সংবাদ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার, কার্যকর নজরদারি কোথায়?


প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার, কার্যকর নজরদারি কোথায়?

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এবং নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ সময় মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের বিভিন্ন নদীতে ইলিশ শিকার ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। পাবনার পদ্মা ও যমুনা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এবং পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা ও বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে। এতে ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর ও বেড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে মা ইলিশ ধরে তীরবর্তী বাড়ি ও অস্থায়ী বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আড়তের মাধ্যমে এসব মাছ অন্য বাজারে পাঠানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এভাবে ইলিশের অবাধ কেনাবেচা চললে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। শুধু অভিযান চালানোর ঘোষণা নয়, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ হয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এ সমস্যার পেছনে জেলেদের জীবিকার সংকটও রয়েছে। পাবনার কয়েকজন জেলের দাবি, সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে তাদের সংসার চলে না। আবার অনেকে সহায়তার তালিকায়ও নেই। ফলে অভাবের তাগিদে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। তাদের এই সংকট উপেক্ষা করলে টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তালিকায় প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ শিকারের পেছনে থাকা ক্রেতা, আড়তদার ও সরবরাহকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অবৈধ বাণিজ্যের পুরো চক্র বন্ধ হবে না। নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। জনবলসংকট কাটিয়ে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মা ইলিশ রক্ষা করার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থও জড়িত। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ কেনা থেকেও বিরত থাকতে হবে ভোক্তাদের। আইন প্রয়োগ, জেলেদের সহায়তা এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা কাগজে থাকলেও নদীতে মা ইলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ শিকার, কার্যকর নজরদারি কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এবং নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ সময় মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের বিভিন্ন নদীতে ইলিশ শিকার ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। পাবনার পদ্মা ও যমুনা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এবং পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা ও বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে। এতে ইলিশ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর ও বেড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে মা ইলিশ ধরে তীরবর্তী বাড়ি ও অস্থায়ী বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আড়তের মাধ্যমে এসব মাছ অন্য বাজারে পাঠানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এভাবে ইলিশের অবাধ কেনাবেচা চললে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। শুধু অভিযান চালানোর ঘোষণা নয়, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ হয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এ সমস্যার পেছনে জেলেদের জীবিকার সংকটও রয়েছে। পাবনার কয়েকজন জেলের দাবি, সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে তাদের সংসার চলে না। আবার অনেকে সহায়তার তালিকায়ও নেই। ফলে অভাবের তাগিদে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। তাদের এই সংকট উপেক্ষা করলে টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তালিকায় প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ শিকারের পেছনে থাকা ক্রেতা, আড়তদার ও সরবরাহকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অবৈধ বাণিজ্যের পুরো চক্র বন্ধ হবে না। নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। জনবলসংকট কাটিয়ে মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মা ইলিশ রক্ষা করার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থও জড়িত। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ কেনা থেকেও বিরত থাকতে হবে ভোক্তাদের। আইন প্রয়োগ, জেলেদের সহায়তা এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা কাগজে থাকলেও নদীতে মা ইলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত