অন্য কেউ আপনার ফোন ব্যবহার করলে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কথোপকথন দেখে ফেলার আশঙ্কা থাকে। পুরো অ্যাপ লক না করেও নির্দিষ্ট চ্যাট সুরক্ষিত রাখার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপে আছে Chat Lock ফিচার। এর মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তি বা গ্রুপের কথোপকথন আলাদা ফোল্ডারে রাখা যায়। চাইলে সেই ফোল্ডারটিও চ্যাট তালিকা থেকে আড়াল করা সম্ভব।
কোনো চ্যাটে Chat Lock চালু করলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে সরে গিয়ে Locked Chats ফোল্ডারে চলে যায়। ফোল্ডারটি খুলতে ফোনের নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। ফোন ও সেটিংস অনুযায়ী এটি হতে পারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন কিংবা পাসকোড।
ব্যক্তিগত কথোপকথনের পাশাপাশি গ্রুপ চ্যাটেও এই সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লক করা চ্যাটে নতুন মেসেজ এলে নোটিফিকেশনে সাধারণত প্রেরকের নাম ও বার্তার বিস্তারিত দেখা যায় না।
তবে Chat Lock চালু করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয় না। লক করা চ্যাটের কেউ কল করলে তা স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে।
কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে যে চ্যাটটি লক করতে চান, সেটিতে প্রবেশ করুন।
২. চ্যাটের উপরে থাকা ব্যক্তি বা গ্রুপের নামের ওপর ট্যাপ করে Chat Info পেজ খুলুন।
৩. নিচের দিকে স্ক্রল করে Chat Lock অপশনটি নির্বাচন করুন।
৪. ফিচারটি চালু করে ফোনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন বা পাসকোড দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করুন।
৫. প্রক্রিয়া শেষ হলে চ্যাটটি Locked Chats ফোল্ডারে চলে যাবে।
কিছু ফোন ও অ্যাপ সংস্করণে চ্যাট তালিকা থেকে কথোপকথনের ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ দিয়েও লক করার বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। মেনুর অবস্থান ডিভাইসভেদে আলাদা হতে পারে।
চ্যাট লক করার পাশাপাশি Locked Chats ফোল্ডারটিও মূল তালিকা থেকে সরিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য Secret Code তৈরি করতে হবে।
১. হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট তালিকায় নিচের দিকে সোয়াইপ করে Locked Chats ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।
২. ফোল্ডারের সেটিংস বা তিনটি ডটের মেনু থেকে Chat Lock Settings খুলুন।
৩. Secret Code অপশন নির্বাচন করুন।
৪. সহজে অনুমান করা যায় না, এমন একটি কোড তৈরি করুন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি নিশ্চিত করুন।
৫. সেটিংসে ফিরে Hide Locked Chats অপশনটি চালু করুন।
এবার Locked Chats ফোল্ডারটি সাধারণ চ্যাট তালিকায় দেখা যাবে না। সেটি খুঁজে পেতে হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ বারে তৈরি করা Secret Code লিখতে হবে। এরপর ফোল্ডারটি খুলে পরিচয় যাচাই করে চ্যাটে প্রবেশ করা যাবে।
সতর্কতা: Secret Code ভুলে গেলে লুকানো চ্যাট খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে। কোড পুনরুদ্ধার বা রিসেটের বিকল্প ব্যবহারের আগে নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নিন। নির্দিষ্ট রিসেট প্রক্রিয়ায় লক করা চ্যাটের মেসেজ ও মিডিয়া মুছে যেতে পারে।
Locked Chats ফোল্ডার লুকানো না থাকলে চ্যাট তালিকায় নিচের দিকে সোয়াইপ করে সেটি খুঁজে পাওয়া যায়। ফোল্ডারে ট্যাপ করে ফোনের নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করলেই ভেতরের কথোপকথন দেখা যাবে।
ফোল্ডারটি লুকানো থাকলে প্রথমে সার্চ বারে Secret Code লিখতে হবে। এরপর Locked Chats ফোল্ডারটি সামনে এলে সেটিতে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় চ্যাট খুলতে পারবেন।
একই ফোন পরিবারের অন্য সদস্য বা বন্ধুরা ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত কথোপকথন আলাদা রাখতে Chat Lock কাজে আসতে পারে। তবে এটি পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ লক করে না এবং লক করা চ্যাটের কলও বন্ধ করে না।
তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ফোনে স্ক্রিন লক চালু রাখুন। Secret Code অন্যের সঙ্গে ভাগ করবেন না এবং এমন কোড ব্যবহার করুন, যা সহজে অনুমান করা সম্ভব নয়। ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারটির মেনু বা ব্যবহারপদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
অন্য কেউ আপনার ফোন ব্যবহার করলে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কথোপকথন দেখে ফেলার আশঙ্কা থাকে। পুরো অ্যাপ লক না করেও নির্দিষ্ট চ্যাট সুরক্ষিত রাখার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপে আছে Chat Lock ফিচার। এর মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তি বা গ্রুপের কথোপকথন আলাদা ফোল্ডারে রাখা যায়। চাইলে সেই ফোল্ডারটিও চ্যাট তালিকা থেকে আড়াল করা সম্ভব।
কোনো চ্যাটে Chat Lock চালু করলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপের সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে সরে গিয়ে Locked Chats ফোল্ডারে চলে যায়। ফোল্ডারটি খুলতে ফোনের নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। ফোন ও সেটিংস অনুযায়ী এটি হতে পারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন কিংবা পাসকোড।
ব্যক্তিগত কথোপকথনের পাশাপাশি গ্রুপ চ্যাটেও এই সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লক করা চ্যাটে নতুন মেসেজ এলে নোটিফিকেশনে সাধারণত প্রেরকের নাম ও বার্তার বিস্তারিত দেখা যায় না।
তবে Chat Lock চালু করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয় না। লক করা চ্যাটের কেউ কল করলে তা স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে।
কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে যে চ্যাটটি লক করতে চান, সেটিতে প্রবেশ করুন।
২. চ্যাটের উপরে থাকা ব্যক্তি বা গ্রুপের নামের ওপর ট্যাপ করে Chat Info পেজ খুলুন।
৩. নিচের দিকে স্ক্রল করে Chat Lock অপশনটি নির্বাচন করুন।
৪. ফিচারটি চালু করে ফোনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন বা পাসকোড দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করুন।
৫. প্রক্রিয়া শেষ হলে চ্যাটটি Locked Chats ফোল্ডারে চলে যাবে।
কিছু ফোন ও অ্যাপ সংস্করণে চ্যাট তালিকা থেকে কথোপকথনের ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ দিয়েও লক করার বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। মেনুর অবস্থান ডিভাইসভেদে আলাদা হতে পারে।
চ্যাট লক করার পাশাপাশি Locked Chats ফোল্ডারটিও মূল তালিকা থেকে সরিয়ে রাখতে পারেন। এ জন্য Secret Code তৈরি করতে হবে।
১. হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট তালিকায় নিচের দিকে সোয়াইপ করে Locked Chats ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।
২. ফোল্ডারের সেটিংস বা তিনটি ডটের মেনু থেকে Chat Lock Settings খুলুন।
৩. Secret Code অপশন নির্বাচন করুন।
৪. সহজে অনুমান করা যায় না, এমন একটি কোড তৈরি করুন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি নিশ্চিত করুন।
৫. সেটিংসে ফিরে Hide Locked Chats অপশনটি চালু করুন।
এবার Locked Chats ফোল্ডারটি সাধারণ চ্যাট তালিকায় দেখা যাবে না। সেটি খুঁজে পেতে হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ বারে তৈরি করা Secret Code লিখতে হবে। এরপর ফোল্ডারটি খুলে পরিচয় যাচাই করে চ্যাটে প্রবেশ করা যাবে।
সতর্কতা: Secret Code ভুলে গেলে লুকানো চ্যাট খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে। কোড পুনরুদ্ধার বা রিসেটের বিকল্প ব্যবহারের আগে নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নিন। নির্দিষ্ট রিসেট প্রক্রিয়ায় লক করা চ্যাটের মেসেজ ও মিডিয়া মুছে যেতে পারে।
Locked Chats ফোল্ডার লুকানো না থাকলে চ্যাট তালিকায় নিচের দিকে সোয়াইপ করে সেটি খুঁজে পাওয়া যায়। ফোল্ডারে ট্যাপ করে ফোনের নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করলেই ভেতরের কথোপকথন দেখা যাবে।
ফোল্ডারটি লুকানো থাকলে প্রথমে সার্চ বারে Secret Code লিখতে হবে। এরপর Locked Chats ফোল্ডারটি সামনে এলে সেটিতে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় চ্যাট খুলতে পারবেন।
একই ফোন পরিবারের অন্য সদস্য বা বন্ধুরা ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত কথোপকথন আলাদা রাখতে Chat Lock কাজে আসতে পারে। তবে এটি পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ লক করে না এবং লক করা চ্যাটের কলও বন্ধ করে না।
তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ফোনে স্ক্রিন লক চালু রাখুন। Secret Code অন্যের সঙ্গে ভাগ করবেন না এবং এমন কোড ব্যবহার করুন, যা সহজে অনুমান করা সম্ভব নয়। ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারটির মেনু বা ব্যবহারপদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন