সংবাদ

তিস্তাপাড়ের মানুষের চাওয়া–জিও ব্যাগ নয়, বরং স্থায়ী নদী শাসন


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

তিস্তাপাড়ের মানুষের চাওয়া–জিও ব্যাগ নয়, বরং স্থায়ী নদী শাসন
সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আমেনা বেগম। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিজানী ভোরের পাখি এলাকার ৭৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, 'বাবা, আমার মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নাই। তিন শতক জায়গায় টিনের ছাপরা দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ সর্বনাশা তিস্তা নদী সব কেড়ে নিল। আমি এখন কোথায় থাকব?' বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। আমেনা বেগমের মতো একই আকুতি ৮০ বছর বয়সী আব্দুল করিমের। তার তিনটি ঘরই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'তিস্তা সব খাইয়া ফেলাইছে। আমি কই যামু, কী খামু বাবা? আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।'

আমেনা বা করিম একা নন; গত কয়েক দিনে তিস্তার তীব্র ভাঙনে কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিজানী, ভোরের পাখি ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি, বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, গাছপালা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ ঘরের টিন খুলে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা গাছের খুঁটি টেনে তুলছেন শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে। শিশুদের কান্না আর বয়স্কদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে নদীপাড়ের বাতাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে দায়সারাভাবে কিছু ‘জিও ব্যাগ’ ফেলে কাজ শেষ করা হয়। এতে ভাঙন সাময়িক থামলেও বর্ষা এলেই আবার শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ভুক্তভোগীদের দাবি, 'আমরা আর জিও ব্যাগ চাই না, তিস্তা নদীর স্থায়ী শাসন চাই। না হলে প্রতিবছর আমাদের পথে বসতে হবে।'

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, ভোরের পাখি এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করছে। কয়েক শ পরিবার বর্তমানে তীব্র খাবার ও পানীয় জলের সংকটে রয়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে সেখানে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতে জাহান তুলি বলেন, 'আমি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ১০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি।'

সব হারিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই চাওয়া–ত্রাণ নয়, বরং স্থায়ী নদী শাসন। যাতে প্রতিবছর বন্যায় তাদের ঘর-বাড়ি আর স্বপ্নগুলোকে নদীর পেটে চলে যেতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


তিস্তাপাড়ের মানুষের চাওয়া–জিও ব্যাগ নয়, বরং স্থায়ী নদী শাসন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিজানী ভোরের পাখি এলাকার ৭৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, 'বাবা, আমার মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নাই। তিন শতক জায়গায় টিনের ছাপরা দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ সর্বনাশা তিস্তা নদী সব কেড়ে নিল। আমি এখন কোথায় থাকব?' বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। আমেনা বেগমের মতো একই আকুতি ৮০ বছর বয়সী আব্দুল করিমের। তার তিনটি ঘরই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'তিস্তা সব খাইয়া ফেলাইছে। আমি কই যামু, কী খামু বাবা? আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।'

আমেনা বা করিম একা নন; গত কয়েক দিনে তিস্তার তীব্র ভাঙনে কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিজানী, ভোরের পাখি ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি, বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, গাছপালা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কেউ ঘরের টিন খুলে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা গাছের খুঁটি টেনে তুলছেন শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে। শিশুদের কান্না আর বয়স্কদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে নদীপাড়ের বাতাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে দায়সারাভাবে কিছু ‘জিও ব্যাগ’ ফেলে কাজ শেষ করা হয়। এতে ভাঙন সাময়িক থামলেও বর্ষা এলেই আবার শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ। ভুক্তভোগীদের দাবি, 'আমরা আর জিও ব্যাগ চাই না, তিস্তা নদীর স্থায়ী শাসন চাই। না হলে প্রতিবছর আমাদের পথে বসতে হবে।'

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, ভোরের পাখি এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করছে। কয়েক শ পরিবার বর্তমানে তীব্র খাবার ও পানীয় জলের সংকটে রয়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে সেখানে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতে জাহান তুলি বলেন, 'আমি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ১০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি।'

সব হারিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই চাওয়া–ত্রাণ নয়, বরং স্থায়ী নদী শাসন। যাতে প্রতিবছর বন্যায় তাদের ঘর-বাড়ি আর স্বপ্নগুলোকে নদীর পেটে চলে যেতে না হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত