হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত গোটা নেপাল। সেই ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই হিমালয়ের আরেক প্রান্তে উঠে এলো আরও অস্বস্তিকর তথ্য। ভারতের সিকিমে ৪০টি হিমবাহ হ্রদকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্যাটাগরি এ’। অর্থাৎ এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি নেমে এলে ভাটির জনপদ, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তবে আরও বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো, এই ১৬টির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে শ্যাকো ছো। উত্তর সিকিমের প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা এই হ্রদে আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। হ্রদটির কোনো প্রাকৃতিক বহির্গমন পথ নেই। পানি বের হওয়ার একটি পথ তৈরি হয়েছে দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধ বা টার্মিনাল মোরেইনের ভেতর দিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেখানে কোনো বড় ধরনের তুষারধস, ভূমিধস বা অন্য প্রাকৃতিক অভিঘাত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। হ্রদটির নিচেই থাঙ্গু এলাকা; সেখানে বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা স্থাপনাও রয়েছে।
সিকিমের সরকারি মূল্যায়নে ৪০টি উচ্চঝুঁকির হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ১৬টি ‘এ’, দুটি ‘বি’ বা উচ্চঝুঁকির এবং নয়টি ‘সি’ বা মাঝারি থেকে নিম্নঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। আরও ১৩টির শ্রেণীকরণ এখনো শেষ হয়নি। অর্থাৎ ঝুঁকির পূর্ণ চিত্রও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শ্যাকো ছো, নর্থ-সাউথ লোনাক হ্রদসমূহ এবং গুরুদংমার হ্রদ কমপ্লেক্সকে। এই তিন অঞ্চলের জন্য এক ধরনের সমাধানও প্রযোজ্য নয়। কোথাও পানি কমাতে হবে, কোথাও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আবার কোথাও প্রাকৃতিক বাঁধের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই মূল কাজ।
সিকিমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শ্যাকো ছোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিচালিত পাম্প দিয়ে ধীরে ধীরে পানি কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। লক্ষ্য দুই থেকে তিন বছরে হ্রদের পানির স্তর প্রায় ২০ মিটার কমানো।
এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে; অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রস্তাবটি। অর্থাৎ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদটির ঝুঁকি কমানোর কাজ এখনো মূলত পরিকল্পনা ও অনুমোদন পর্যায়ে।
সিকিমের সতর্কবার্তা
সিকিমের জন্য এটি কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর দক্ষিণ লোনাক হ্রদের হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে; ধ্বংস হয় চুংথাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একাধিক সেতু।
নতুন গবেষণা বলছে, সেই বিপর্যয়ের পেছনে শুধু হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়া নয়, একাধিক প্রাকৃতিক ঘটনা একসঙ্গে কাজ করেছিল। প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ঘনমিটার ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ হ্রদে পড়ে এবং প্রায় ৭০ লাখ ঘনমিটার বরফ ভেঙে পড়ে। এতে তৈরি প্রবল ঢেউ প্রাকৃতিক বাঁধে আঘাত করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ঘনমিটার পানি বেরিয়ে যায়।
এটাই সিকিমের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা- একটি হ্রদ নিজে থেকে বিপজ্জনক না হলেও তার চারপাশের বরফ, পাহাড়, ভূমিধস, প্রাকৃতিক বাঁধ ও পানির প্রবাহ একসঙ্গে বিপর্যয়ের চেইন তৈরি করতে পারে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ-শিলা ধসের পর আকস্মিক বন্যায় পুরো উপত্যকা বিপর্যস্ত হয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের পর সেখানে নতুন করে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হওয়ায় আরও বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
তবে বিজ্ঞানীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে—নেপালের ঘটনাটি হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যা ছিল না। হিমবাহের বরফ ও শিলার ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক বন্যা তৈরি করেছিল। তবু ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, হিমালয়ের উচ্চভূমিতে কোনো প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিচের জনপদে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না।
সিকিম ইতোমধ্যে ১৬টি সর্বোচ্চ ঝুঁকির হ্রদের মধ্যে ১৩টির বিস্তারিত মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা করেছে। এসব এলাকা প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা তার বেশি উচ্চতায়; অনেক জায়গায় পৌঁছাতেই পর্বতারোহণ অভিযানের মতো প্রস্তুতি লাগে। পানির পরিমাণ, মোরেইনের শক্তি, ভূগর্ভস্থ গঠন, পানির নিঃসরণ, হ্রদের গভীরতা এবং সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ—সবই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিকিম সরকার একই সঙ্গে ভারতের প্রথম বিশেষায়িত হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরির কাজ করছে। পানি সাইফনিং বা পাম্প করে সরানো, কৃত্রিম চ্যানেল তৈরি, নিরাপত্তাবেষ্টনী, মোরেইন কেটে নিয়ন্ত্রিত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজন হলে টানেল নির্মাণ—বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন করে আরও আগাম সতর্কীকরণ সেন্সর বসানোর বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যা ও তুষারধস মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।
তবে সিকিমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাই বলছেন, নেপালে যে মাত্রার বিপর্যয় হয়েছে, সিকিমের কোনো চিহ্নিত হ্রদে সেই মাত্রার ঝুঁকি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু ভূমিকম্পপ্রবণ তরুণ ভাঁজ পর্বতমালা এবং অত্যন্ত দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই।
তাই সিকিমের সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘কোন হ্রদ কখন ফেটে যাবে’ নয়। বড় প্রশ্ন হলো—পর্বতের ওপর জমে থাকা বিপুল পানি ও বরফকে বিপদে পরিণত হওয়ার আগেই কতটা নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। নেপালের ধ্বংসস্তূপ সেই প্রশ্নটিকেই আরও জরুরি করে তুলেছে।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত গোটা নেপাল। সেই ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই হিমালয়ের আরেক প্রান্তে উঠে এলো আরও অস্বস্তিকর তথ্য। ভারতের সিকিমে ৪০টি হিমবাহ হ্রদকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্যাটাগরি এ’। অর্থাৎ এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি নেমে এলে ভাটির জনপদ, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
তবে আরও বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো, এই ১৬টির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে শ্যাকো ছো। উত্তর সিকিমের প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা এই হ্রদে আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। হ্রদটির কোনো প্রাকৃতিক বহির্গমন পথ নেই। পানি বের হওয়ার একটি পথ তৈরি হয়েছে দুর্বল প্রাকৃতিক বাঁধ বা টার্মিনাল মোরেইনের ভেতর দিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেখানে কোনো বড় ধরনের তুষারধস, ভূমিধস বা অন্য প্রাকৃতিক অভিঘাত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। হ্রদটির নিচেই থাঙ্গু এলাকা; সেখানে বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা স্থাপনাও রয়েছে।
সিকিমের সরকারি মূল্যায়নে ৪০টি উচ্চঝুঁকির হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ১৬টি ‘এ’, দুটি ‘বি’ বা উচ্চঝুঁকির এবং নয়টি ‘সি’ বা মাঝারি থেকে নিম্নঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। আরও ১৩টির শ্রেণীকরণ এখনো শেষ হয়নি। অর্থাৎ ঝুঁকির পূর্ণ চিত্রও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শ্যাকো ছো, নর্থ-সাউথ লোনাক হ্রদসমূহ এবং গুরুদংমার হ্রদ কমপ্লেক্সকে। এই তিন অঞ্চলের জন্য এক ধরনের সমাধানও প্রযোজ্য নয়। কোথাও পানি কমাতে হবে, কোথাও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আবার কোথাও প্রাকৃতিক বাঁধের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই মূল কাজ।
সিকিমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, শ্যাকো ছোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিচালিত পাম্প দিয়ে ধীরে ধীরে পানি কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। লক্ষ্য দুই থেকে তিন বছরে হ্রদের পানির স্তর প্রায় ২০ মিটার কমানো।
এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে; অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রস্তাবটি। অর্থাৎ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদটির ঝুঁকি কমানোর কাজ এখনো মূলত পরিকল্পনা ও অনুমোদন পর্যায়ে।
সিকিমের সতর্কবার্তা
সিকিমের জন্য এটি কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর দক্ষিণ লোনাক হ্রদের হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল। অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে; ধ্বংস হয় চুংথাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একাধিক সেতু।
নতুন গবেষণা বলছে, সেই বিপর্যয়ের পেছনে শুধু হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়া নয়, একাধিক প্রাকৃতিক ঘটনা একসঙ্গে কাজ করেছিল। প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ঘনমিটার ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ হ্রদে পড়ে এবং প্রায় ৭০ লাখ ঘনমিটার বরফ ভেঙে পড়ে। এতে তৈরি প্রবল ঢেউ প্রাকৃতিক বাঁধে আঘাত করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি ঘনমিটার পানি বেরিয়ে যায়।
এটাই সিকিমের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা- একটি হ্রদ নিজে থেকে বিপজ্জনক না হলেও তার চারপাশের বরফ, পাহাড়, ভূমিধস, প্রাকৃতিক বাঁধ ও পানির প্রবাহ একসঙ্গে বিপর্যয়ের চেইন তৈরি করতে পারে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ-শিলা ধসের পর আকস্মিক বন্যায় পুরো উপত্যকা বিপর্যস্ত হয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের পর সেখানে নতুন করে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হওয়ায় আরও বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
তবে বিজ্ঞানীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে—নেপালের ঘটনাটি হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যা ছিল না। হিমবাহের বরফ ও শিলার ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক বন্যা তৈরি করেছিল। তবু ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, হিমালয়ের উচ্চভূমিতে কোনো প্রাকৃতিক পরিবর্তন নিচের জনপদে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না।
সিকিম ইতোমধ্যে ১৬টি সর্বোচ্চ ঝুঁকির হ্রদের মধ্যে ১৩টির বিস্তারিত মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা করেছে। এসব এলাকা প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা তার বেশি উচ্চতায়; অনেক জায়গায় পৌঁছাতেই পর্বতারোহণ অভিযানের মতো প্রস্তুতি লাগে। পানির পরিমাণ, মোরেইনের শক্তি, ভূগর্ভস্থ গঠন, পানির নিঃসরণ, হ্রদের গভীরতা এবং সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ—সবই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিকিম সরকার একই সঙ্গে ভারতের প্রথম বিশেষায়িত হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরির কাজ করছে। পানি সাইফনিং বা পাম্প করে সরানো, কৃত্রিম চ্যানেল তৈরি, নিরাপত্তাবেষ্টনী, মোরেইন কেটে নিয়ন্ত্রিত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজন হলে টানেল নির্মাণ—বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন করে আরও আগাম সতর্কীকরণ সেন্সর বসানোর বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর হ্রদ বিস্ফোরণজনিত আকস্মিক বন্যা ও তুষারধস মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।
তবে সিকিমের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাই বলছেন, নেপালে যে মাত্রার বিপর্যয় হয়েছে, সিকিমের কোনো চিহ্নিত হ্রদে সেই মাত্রার ঝুঁকি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু ভূমিকম্পপ্রবণ তরুণ ভাঁজ পর্বতমালা এবং অত্যন্ত দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই।
তাই সিকিমের সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘কোন হ্রদ কখন ফেটে যাবে’ নয়। বড় প্রশ্ন হলো—পর্বতের ওপর জমে থাকা বিপুল পানি ও বরফকে বিপদে পরিণত হওয়ার আগেই কতটা নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। নেপালের ধ্বংসস্তূপ সেই প্রশ্নটিকেই আরও জরুরি করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন