হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের বদনাম কাটিয়ে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। গত তিন থেকে চার মাস ধরে বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, ছেঁড়া কিংবা ছুড়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে না বলে স্পষ্ট নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকা সরাসরি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা জানান। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তারা কত দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজেদের লাগেজ পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সাথে যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদারসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনা একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরে ধীরে কাজ করছেন।"
এর আগে ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীরা মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন মর্মে দেওয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তিনি পরিদর্শনের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সেই কথাগুলো বলেছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক ট্রল করা হলেও বাস্তব চিত্র এটাই যে অধিকাংশ যাত্রী এখন খুব দ্রুত ব্যাগেজ হাতে পাচ্ছেন।
লাগেজ ব্যবস্থাপনায় আগের অনিয়ম ঠেকাতে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, "লাগেজ কাটা, ছেঁড়া বা ছুড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঠেকাতে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার দিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ সময় প্রশাসন, অপারেশন ও নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্ক্যানার স্থাপন এবং যাত্রীদের অভিযোগ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ডিসপ্লে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।"
প্রায় দুই মাস আগে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের সফল বাস্তবায়নে সংগৃহীত আধুনিক সরঞ্জাম ও ডিসপ্লে স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে।
বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে অনেক যাত্রী তাকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মালামাল পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ থেকে নেমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বেল্টে পৌঁছাতে যাত্রীদের আলাদা সময় লাগে। বিমানবন্দর নিয়ে আগে যেসব বদনাম ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে উক্ত রুটে চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনুমতি পেলেই দ্রুত ফ্লাইট চালু করা হবে, তবে আপাতত যাত্রীদের কষ্ট কমাতে দাম্মাম বা মদিনা রুটে বিকল্প পরিবহনের কাজ চলছে। পরিদর্শনকালে নবনিযুক্ত সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের বদনাম কাটিয়ে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। গত তিন থেকে চার মাস ধরে বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, ছেঁড়া কিংবা ছুড়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে না বলে স্পষ্ট নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকা সরাসরি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা জানান। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তারা কত দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজেদের লাগেজ পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সাথে যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদারসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনা একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীরে ধীরে কাজ করছেন।"
এর আগে ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীরা মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন মর্মে দেওয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তিনি পরিদর্শনের সময় যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সেই কথাগুলো বলেছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক ট্রল করা হলেও বাস্তব চিত্র এটাই যে অধিকাংশ যাত্রী এখন খুব দ্রুত ব্যাগেজ হাতে পাচ্ছেন।
লাগেজ ব্যবস্থাপনায় আগের অনিয়ম ঠেকাতে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, "লাগেজ কাটা, ছেঁড়া বা ছুড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঠেকাতে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার দিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ সময় প্রশাসন, অপারেশন ও নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্ক্যানার স্থাপন এবং যাত্রীদের অভিযোগ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ডিসপ্লে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।"
প্রায় দুই মাস আগে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের সফল বাস্তবায়নে সংগৃহীত আধুনিক সরঞ্জাম ও ডিসপ্লে স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে।
বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে অনেক যাত্রী তাকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মালামাল পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ থেকে নেমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বেল্টে পৌঁছাতে যাত্রীদের আলাদা সময় লাগে। বিমানবন্দর নিয়ে আগে যেসব বদনাম ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে উক্ত রুটে চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনুমতি পেলেই দ্রুত ফ্লাইট চালু করা হবে, তবে আপাতত যাত্রীদের কষ্ট কমাতে দাম্মাম বা মদিনা রুটে বিকল্প পরিবহনের কাজ চলছে। পরিদর্শনকালে নবনিযুক্ত সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন