুতিক বাঁশি, ঘণ্টা কিংবা রেকর্ড করা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

আমাদের দেশে পানি, মাটি, বায়ু ও শব্দদূষণ—এই চার ধরনের দূষণ ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এর বাইরে রয়েছে আলোকদূষণ, যা এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। মোবাইলফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমানে দেশের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় শব্দদূষণ। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি, ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিনিয়ত শব্দের মধ্যে বসবাস করতে করতে মানুষ যেন এই দূষণকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছে। অথচ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

শব্দের সহনীয় মাত্রা স্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন হয়। শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবলের মধ্যে থাকা উচিত। আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় ৫৫ ডেসিবল ও রাতে ৪৫ ডেসিবল নির্ধারিত। বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকাতেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব মাত্রা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘর থেকে কর্মস্থলে যাওয়া, যানবাহনে ভ্রমণ কিংবা বাসায় অবস্থান—কোথাও যেন শব্দের হাত থেকে রেহাই নেই। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালতের মতো নীরব এলাকায়ও প্রায়ই উচ্চ শব্দ শোনা যায়। ফলে রোগীর বিশ্রাম, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

দেশে শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস যানবাহনের হর্ন। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলের সময় অনেক গাড়ির হর্নের বিকট শব্দে মনে হয়, মাথার ভেতর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হয়। দ্রুত পথ পরিষ্কার করা, অন্য যানবাহনকে ভয় দেখানো কিংবা যাত্রী আকৃষ্ট করার জন্য এসব হর্ন বাজানো হয়। বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ দখল ও যানজটের কারণে একসঙ্গে অনেক গাড়ি হর্ন বাজায়। ফলে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। কিছু কিশোর ও তরুণ মোটরসাইকেলের শব্দনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র খুলে চালানোর সময় বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। এতে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানোর এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে সড়কে শব্দদূষণ কমানো কঠিন হবে।

শিল্পকারখানার জেনারেটরও শব্দদূষণের বড় উৎস। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করা হলে এর শব্দে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বাড়ি পরিবর্তন করতেও বাধ্য হতে হয়। অন্যদিকে, শপিং মল, বিপণিবিতান, কাপড় ও জুতার দোকান, রোগনির্ণয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা হয়। ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের সময় এ প্রবণতা আরও বাড়ে। হকার ও ভাসমান দোকানিরা বৈদ্যুতিক বাঁশি, ঘণ্টা কিংবা রেকর্ড করা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উচ্চ স্বরে গানবাজনা ও ধর্মীয় বক্তৃতাও অনেক সময় আশপাশের মানুষের জন্য শব্দদূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিনোদন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য থাকলেও অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন উচ্চ শব্দ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মোবাইলফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দদূষণের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অনেকে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে উচ্চ স্বরে কথা বলেন কিংবা লাউডস্পিকার চালিয়ে অন্যদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করেন না। ব্যক্তিগত ফোনালাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও উচ্চ শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের পাশ থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সবুজের পরিমাণ কমছে। গাছপালা শব্দ শোষণে কিছুটা ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষহীন পরিবেশে শব্দের প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা এবং আবাসিক এলাকার পাশে শিল্পকারখানা স্থাপনে নিয়ন্ত্রণ শব্দদূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শব্দদূষণের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর। অতিরিক্ত শব্দে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন শব্দের মধ্যে থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা, মানসিক চাপ ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগী ও শব্দসংবেদনশীল মানুষের জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। যানবাহনে অবৈধ হর্ন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক চালানো এবং মোটরসাইকেলের শব্দনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র খুলে চালানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিল্পকারখানার জেনারেটর ও যন্ত্রপাতিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। হকারদেরও বিকল্প উপায়ে পণ্য বিক্রির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং বিদ্যমান গাছ রক্ষা করতে হবে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত শব্দের মাত্রা পরিমাপ, বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নীরব এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানো, নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা এবং জনসমাগমস্থলে সংযতভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যই সম্পদ। নিজের সুবিধার জন্য অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

[লেখক: শিক্ষক]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


শব্দদূষণ: অসহনীয় শব্দ থেকে মুক্তি চাই

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আমাদের দেশে পানি, মাটি, বায়ু ও শব্দদূষণ—এই চার ধরনের দূষণ ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এর বাইরে রয়েছে আলোকদূষণ, যা এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। মোবাইলফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমানে দেশের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় শব্দদূষণ। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি, ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিনিয়ত শব্দের মধ্যে বসবাস করতে করতে মানুষ যেন এই দূষণকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছে। অথচ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

শব্দের সহনীয় মাত্রা স্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন হয়। শব্দদূষণ বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবলের মধ্যে থাকা উচিত। আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় ৫৫ ডেসিবল ও রাতে ৪৫ ডেসিবল নির্ধারিত। বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকাতেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব মাত্রা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘর থেকে কর্মস্থলে যাওয়া, যানবাহনে ভ্রমণ কিংবা বাসায় অবস্থান—কোথাও যেন শব্দের হাত থেকে রেহাই নেই। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আদালতের মতো নীরব এলাকায়ও প্রায়ই উচ্চ শব্দ শোনা যায়। ফলে রোগীর বিশ্রাম, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

দেশে শব্দদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস যানবাহনের হর্ন। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলের সময় অনেক গাড়ির হর্নের বিকট শব্দে মনে হয়, মাথার ভেতর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হয়। দ্রুত পথ পরিষ্কার করা, অন্য যানবাহনকে ভয় দেখানো কিংবা যাত্রী আকৃষ্ট করার জন্য এসব হর্ন বাজানো হয়। বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ দখল ও যানজটের কারণে একসঙ্গে অনেক গাড়ি হর্ন বাজায়। ফলে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। কিছু কিশোর ও তরুণ মোটরসাইকেলের শব্দনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র খুলে চালানোর সময় বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। এতে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানোর এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে সড়কে শব্দদূষণ কমানো কঠিন হবে।

শিল্পকারখানার জেনারেটরও শব্দদূষণের বড় উৎস। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় কারখানা স্থাপন করা হলে এর শব্দে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বাড়ি পরিবর্তন করতেও বাধ্য হতে হয়। অন্যদিকে, শপিং মল, বিপণিবিতান, কাপড় ও জুতার দোকান, রোগনির্ণয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা হয়। ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের সময় এ প্রবণতা আরও বাড়ে। হকার ও ভাসমান দোকানিরা বৈদ্যুতিক বাঁশি, ঘণ্টা কিংবা রেকর্ড করা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উচ্চ স্বরে গানবাজনা ও ধর্মীয় বক্তৃতাও অনেক সময় আশপাশের মানুষের জন্য শব্দদূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিনোদন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য থাকলেও অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন উচ্চ শব্দ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মোবাইলফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দদূষণের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। অনেকে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে উচ্চ স্বরে কথা বলেন কিংবা লাউডস্পিকার চালিয়ে অন্যদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করেন না। ব্যক্তিগত ফোনালাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও উচ্চ শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের পাশ থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সবুজের পরিমাণ কমছে। গাছপালা শব্দ শোষণে কিছুটা ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষহীন পরিবেশে শব্দের প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা এবং আবাসিক এলাকার পাশে শিল্পকারখানা স্থাপনে নিয়ন্ত্রণ শব্দদূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শব্দদূষণের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর। অতিরিক্ত শব্দে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন শব্দের মধ্যে থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা, মানসিক চাপ ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, রোগী ও শব্দসংবেদনশীল মানুষের জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। যানবাহনে অবৈধ হর্ন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক চালানো এবং মোটরসাইকেলের শব্দনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র খুলে চালানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিল্পকারখানার জেনারেটর ও যন্ত্রপাতিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। হকারদেরও বিকল্প উপায়ে পণ্য বিক্রির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং বিদ্যমান গাছ রক্ষা করতে হবে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত শব্দের মাত্রা পরিমাপ, বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নীরব এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানো, নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে মাইক ব্যবহার করা এবং জনসমাগমস্থলে সংযতভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যই সম্পদ। নিজের সুবিধার জন্য অন্যের শান্তি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

[লেখক: শিক্ষক]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত