সংবাদ

শরতের আবহে লাল শাপলা ও পদ্মে সেজেছে নরসিংদীর বিল

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বর্ষা বিদায় নিয়ে এসেছে শরৎ। আর শরতের শুরুতেই নরসিংদীর বিলগুলো সেজেছে লাল শাপলা ও পদ্মফুলের অপরূপ সাজে। অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারণে জলজ ফুলের রানী হিসেবে পরিচিত পদ্ম ও লাল শাপলার এই সমারোহ দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন বিলে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত জুলাই থেকে বিলে শাপলা ফুটতে শুরু করে এবং নভেম্বর পর্যন্ত এর স্থায়িত্ব থাকে। জেলার শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের চিনাদী বিল, জয়নগর ইউনিয়নের ছয়মাইয়া বিল ও দড়িপুরা গ্রামের কাফায়ারটেক বিল এখন ফুলের চাদরে ঢাকা। এ ছাড়া পলাশ উপজেলার রাবান ও কুরাইতলি বিলেও দেখা মিলছে এই জলজ ফুলের।সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও পানির ওপর লাল শাপলার ঘন আস্তরণ, আবার কোথাও সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সাদা ও গোলাপি পদ্ম। দর্শনার্থীরা ডিঙি নৌকায় চড়ে বিলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং ক্যামেরাবন্দী করছেন মুগ্ধতার মুহূর্তগুলো।চিনাদী বিলে ঘুরতে আসা আবির হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর বন্ধুদের সঙ্গে এখানে ঘুরতে আসি। বিলের এই সৌন্দর্য দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’ তবে শহীদ আসাদ কলেজের শিক্ষার্থী মাহিন নৌকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।বিলের এই রূপ স্থানীয়দের জন্য আয়ের পথও তৈরি করেছে। সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা সুজিত এখন পর্যটকদের নৌকা ঘুরিয়ে দেখান। তিনি জানান, প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ টাকা বা জনপ্রতি ৫০ টাকা হারে তাঁর ভালোই আয় হচ্ছে। স্থানীয় শিশু মারুফ জানায়, দর্শনার্থীদের জন্য ফুল তুলে দিয়ে সেও কিছু বকশিশ পায়।তবে জলাশয় ভরাটের কারণে বিলের জৌলুস কমছে বলে মনে করেন আতাবুর রহমান সানি। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী করতে এবং পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এই বিলগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন।শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রকৃতিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আমরা পর্যটকদের অনুরোধ জানাব, তারা যেন বিলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকেন।’

শরতের আবহে লাল শাপলা ও পদ্মে সেজেছে নরসিংদীর বিল