মালয়েশীয় ফল ‘রামবুটান’ চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কৃষক মজনু মিয়া। লটকনের জন্য বিখ্যাত এই জনপদে এখন ভিনদেশি রামবুটান চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে শখের বশে আনা কয়েকটি বীজ থেকে আজ তিনি বছরে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।
মজনু মিয়া শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের অষ্টআনী গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়া থেকে ফেরার সময় খাওয়ার জন্য কিছু রামবুটান সঙ্গে এনেছিলেন। বাড়ির আঙিনায় সেই ফলের বীজ ফেলার পর চারা গজালে শুরু হয় তার নতুন যাত্রা। গত ২০ বছরে তিনি ২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলের বিশাল বাগান।
সরেজমিনে রোববার (২ আগস্ট) মজনু মিয়ার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লটকন ও কাঁঠালের পাশাপাশি থোকায় থোকায় ঝুলে আছে লাল রঙের রামবুটান। তার বাগানে বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রামবুটান গাছ আছে ১২টি। বড় তিনটি গাছ থেকে এবার বিপুল পরিমাণ ফলন পেয়েছেন তিনি। বাকি গাছগুলোর ফল ইতিমধ্যে বিক্রি শেষ হয়েছে।
মজনু মিয়া জানান, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রামবুটান ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়, যা খুচরা বাজারে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এ বছর শুধু রামবুটান বিক্রি করেই তার আয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এই আয় দিয়ে তার দুই ছেলে ও চার মেয়ের পড়াশোনাসহ সংসারের যাবতীয় খরচ অনায়াসে চলে যাচ্ছে।
রামবুটানের পাশাপাশি তিনি মালয়েশিয়ার জাতীয় ফল ডুরিয়ান এবং থাইল্যান্ডের ম্যাঙ্গোস্টিন চাষে সফল হয়েছেন। আগামী বছর এসব গাছেও ফল আসবে বলে তিনি আশা করছেন। মজনু মিয়া বলেন, ‘বেলে মাটিতে এই ফলের ফলন ভালো হয়। সামান্য গোবর সার ব্যবহার করলেই গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।’
স্থানীয় কৃষক হারিস মিয়া জানান, মজনু মিয়ার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এখন রামবুটান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক কৃষক বাণিজ্যিকভবে এই ফলের চাষ শুরু করেছেন।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, জেলাজুড়ে বর্তমানে ১৯ হেক্টর জমিতে রামবুটানের আবাদ হচ্ছে। রামবুটান লিচু পরিবারের একটি সুস্বাদু ফল। বাংলাদেশের আবহাওয়া এই চাষের জন্য অনুকূল। কৃষি বিভাগ এই ফলের আবাদ বৃদ্ধিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন