সংবাদ

রুমিন ফারহানা আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী: রাশেদ খাঁন


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

রুমিন ফারহানা আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী: রাশেদ খাঁন
ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে রাশেদ খাঁন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমানে আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আগে তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনাও করতেন। তখন বিএনপির প্রতি তার সমর্থন ছিল। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির পক্ষে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে, এনসিপির বিরুদ্ধে এতটা জোরালো বক্তব্য দিয়েছিল—আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম, যে রুমিন ফারহানা শুধুমাত্র নমিনেশন না পাওয়ার কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যাচার এবং বিষোদগার করছেন। বলা যায় যে অনেকটা রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। গতকাল দেখলাম যে তিনি একজন ওসিকে বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের চোর’।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, রুমিন ফারহানা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করছে। ওসি যদি আওয়ামী লীগের চোর হয়েও থাকে, তাহলে তো রুমিন ফারহানার পক্ষে থাকার কথা। মানে, তার প্রয়োজনে তিনি আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করবেন, আর তার যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে, তখন তিনি আওয়ামী লীগ ট্যাগিং করে তাকে আসলে মাফ করবেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, থানায় রুমিন ফারহানা এক ধরনের মাফ করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি, তিনি বলছেন যে জনগণ তাকে নিরাপত্তা দিবে এবং জনগণ নিরাপত্তা তাকে দিচ্ছে। পুলিশের নাকি তার প্রয়োজন নাই। তো পুলিশের নিরাপত্তার প্রয়োজন না হলে তিনি থানায় কেন গিয়েছেন? কী অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন?

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে তারা আসলে মৌসুমী রাজনীতি করেন। মানে, যখন যেদিকে আসলে জোয়ার থাকে, সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মাঝখানে হয়তো মনে করেছিলেন যে বিএনপি যেহেতু আমাকে বহিষ্কার করেছে, বিএনপি হয়তো আর কখনোই আমাকে ফিরিয়ে নিবে না, সুতরাং এখন আওয়ামী লীগ সামনে ব্যাক করতে পারে এবং তিনি কয়েকটি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরছে। তিনি নিজেও বলেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আবারও ফিরবে।

রাশেদ খাঁন বলেন, রুমিন ফারহানা বর্তমানে আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু গতকাল হঠাৎ কী এমন হলো যে তিনি একজন ওসিকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিচ্ছেন, তাও তাকে চোর বলছেন?।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, কী এমন হলো? মানে, আওয়ামী লীগের সাথে বোঝাপড়ার কোনো ঘাটতি হয়েছে কি না? আমরা যতটুকু শুনেছি যে দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করার জন্য শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা প্রতিনিয়ত ফান্ডিং করছে। সেই ফান্ডিং আসলে কাদের কাছে যাচ্ছে, ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ। পাহাড়কে অশান্ত করতে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব দেশে পাহাড়ের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তৎপর রয়েছে। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। পাহাড়ের নিরীহ বাসিন্দারাও শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান। সরকার কোনোভাবেই এই বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না।

ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করছে বিএনপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলছেন। অথচ নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত এখনও ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছে। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে দলটি অপতৎপরতা শুরু করেছে।

জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তবে জামায়াত ও এনসিপির এসব কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করেনি। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না। তাই তাদের লংমার্চ নিয়ে সরকার কিছু ভাবছে না।

এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


রুমিন ফারহানা আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী: রাশেদ খাঁন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমানে আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আগে তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনাও করতেন। তখন বিএনপির প্রতি তার সমর্থন ছিল। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির পক্ষে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে, এনসিপির বিরুদ্ধে এতটা জোরালো বক্তব্য দিয়েছিল—আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম, যে রুমিন ফারহানা শুধুমাত্র নমিনেশন না পাওয়ার কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যাচার এবং বিষোদগার করছেন। বলা যায় যে অনেকটা রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। গতকাল দেখলাম যে তিনি একজন ওসিকে বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের চোর’।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, রুমিন ফারহানা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করছে। ওসি যদি আওয়ামী লীগের চোর হয়েও থাকে, তাহলে তো রুমিন ফারহানার পক্ষে থাকার কথা। মানে, তার প্রয়োজনে তিনি আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করবেন, আর তার যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে, তখন তিনি আওয়ামী লীগ ট্যাগিং করে তাকে আসলে মাফ করবেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, থানায় রুমিন ফারহানা এক ধরনের মাফ করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি, তিনি বলছেন যে জনগণ তাকে নিরাপত্তা দিবে এবং জনগণ নিরাপত্তা তাকে দিচ্ছে। পুলিশের নাকি তার প্রয়োজন নাই। তো পুলিশের নিরাপত্তার প্রয়োজন না হলে তিনি থানায় কেন গিয়েছেন? কী অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন?

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে তারা আসলে মৌসুমী রাজনীতি করেন। মানে, যখন যেদিকে আসলে জোয়ার থাকে, সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মাঝখানে হয়তো মনে করেছিলেন যে বিএনপি যেহেতু আমাকে বহিষ্কার করেছে, বিএনপি হয়তো আর কখনোই আমাকে ফিরিয়ে নিবে না, সুতরাং এখন আওয়ামী লীগ সামনে ব্যাক করতে পারে এবং তিনি কয়েকটি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরছে। তিনি নিজেও বলেছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আবারও ফিরবে।

রাশেদ খাঁন বলেন, রুমিন ফারহানা বর্তমানে আওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু গতকাল হঠাৎ কী এমন হলো যে তিনি একজন ওসিকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিচ্ছেন, তাও তাকে চোর বলছেন?।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, কী এমন হলো? মানে, আওয়ামী লীগের সাথে বোঝাপড়ার কোনো ঘাটতি হয়েছে কি না? আমরা যতটুকু শুনেছি যে দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করার জন্য শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা প্রতিনিয়ত ফান্ডিং করছে। সেই ফান্ডিং আসলে কাদের কাছে যাচ্ছে, ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ। পাহাড়কে অশান্ত করতে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব দেশে পাহাড়ের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তৎপর রয়েছে। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। পাহাড়ের নিরীহ বাসিন্দারাও শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান। সরকার কোনোভাবেই এই বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না।

ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করছে বিএনপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলছেন। অথচ নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত এখনও ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছে। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে দলটি অপতৎপরতা শুরু করেছে।

জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তবে জামায়াত ও এনসিপির এসব কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করেনি। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না। তাই তাদের লংমার্চ নিয়ে সরকার কিছু ভাবছে না।

এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত