ঢাকের কাঠি, ধূপ-ধুনোর সুবাস আর শঙ্খধ্বনিতে চারদিকে বাজছে বিদায়ের সুর। আনন্দ ও বিষাদের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে সম্পন্ন হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। তিথি অনুযায়ী এবার ছয় দিনের অতিথি দেবী দুর্গা আজ বিদায় নিচ্ছেন কৈলাসধামে। আর মায়ের এই বিদায়লগ্নে নওগাঁর মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা গেল রক্তিম এক দৃশ্যপট–যেখানে লাল-সাদা শাড়ির সমাহারে দেবীবরণ ও ‘সিঁদুর খেলায়’ মেতে উঠেছেন নারীরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নেমেছিল ভক্তদের ঢল। শেষবারের মতো দেবী দুর্গার দর্শন পেতে এবং তাঁর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ নিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছোটেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সরেজমিনে শহরের বেশ কয়েকটি মণ্ডপে দেখা যায়, পূজার শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর পর্ব। সিঁদুর দিয়ে দেবীর পা ছুঁইয়ে বিবাহিত নারীরা একে অপরের গালে ও কপালে মেখে দেন লাল সিঁদুর। ঢাকের তাল, উলুধ্বনি ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। সিঁদুর খেলার বর্ণিল রঙে যেন একমুহূর্তের জন্য ফিকে হয়ে এসেছিল বিদায়ের করুণ সুর।
শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমন্দিরে (শিব মন্দির) সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া স্নেহা সরকার বলেন, “আজকের দশমীর মধ্য দিয়ে আমাদের পুজোর দিনগুলো শেষ হয়ে গেল। এবার ছয় দিন ধরে উৎসব করেছি। সকালে অঞ্জলি দেওয়া ও সিঁদুর খেলা শেষ হলো। সিঁদুর খেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। আজ মায়ের বিদায়ের দিনে সবার মন খারাপ হলেও মনের মধ্যে একটা আনন্দ আছে–আসছে বছর মা আবার আসবেন।”
একই মণ্ডপের আরেক ভক্ত আরতি সরকার বলেন, “সিঁদুর খেলা শুধু প্রথা নয়, এটি আমাদের নারীদের পারস্পরিক সম্প্রীতির এক বড় মাধ্যম। একে অপরকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর মাধ্যমে আমরা মঙ্গল প্রার্থনা করি এবং পরিবারের সবার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
প্রতিবছরের মতো এবারও দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীতে বর্ণাঢ্য নৌ-শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই প্রতিমাগুলোকে সুসজ্জিত নৌকায় তোলা শুরু হয়। নদীপথে বর্ণিল শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নওগাঁ জেলায় মোট ৮৩৬টি মণ্ডপে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকের কাঠি, ধূপ-ধুনোর সুবাস আর শঙ্খধ্বনিতে চারদিকে বাজছে বিদায়ের সুর। আনন্দ ও বিষাদের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে সম্পন্ন হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। তিথি অনুযায়ী এবার ছয় দিনের অতিথি দেবী দুর্গা আজ বিদায় নিচ্ছেন কৈলাসধামে। আর মায়ের এই বিদায়লগ্নে নওগাঁর মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা গেল রক্তিম এক দৃশ্যপট–যেখানে লাল-সাদা শাড়ির সমাহারে দেবীবরণ ও ‘সিঁদুর খেলায়’ মেতে উঠেছেন নারীরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নেমেছিল ভক্তদের ঢল। শেষবারের মতো দেবী দুর্গার দর্শন পেতে এবং তাঁর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ নিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছোটেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সরেজমিনে শহরের বেশ কয়েকটি মণ্ডপে দেখা যায়, পূজার শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর পর্ব। সিঁদুর দিয়ে দেবীর পা ছুঁইয়ে বিবাহিত নারীরা একে অপরের গালে ও কপালে মেখে দেন লাল সিঁদুর। ঢাকের তাল, উলুধ্বনি ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। সিঁদুর খেলার বর্ণিল রঙে যেন একমুহূর্তের জন্য ফিকে হয়ে এসেছিল বিদায়ের করুণ সুর।
শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমন্দিরে (শিব মন্দির) সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া স্নেহা সরকার বলেন, “আজকের দশমীর মধ্য দিয়ে আমাদের পুজোর দিনগুলো শেষ হয়ে গেল। এবার ছয় দিন ধরে উৎসব করেছি। সকালে অঞ্জলি দেওয়া ও সিঁদুর খেলা শেষ হলো। সিঁদুর খেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। আজ মায়ের বিদায়ের দিনে সবার মন খারাপ হলেও মনের মধ্যে একটা আনন্দ আছে–আসছে বছর মা আবার আসবেন।”
একই মণ্ডপের আরেক ভক্ত আরতি সরকার বলেন, “সিঁদুর খেলা শুধু প্রথা নয়, এটি আমাদের নারীদের পারস্পরিক সম্প্রীতির এক বড় মাধ্যম। একে অপরকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর মাধ্যমে আমরা মঙ্গল প্রার্থনা করি এবং পরিবারের সবার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
প্রতিবছরের মতো এবারও দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীতে বর্ণাঢ্য নৌ-শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই প্রতিমাগুলোকে সুসজ্জিত নৌকায় তোলা শুরু হয়। নদীপথে বর্ণিল শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নওগাঁ জেলায় মোট ৮৩৬টি মণ্ডপে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন