পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের মিলনমেলা, মাটির অমোঘ টান। তবে এবারের চৈত্রসংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন বছরের ভোরে রমনার বটমূল কিংবা চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার রঙিন ভিড়ে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
লাল-সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হাজারো মানুষের মিছিলে দেখা মিলল এমন এক পরিবারের, যারা জন্মসূত্রে এদেশি না হলেও হৃদস্পন্দনে পুরোদস্তুর বাঙালি। তারা হলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ‘Joya Apu Tries Anything’ খ্যাত জয়া, তার স্বামী জ্যাকব এবং তাদের চঞ্চল পাঁচ সন্তান। ভিনদেশি এই দম্পতি ও তাদের সন্তানদের সরব উপস্থিতি এবারের বৈশাখী আমেজকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।
উৎসবের এই বিশেষ মুহূর্তে সংবাদের সাথে কথা হয় সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলর জয়ার সাথে, যার হাত ধরে এই জনপ্রিয় ‘Joya Apu Tries Anything’ এর যাত্রা শুরু।
পরনের দেশি পোশাকে একগাল হাসি নিয়ে জয়া বলেন, "আমাদের খুব ভালো লাগছে! আমরা তো প্রতি বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। বৈশাখের এই মেলা, মানুষের অকৃত্রিম আনন্দ আর চারপাশের এই বর্ণিল রঙ; সব মিলিয়ে আমরা খুব মজা করি। আমাদের বাচ্চারাও এই উৎসব ভীষণ পছন্দ করে।"
তাদের চোখে-মুখে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি যে মুগ্ধতা ছিল, তা যেকোনো দেশপ্রেমিক বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাবে। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "পহেলা বৈশাখ আমাদের কাছে এখন নিজেদের উৎসবের মতো হয়ে গেছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি এই দিনে সবাই মিলে বের হতে। বাংলাদেশের এই সংস্কৃতি আমাদের হৃদয়ের খুব কাছের।"
শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই দম্পতি সন্তানদের নিয়ে মেতে ওঠেন বৈশাখী মেলার চিরায়ত আনন্দে। মেলার ধুলোবালি আর ঢাকের শব্দের মাঝে তারা ঢুকে পড়েন খাবারের স্টলে। জয়া আমেরিকা থেকে আর জ্যাকব জার্মানি থেকে এলেও তাদের রুচি এখন পুরোপুরি এদেশি ঝাল-মসলার অনুরাগী। ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতেই দোকানদারকে বলতে শোনা যায়, "মামা, একটু ঝাল বাড়িয়ে দিয়েন! ঝাল ফুচকা আমাদের খুব পছন্দ।"
ভিনদেশি নাগরিক হয়েও এমন আটপৌরে বাঙালিয়ানা দেখে মেলায় আসা দর্শনার্থীরাও বেশ কৌতূহলী ও আনন্দিত হয়ে ওঠেন।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আটলান্টিক পাড়ের মানুষ হয়ে তারা কীভাবে এই বদ্বীপের সাথে এতটা নিবিড়ভাবে মিশে গেলেন। জয়া বর্তমানে এদেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং তার পাঁচ সন্তানের সবার জন্মই এই বাংলার মাটিতে। তারা এখানে কেবল বসবাসই করছেন না, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় একটি ফাউন্ডেশনও পরিচালনা করছেন।
এদেশকে ভালোবেসে থেকে যাওয়ার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে জয়া জানান, "আমরা অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে থাকি। এদেশকে আমরা সত্যি ভালোবাসি। তাই আমি আমেরিকা থেকে আর জ্যাকব জার্মানি থেকে এসে এখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা চাই এই মাটির মানুষের কল্যাণে কিছু করতে।"
জ্যাকব-জয়ার মতো মানুষেরা আজ যেন প্রমাণ করে দিলেন, উৎসব আর ভালোবাসার টানে দেশপ্রেম কেবল মানচিত্রের সীমানায় আটকে থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক বৈশ্বিক সম্প্রীতির সেতু।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের মিলনমেলা, মাটির অমোঘ টান। তবে এবারের চৈত্রসংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন বছরের ভোরে রমনার বটমূল কিংবা চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার রঙিন ভিড়ে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।
লাল-সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হাজারো মানুষের মিছিলে দেখা মিলল এমন এক পরিবারের, যারা জন্মসূত্রে এদেশি না হলেও হৃদস্পন্দনে পুরোদস্তুর বাঙালি। তারা হলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ‘Joya Apu Tries Anything’ খ্যাত জয়া, তার স্বামী জ্যাকব এবং তাদের চঞ্চল পাঁচ সন্তান। ভিনদেশি এই দম্পতি ও তাদের সন্তানদের সরব উপস্থিতি এবারের বৈশাখী আমেজকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।
উৎসবের এই বিশেষ মুহূর্তে সংবাদের সাথে কথা হয় সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলর জয়ার সাথে, যার হাত ধরে এই জনপ্রিয় ‘Joya Apu Tries Anything’ এর যাত্রা শুরু।
পরনের দেশি পোশাকে একগাল হাসি নিয়ে জয়া বলেন, "আমাদের খুব ভালো লাগছে! আমরা তো প্রতি বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। বৈশাখের এই মেলা, মানুষের অকৃত্রিম আনন্দ আর চারপাশের এই বর্ণিল রঙ; সব মিলিয়ে আমরা খুব মজা করি। আমাদের বাচ্চারাও এই উৎসব ভীষণ পছন্দ করে।"
তাদের চোখে-মুখে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি যে মুগ্ধতা ছিল, তা যেকোনো দেশপ্রেমিক বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাবে। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "পহেলা বৈশাখ আমাদের কাছে এখন নিজেদের উৎসবের মতো হয়ে গেছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি এই দিনে সবাই মিলে বের হতে। বাংলাদেশের এই সংস্কৃতি আমাদের হৃদয়ের খুব কাছের।"
শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই দম্পতি সন্তানদের নিয়ে মেতে ওঠেন বৈশাখী মেলার চিরায়ত আনন্দে। মেলার ধুলোবালি আর ঢাকের শব্দের মাঝে তারা ঢুকে পড়েন খাবারের স্টলে। জয়া আমেরিকা থেকে আর জ্যাকব জার্মানি থেকে এলেও তাদের রুচি এখন পুরোপুরি এদেশি ঝাল-মসলার অনুরাগী। ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতেই দোকানদারকে বলতে শোনা যায়, "মামা, একটু ঝাল বাড়িয়ে দিয়েন! ঝাল ফুচকা আমাদের খুব পছন্দ।"
ভিনদেশি নাগরিক হয়েও এমন আটপৌরে বাঙালিয়ানা দেখে মেলায় আসা দর্শনার্থীরাও বেশ কৌতূহলী ও আনন্দিত হয়ে ওঠেন।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আটলান্টিক পাড়ের মানুষ হয়ে তারা কীভাবে এই বদ্বীপের সাথে এতটা নিবিড়ভাবে মিশে গেলেন। জয়া বর্তমানে এদেশেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং তার পাঁচ সন্তানের সবার জন্মই এই বাংলার মাটিতে। তারা এখানে কেবল বসবাসই করছেন না, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় একটি ফাউন্ডেশনও পরিচালনা করছেন।
এদেশকে ভালোবেসে থেকে যাওয়ার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে জয়া জানান, "আমরা অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে থাকি। এদেশকে আমরা সত্যি ভালোবাসি। তাই আমি আমেরিকা থেকে আর জ্যাকব জার্মানি থেকে এসে এখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা চাই এই মাটির মানুষের কল্যাণে কিছু করতে।"
জ্যাকব-জয়ার মতো মানুষেরা আজ যেন প্রমাণ করে দিলেন, উৎসব আর ভালোবাসার টানে দেশপ্রেম কেবল মানচিত্রের সীমানায় আটকে থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক বৈশ্বিক সম্প্রীতির সেতু।

আপনার মতামত লিখুন