চিকিৎসকসংকট, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির চারপাশে ঝোপঝাড়, ভবনের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ও পোকামাকড়ের বাসা। রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসক না পাওয়া এবং ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সপ্তাহে এক-দুই দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য কেন্দ্রটি খোলা থাকে। ওষুধ নিতে গিয়েও অনেককে ফিরে আসতে হয়।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য এসব কেন্দ্র অনেক সময় চিকিৎসার প্রথম ভরসা।
একজন অসুস্থ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। রাষ্ট্রের টাকায় নির্মিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমস্যাটি শুধু বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শূন্য পদ পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভবন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবহেলায় পড়ে থাকবে, আর সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য দুর্ভোগ পোহাবে সেটা হতে পারে না।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চিকিৎসকসংকট, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির চারপাশে ঝোপঝাড়, ভবনের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ও পোকামাকড়ের বাসা। রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসক না পাওয়া এবং ওষুধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সপ্তাহে এক-দুই দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য কেন্দ্রটি খোলা থাকে। ওষুধ নিতে গিয়েও অনেককে ফিরে আসতে হয়।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য এসব কেন্দ্র অনেক সময় চিকিৎসার প্রথম ভরসা।
একজন অসুস্থ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। রাষ্ট্রের টাকায় নির্মিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমস্যাটি শুধু বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শূন্য পদ পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভবন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বেলকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবহেলায় পড়ে থাকবে, আর সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য দুর্ভোগ পোহাবে সেটা হতে পারে না।

আপনার মতামত লিখুন