সংবাদ

দুর্যোগসহনশীল কৃষিতে চাই বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা


মোজাফফর হোসেন
মোজাফফর হোসেন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

দুর্যোগসহনশীল কৃষিতে চাই বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা
বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ কৃষির প্রচলিত উৎপাদন ক্যালেন্ডারকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে

শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাতের সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ফসল বিন্যাস পুনর্গঠনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও দুর্যোগসহনশীল করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এখন শুধু বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। কখন, কোথায়, কোন ফসল এবং কোন জাত চাষ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে, সেই সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ কৃষির প্রচলিত উৎপাদন ক্যালেন্ডারকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে। কখনো অনিয়মিত বৃষ্টিতে বীজতলা তৈরি ও ধান রোপণ ব্যাহত হচ্ছে, কখনো আগাম বন্যায় পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। আবার অতিবৃষ্টির কারণে একটি ফসল কাটার পর সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উৎপাদন বাড়ানোর প্রচলিত ধারণার পাশাপাশি সময়ের সঠিক ব্যবহার, ফসলের জীবনকাল হ্রাস এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশের সীমিত আবাদযোগ্য জমিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। কিন্তু বছরে জমিতে কতটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, শুধু সেই হিসাব দিয়ে কৃষির সাফল্য বিচার করা যায় না। ফসলের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে মাটির উর্বরতা কমে গেলে, সেচের পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কিংবা একটি ফসলের সঙ্গে অন্য ফসলের সময়গত সংঘাত তৈরি হলে সেই নিবিড়তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না। তাই প্রয়োজন পরিকল্পিত শস্যনিবিড়তা, যেখানে জমির উৎপাদনক্ষমতা, মাটির স্বাস্থ্য, পানির প্রাপ্যতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারের চাহিদা এবং দুর্যোগের সম্ভাব্য সময় একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ফসল ও জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ জীবনকালসম্পন্ন ফসলের পরিবর্তে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত আবাদ করা গেলে ফসল সংগ্রহের সময় এগিয়ে আনা সম্ভব। এতে একদিকে আগাম বন্যা, খরা কিংবা মৌসুমি বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে ফসলের সংবেদনশীল পর্যায়ের সংঘাত কমানো যায়, অন্যদিকে একই জমিতে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়। তবে স্বল্প জীবনকাল মানেই সব পরিস্থিতিতে বেশি ফলন নয়। জাতের ফলনক্ষমতা, রোগবালাই প্রতিরোধ, স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন এবং বাজারমূল্য যাচাই করেই জাত নির্বাচন করতে হবে।

হাওরাঞ্চলের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সেখানে বোরো ধান কাটার আগেই আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অঞ্চলভেদে উপযোগী স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও আগাম পরিপক্ব ধানের জাত নির্বাচন, সময়মতো বপন বা রোপণ এবং দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বন্যাপ্রবণ এলাকায় পানিতে ডুবে থাকার সহনশীলতাসম্পন্ন জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় খরাসহিষ্ণু জাতকে উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, উপযুক্ত বন্যাপ্রবণ এলাকায় ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২ ও বিনা ধান ১১-এর মতো জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় সংশ্লিষ্ট পরিবেশের উপযোগী খরাসহিষ্ণু জাত বিবেচনা করা যায়। তবে কোনো জাতের সুপারিশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মাটি, পানি, মৌসুম ও কৃষি গবেষণার সর্বশেষ নির্দেশনা বিবেচনায় নিতে হবে।

শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির আরেকটি কার্যকর পথ হলো ফসলের জীবনকাল ও জমি খালি থাকার সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা। ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমি অনাবাদি থাকলে সেখানে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ডাল, তেলবীজ বা সবজি আবাদ করা যেতে পারে। ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে সরিষা, মুগডাল, অন্যান্য ডাল ও উপযোগী সবজি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পুষ্টি, কৃষকের আয় এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত ডালজাতীয় ফসল মাটিতে জৈবিকভাবে নাইট্রোজেন সংযোজনে ভূমিকা রাখে। তবে এ ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন সংযোজনের পরিমাণ নির্ভর করে ফসলের ধরন, অণুজীব, মাটির বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর। ফলে একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষের পরিবর্তে পরিকল্পিত ফসল বৈচিত্র‍্য কৃষির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে সব অঞ্চলের জন্য একই ফসল বিন্যাস কার্যকর হবে না। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ জমি, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এবং মধ্যাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমির সমস্যা এক নয়। কোথাও পানি দ্রুত নেমে যায়, কোথাও দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকে, আবার কোথাও সেচের পানির সংকটই প্রধান বাধা। তাই দেশের কৃষিকে অভিন্ন ক্যালেন্ডারে পরিচালনা না করে কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি এলাকার জন্য প্রধান ফসল, বিকল্প ফসল, উপযুক্ত জাত, বপন ও রোপণের সময়, সম্ভাব্য সংগ্রহকাল এবং দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কৃষি আবহাওয়ার তথ্য, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের সমন্বয়ে এ পরিকল্পনা নিয়মিত হালনাগাদ করা গেলে কৃষক আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ জন্য শুধু জাত নির্বাচন নয়, পুরো উৎপাদনব্যবস্থাকে সময়-সংবেদনশীল করে তুলতে হবে। সময়মতো বীজ সরবরাহ, উন্নতমানের বীজের প্রাপ্যতা, সেচ ও পানি নিষ্কাশন, কৃষিযন্ত্রের সহজলভ্যতা এবং ফসল কাটার পর দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষত দুর্যোগের আশঙ্কাপূর্ণ এলাকায় অল্প সময়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্বাইন হারভেস্টারসহ উপযোগী কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, খরাপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কেবল স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না; সেই জাতের বীজ সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং নির্ধারিত সময়ে ফসল সংগ্রহের সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় উপযোগী, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে পারে। বীজ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য চাহিদা অনুযায়ী আগাম বীজ প্রস্তুত ও সরবরাহের পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যদিকে সম্প্রসারণকর্মীরা কৃষককে সঠিক জাত নির্বাচন, ফসলের সময় নির্ধারণ এবং আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণে সহায়তা করতে পারেন। গবেষণাগারের প্রযুক্তি, মাঠের অভিজ্ঞতা এবং কৃষকের বাস্তব চাহিদার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই পরিকল্পনার সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাবে।

জাত উন্নয়নেও সময়ের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতির পাশাপাশি যেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী, সেখানে দ্রুত প্রজন্ম উন্নয়ন, জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী চিহ্নের সহায়তায় নির্বাচন এবং আধুনিক জিনগত বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উন্নয়নের গবেষণা জোরদার করা যেতে পারে। তবে দ্রুত জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি একাধিক স্থানে পরীক্ষা, ফলন যাচাই, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং কৃষকের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর জাত বলতে শুধু দ্রুত পরিপক্ব জাতকে বোঝায় না; বরং যে জাত নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে, সেটিই প্রকৃত অর্থে কৃষকের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

এই পরিকল্পনার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শস্যনিবিড়তা বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ, নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহার কিংবা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘ মেয়াদে কৃষিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ, ফসলের অবশিষ্টাংশের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডালজাতীয় ফসলের অন্তর্ভুক্তি, জৈব পদার্থের সংযোজন ও প্রয়োজনভিত্তিক সেচের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে এখন প্রয়োজন একটি বাস্তবায়নযোগ্য জাতীয় দুর্যোগসহনশীল শস্যনিবিড়তা কর্মপরিকল্পনা। এর আওতায় কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের তালিকা হালনাগাদ, বীজের চাহিদা নিরূপণ, কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং কৃষি আবহাওয়ার তথ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে হাওর, খরাপ্রবণ অঞ্চল, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা ও বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফলন, উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের নিট আয়, পানির ব্যবহার এবং দুর্যোগজনিত ক্ষতির পরিবর্তন মূল্যায়ন করা উচিত। সফল মডেলগুলো স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী অন্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়; কিন্তু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কৃষকের হাতে সঠিক জাত, সঠিক সময়ে বীজ, নির্ভরযোগ্য আবহাওয়ার তথ্য এবং উপযুক্ত উৎপাদন কৌশল পৌঁছে দেওয়া গেলে একই জমিতে উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে, অনাবাদি সময় কমবে এবং ফসলহানির ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হবে। শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু বছরে অধিকসংখ্যক ফসল উৎপাদনে নয়, বরং সীমিত জমি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে নিরাপদ, লাভজনক ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত। বাংলাদেশের কৃষিকে এখন উৎপাদননির্ভরতা থেকে পরিকল্পনানির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় না থেকে দুর্যোগের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন, জীবনকাল নির্ধারণ ও উৎপাদন ক্যালেন্ডার সাজানোই হবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে নয়, বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হোক আগামী দিনের কৃষির মূল দর্শন।

[লেখক: ব্যবস্থাপক (উদ্যান), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


দুর্যোগসহনশীল কৃষিতে চাই বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাতের সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ফসল বিন্যাস পুনর্গঠনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও দুর্যোগসহনশীল করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এখন শুধু বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। কখন, কোথায়, কোন ফসল এবং কোন জাত চাষ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে, সেই সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ কৃষির প্রচলিত উৎপাদন ক্যালেন্ডারকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে। কখনো অনিয়মিত বৃষ্টিতে বীজতলা তৈরি ও ধান রোপণ ব্যাহত হচ্ছে, কখনো আগাম বন্যায় পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। আবার অতিবৃষ্টির কারণে একটি ফসল কাটার পর সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উৎপাদন বাড়ানোর প্রচলিত ধারণার পাশাপাশি সময়ের সঠিক ব্যবহার, ফসলের জীবনকাল হ্রাস এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশের সীমিত আবাদযোগ্য জমিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণে শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। কিন্তু বছরে জমিতে কতটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, শুধু সেই হিসাব দিয়ে কৃষির সাফল্য বিচার করা যায় না। ফসলের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে মাটির উর্বরতা কমে গেলে, সেচের পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কিংবা একটি ফসলের সঙ্গে অন্য ফসলের সময়গত সংঘাত তৈরি হলে সেই নিবিড়তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না। তাই প্রয়োজন পরিকল্পিত শস্যনিবিড়তা, যেখানে জমির উৎপাদনক্ষমতা, মাটির স্বাস্থ্য, পানির প্রাপ্যতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারের চাহিদা এবং দুর্যোগের সম্ভাব্য সময় একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ফসল ও জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো অঞ্চলে দীর্ঘ জীবনকালসম্পন্ন ফসলের পরিবর্তে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত আবাদ করা গেলে ফসল সংগ্রহের সময় এগিয়ে আনা সম্ভব। এতে একদিকে আগাম বন্যা, খরা কিংবা মৌসুমি বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে ফসলের সংবেদনশীল পর্যায়ের সংঘাত কমানো যায়, অন্যদিকে একই জমিতে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায়। তবে স্বল্প জীবনকাল মানেই সব পরিস্থিতিতে বেশি ফলন নয়। জাতের ফলনক্ষমতা, রোগবালাই প্রতিরোধ, স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন এবং বাজারমূল্য যাচাই করেই জাত নির্বাচন করতে হবে।

হাওরাঞ্চলের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সেখানে বোরো ধান কাটার আগেই আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অঞ্চলভেদে উপযোগী স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও আগাম পরিপক্ব ধানের জাত নির্বাচন, সময়মতো বপন বা রোপণ এবং দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বন্যাপ্রবণ এলাকায় পানিতে ডুবে থাকার সহনশীলতাসম্পন্ন জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় খরাসহিষ্ণু জাতকে উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, উপযুক্ত বন্যাপ্রবণ এলাকায় ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২ ও বিনা ধান ১১-এর মতো জাত এবং খরাপ্রবণ এলাকায় সংশ্লিষ্ট পরিবেশের উপযোগী খরাসহিষ্ণু জাত বিবেচনা করা যায়। তবে কোনো জাতের সুপারিশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মাটি, পানি, মৌসুম ও কৃষি গবেষণার সর্বশেষ নির্দেশনা বিবেচনায় নিতে হবে।

শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির আরেকটি কার্যকর পথ হলো ফসলের জীবনকাল ও জমি খালি থাকার সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা। ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমি অনাবাদি থাকলে সেখানে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি ডাল, তেলবীজ বা সবজি আবাদ করা যেতে পারে। ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে সরিষা, মুগডাল, অন্যান্য ডাল ও উপযোগী সবজি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পুষ্টি, কৃষকের আয় এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত ডালজাতীয় ফসল মাটিতে জৈবিকভাবে নাইট্রোজেন সংযোজনে ভূমিকা রাখে। তবে এ ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন সংযোজনের পরিমাণ নির্ভর করে ফসলের ধরন, অণুজীব, মাটির বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর। ফলে একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষের পরিবর্তে পরিকল্পিত ফসল বৈচিত্র‍্য কৃষির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে সব অঞ্চলের জন্য একই ফসল বিন্যাস কার্যকর হবে না। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ জমি, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এবং মধ্যাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমির সমস্যা এক নয়। কোথাও পানি দ্রুত নেমে যায়, কোথাও দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকে, আবার কোথাও সেচের পানির সংকটই প্রধান বাধা। তাই দেশের কৃষিকে অভিন্ন ক্যালেন্ডারে পরিচালনা না করে কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি এলাকার জন্য প্রধান ফসল, বিকল্প ফসল, উপযুক্ত জাত, বপন ও রোপণের সময়, সম্ভাব্য সংগ্রহকাল এবং দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কৃষি আবহাওয়ার তথ্য, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের সমন্বয়ে এ পরিকল্পনা নিয়মিত হালনাগাদ করা গেলে কৃষক আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ জন্য শুধু জাত নির্বাচন নয়, পুরো উৎপাদনব্যবস্থাকে সময়-সংবেদনশীল করে তুলতে হবে। সময়মতো বীজ সরবরাহ, উন্নতমানের বীজের প্রাপ্যতা, সেচ ও পানি নিষ্কাশন, কৃষিযন্ত্রের সহজলভ্যতা এবং ফসল কাটার পর দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষত দুর্যোগের আশঙ্কাপূর্ণ এলাকায় অল্প সময়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্বাইন হারভেস্টারসহ উপযোগী কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, খরাপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কেবল স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না; সেই জাতের বীজ সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং নির্ধারিত সময়ে ফসল সংগ্রহের সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় উপযোগী, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে পারে। বীজ উৎপাদন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য চাহিদা অনুযায়ী আগাম বীজ প্রস্তুত ও সরবরাহের পরিকল্পনা করতে পারে। অন্যদিকে সম্প্রসারণকর্মীরা কৃষককে সঠিক জাত নির্বাচন, ফসলের সময় নির্ধারণ এবং আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণে সহায়তা করতে পারেন। গবেষণাগারের প্রযুক্তি, মাঠের অভিজ্ঞতা এবং কৃষকের বাস্তব চাহিদার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই পরিকল্পনার সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাবে।

জাত উন্নয়নেও সময়ের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতির পাশাপাশি যেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী, সেখানে দ্রুত প্রজন্ম উন্নয়ন, জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্তকারী চিহ্নের সহায়তায় নির্বাচন এবং আধুনিক জিনগত বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উন্নয়নের গবেষণা জোরদার করা যেতে পারে। তবে দ্রুত জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি একাধিক স্থানে পরীক্ষা, ফলন যাচাই, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং কৃষকের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর জাত বলতে শুধু দ্রুত পরিপক্ব জাতকে বোঝায় না; বরং যে জাত নির্দিষ্ট পরিবেশে নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে, সেটিই প্রকৃত অর্থে কৃষকের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

এই পরিকল্পনার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। শস্যনিবিড়তা বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ, নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহার কিংবা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘ মেয়াদে কৃষিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাই মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ, ফসলের অবশিষ্টাংশের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডালজাতীয় ফসলের অন্তর্ভুক্তি, জৈব পদার্থের সংযোজন ও প্রয়োজনভিত্তিক সেচের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে এখন প্রয়োজন একটি বাস্তবায়নযোগ্য জাতীয় দুর্যোগসহনশীল শস্যনিবিড়তা কর্মপরিকল্পনা। এর আওতায় কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক ফসল ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, স্বল্প জীবনকালসম্পন্ন ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাতের তালিকা হালনাগাদ, বীজের চাহিদা নিরূপণ, কৃষিযন্ত্রের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং কৃষি আবহাওয়ার তথ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে হাওর, খরাপ্রবণ অঞ্চল, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা ও বন্যাপ্রবণ নিম্নভূমিতে পরীক্ষামূলকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফলন, উৎপাদন ব্যয়, কৃষকের নিট আয়, পানির ব্যবহার এবং দুর্যোগজনিত ক্ষতির পরিবর্তন মূল্যায়ন করা উচিত। সফল মডেলগুলো স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী অন্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়; কিন্তু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কৃষকের হাতে সঠিক জাত, সঠিক সময়ে বীজ, নির্ভরযোগ্য আবহাওয়ার তথ্য এবং উপযুক্ত উৎপাদন কৌশল পৌঁছে দেওয়া গেলে একই জমিতে উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে, অনাবাদি সময় কমবে এবং ফসলহানির ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হবে। শস্যনিবিড়তা বৃদ্ধির প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু বছরে অধিকসংখ্যক ফসল উৎপাদনে নয়, বরং সীমিত জমি ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে নিরাপদ, লাভজনক ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত। বাংলাদেশের কৃষিকে এখন উৎপাদননির্ভরতা থেকে পরিকল্পনানির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় না থেকে দুর্যোগের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন, জীবনকাল নির্ধারণ ও উৎপাদন ক্যালেন্ডার সাজানোই হবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রকৃতির অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে নয়, বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াই হোক আগামী দিনের কৃষির মূল দর্শন।

[লেখক: ব্যবস্থাপক (উদ্যান), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত