সামান্য বৃষ্টি হলেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। কাদা ও খানাখন্দের কারণে রিকশা ও অটোরিকশা চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বাগ্বিতণ্ডা চলছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭৩৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে পাকা রাস্তা মাত্র ৩২০ কিলোমিটার, আর বাকি ৪১৯ কিলোমিটারই কাঁচা। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো রাস্তা পাকাকরণের কাজ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের বাসিন্দা হীরামনি বেগম বলেন, ‘রাস্তায় কাদার কারণে কোনো ভ্যান বা রিকশা স্কুলে যেতে চায় না। ২০ টাকার ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। তাতেও মাঝে মাঝে নেমে গাড়ি ঠেলা লাগে। প্রতিদিন সন্তানদের কাদা মাড়িয়ে স্কুলে নিতে গিয়ে কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
একই সমস্যার কথা জানালেন বেলকা গ্রামের শিক্ষার্থী আইরিন বেগম। সে জানায়, কাঁচা রাস্তা দিয়ে একবার স্কুলে গেলে কাদা লেগে ইউনিফর্ম এমনভাবে নষ্ট হয় যে পরদিন আর তা পরা যায় না। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বর্ষার দিনে স্কুলে যেতে চায় না।
পৌর এলাকার চিত্রও প্রায় একই রকম। কলেজপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে। খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতায় শহরে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আগে কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল, যা এখন প্রায় বন্ধ। ফলে প্রতিবছর রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, পাকা রাস্তার চাহিদা প্রতিবছর পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে কাঁচা রাস্তা মেরামতের জন্য আগের মতো বিশেষ কোনো প্রকল্প নেই। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পেলে কাঁচা রাস্তার পরিমাণ কমানো সম্ভব নয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, ‘উন্নয়নবঞ্চিত সুন্দরগঞ্জবাসীর প্রধান সমস্যা কাঁচা রাস্তা ও নদীভাঙন। আমি জাতীয় সংসদে এই সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। আশা করছি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’
আপনার মতামত লিখুন