কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ যেন দুই তীরের মানুষের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুই পাড়েই সংযোগ সড়ক থাকলেও শুধু একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে কয়েক লাখ মানুষকে খেয়া নৌকায় চড়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ‘খুরশিদ মাঝির খেয়াঘাট’ থেকে ‘জামতলী মোড়’ পর্যন্ত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কটিয়াদী উপজেলার চরপুক্ষিয়া ও চরগোয়ালবাড়িয়া এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলমত-নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রহ্মপুত্র নদের এই অংশে একটি সেতু নির্মিত হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাই পারাপারের একমাত্র ভরসা। বর্ষাকালে স্রোত বাড়লে পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া বা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই নদী এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চরগোয়ালবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোমলমতি শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। একটি সেতুর অভাবে আমাদের পুরো এলাকা পিছিয়ে আছে।’
স্থানীয়দের দাবি, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে কটিয়াদী ও মনোহরদীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে মনোহরদীর তিনটি ইউনিয়ন ও কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
কর্মসূচিতে জালালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা বারবার সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। তারা বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ যেন দুই তীরের মানুষের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুই পাড়েই সংযোগ সড়ক থাকলেও শুধু একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে কয়েক লাখ মানুষকে খেয়া নৌকায় চড়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ‘খুরশিদ মাঝির খেয়াঘাট’ থেকে ‘জামতলী মোড়’ পর্যন্ত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কটিয়াদী উপজেলার চরপুক্ষিয়া ও চরগোয়ালবাড়িয়া এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলমত-নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রহ্মপুত্র নদের এই অংশে একটি সেতু নির্মিত হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাই পারাপারের একমাত্র ভরসা। বর্ষাকালে স্রোত বাড়লে পারাপার হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া বা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই নদী এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চরগোয়ালবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোমলমতি শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। একটি সেতুর অভাবে আমাদের পুরো এলাকা পিছিয়ে আছে।’
স্থানীয়দের দাবি, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে কটিয়াদী ও মনোহরদীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে মনোহরদীর তিনটি ইউনিয়ন ও কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
কর্মসূচিতে জালালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা বারবার সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। তারা বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন