গাজীপুরের একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়। অথচ সেখানেই যদি তারা নির্যাতনের শিকার হয়, তা মেনে নেওয়া যায় না। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সমস্যাটির ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকদের মতে, তদারকির অভাব, জবাবদিহি না থাকা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুরা দীর্ঘ সময় পরিবারের বাইরে থাকে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।
অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শিক্ষককে শুধু চাকরিচ্যুত করা হয়। কখনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে অপরাধের যথাযথ বিচার হয় না। এমন প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে অপরাধ গোপন করা চলবে না।
কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ বোর্ড শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই চলবে না। এসব কমিটি কার্যকর কি না, কমিটিতে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থাও রাখতে হবে। শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা যেন নির্ভয়ে প্রতিকার চাইতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। মাদ্রাসার ধরন বা পরিচালনাপদ্ধতি যা-ই হোক, সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সব মাদ্রাসার নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগে যাচাই এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারই হতে হবে প্রধান বিবেচনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ আড়াল করা কোনো সমাধান নয়। প্রতিটি শিশুর নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়। অথচ সেখানেই যদি তারা নির্যাতনের শিকার হয়, তা মেনে নেওয়া যায় না। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।
মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সমস্যাটির ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকদের মতে, তদারকির অভাব, জবাবদিহি না থাকা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তির সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুরা দীর্ঘ সময় পরিবারের বাইরে থাকে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।
অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শিক্ষককে শুধু চাকরিচ্যুত করা হয়। কখনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। এতে অপরাধের যথাযথ বিচার হয় না। এমন প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে অপরাধ গোপন করা চলবে না।
কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ বোর্ড শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই চলবে না। এসব কমিটি কার্যকর কি না, কমিটিতে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থাও রাখতে হবে। শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা যেন নির্ভয়ে প্রতিকার চাইতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। মাদ্রাসার ধরন বা পরিচালনাপদ্ধতি যা-ই হোক, সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সব মাদ্রাসার নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগে যাচাই এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারই হতে হবে প্রধান বিবেচনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। অপরাধ আড়াল করা কোনো সমাধান নয়। প্রতিটি শিশুর নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে।

আপনার মতামত লিখুন