অনিয়ন্ত্রিত যানজট, মারাত্মক পরিবেশদূষণ, ভয়াবহ জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়নের তীব্র ধাক্কায় চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র গাজীপুর। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া এই বহুমুখী নাগরিক সংকট নিরসনে আগামী ১০০ বছরের অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও নগরায়ণের বাস্তব চাপ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে একটি টেকসই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
একই সঙ্গে বহুল আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন করার পাশাপাশি ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সরাসরি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণ এবং ঢাকা-গাজীপুর রুটে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘বিআরটি প্রকল্পের সমস্যা ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বক্তারা এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হকের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান।
মূল প্রবন্ধে শিল্পবর্জ্য, অনিয়ন্ত্রিত কলকারখানা, মাদক, কিশোর গ্যাং, জলাবদ্ধতা, বনভূমি দখল ও জলাভূমি ভরাটসহ নানা সংকট তুলে ধরে বিআরটি প্রকল্প বাতিল বা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, গাজীপুরবাসীর দীর্ঘ ১৪ বছরের দুর্ভোগ বিবেচনা করে এই প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা দরকার।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, "দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানকার মানুষ গাজীপুরে বসবাস করেন না। জনবহুল এই জেলার উন্নয়নে জনসংখ্যা ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।"
বিআরটি প্রকল্পের সূচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, "শুরু থেকেই পুলিশ সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে মাদকের আগ্রাসন কমানো সম্ভব।"
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জেলার ভয়াবহ চিত্র ফুটে তুলে বলেন, "গাজীপুরের বর্তমান অবস্থা খুবই বিপন্ন। পরিবেশ রক্ষা করে এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ জেলায় বসবাস করায় জনসংখ্যার চাপও বাড়ছে। তাই আগামী ১০০ বছরের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় একসময় গাজীপুর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।"
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বিআরটি প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা জানান। তিনি বলেন, "যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হলেও এতে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা দরকার। উত্তরা থেকে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে কালীগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুরমুখী সংযোগ তৈরি করা হলে যান চলাচলে সুবিধা হতে পারতো।"
অন্যদিকে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী বিকল্প যোগাযোগ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "বিআরটি প্রকল্পের পরিবর্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।"
তিনি গাজীপুরে একটি নতুন পার্ক নির্মাণ, পুলিশের সংস্কার, ভাড়া কমানো, কাপাসিয়া পৌরসভা গঠন এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার জন্য বিশেষ দাবি জানান। গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে গাজীপুর-৩, সংরক্ষিত আসনসহ স্থানীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
অনিয়ন্ত্রিত যানজট, মারাত্মক পরিবেশদূষণ, ভয়াবহ জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়নের তীব্র ধাক্কায় চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র গাজীপুর। ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া এই বহুমুখী নাগরিক সংকট নিরসনে আগামী ১০০ বছরের অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও নগরায়ণের বাস্তব চাপ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে একটি টেকসই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
একই সঙ্গে বহুল আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন করার পাশাপাশি ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সরাসরি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণ এবং ঢাকা-গাজীপুর রুটে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘বিআরটি প্রকল্পের সমস্যা ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বক্তারা এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হকের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান।
মূল প্রবন্ধে শিল্পবর্জ্য, অনিয়ন্ত্রিত কলকারখানা, মাদক, কিশোর গ্যাং, জলাবদ্ধতা, বনভূমি দখল ও জলাভূমি ভরাটসহ নানা সংকট তুলে ধরে বিআরটি প্রকল্প বাতিল বা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, গাজীপুরবাসীর দীর্ঘ ১৪ বছরের দুর্ভোগ বিবেচনা করে এই প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা দরকার।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, "দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানকার মানুষ গাজীপুরে বসবাস করেন না। জনবহুল এই জেলার উন্নয়নে জনসংখ্যা ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।"
বিআরটি প্রকল্পের সূচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, "শুরু থেকেই পুলিশ সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে মাদকের আগ্রাসন কমানো সম্ভব।"
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জেলার ভয়াবহ চিত্র ফুটে তুলে বলেন, "গাজীপুরের বর্তমান অবস্থা খুবই বিপন্ন। পরিবেশ রক্ষা করে এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ জেলায় বসবাস করায় জনসংখ্যার চাপও বাড়ছে। তাই আগামী ১০০ বছরের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় একসময় গাজীপুর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।"
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বিআরটি প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা জানান। তিনি বলেন, "যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হলেও এতে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা দরকার। উত্তরা থেকে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে কালীগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুরমুখী সংযোগ তৈরি করা হলে যান চলাচলে সুবিধা হতে পারতো।"
অন্যদিকে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী বিকল্প যোগাযোগ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "বিআরটি প্রকল্পের পরিবর্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।"
তিনি গাজীপুরে একটি নতুন পার্ক নির্মাণ, পুলিশের সংস্কার, ভাড়া কমানো, কাপাসিয়া পৌরসভা গঠন এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার জন্য বিশেষ দাবি জানান। গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে গাজীপুর-৩, সংরক্ষিত আসনসহ স্থানীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন