গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস জানান, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ফোরকান মোল্লার ভাই আবদুল জব্বার এবং কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান প্রাথমিকভাবে মরদেহটি ফোরকানের বলে শনাক্ত করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তিই ফোরকান মোল্লা বলে ধারণা করেছিল পুলিশ ও তার পরিবার। সেতু থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধারের সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, ফোরকান মোল্লা গত সোমবার একটি ভাড়া করা প্রাইভেট কারে করে পদ্মা সেতুতে যান। সেখানে গাড়ি থামিয়ে ফুটপাতে নিজের মুঠোফোনটি রেখে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। উদ্ধার হওয়া মুঠোফোনটি ফোরকানের বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
গত ৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন ফোরকান।
নৌ পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মরদেহটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন