সংবাদ

সারের সংকট কাটছে, আসছে বিশাল চালান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

সারের সংকট কাটছে, আসছে বিশাল চালান
রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মজুদ নিশ্চিত করতে দেশে আসছে সাতটি বড় জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সার আমদানি নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে পৌঁছাবে নন-ইউরিয়া সারের সাতটি বড় জাহাজ। এসব জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের এই চালানের পর অক্টোবর মাসে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) নিয়ে আরও অন্তত ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, চলতি মাসে মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ আসবে; যার একটি ৮ সেপ্টেম্বর ও অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এছাড়া একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরেকটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও কানাডা থেকে চারটি চালানে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে, যার জাহাজগুলো চলতি সপ্তাহ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে।

বিএডিসির হিসাব মতে, সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে দেশে ডিএপির চাহিদা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ২৭ হাজার টন, এমওপির ৬ লাখ ৭২ হাজার টন এবং টিএসপির ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এই চাহিদা মেটাতে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ ও বোরো আবাদের কারণে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বছরের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এই সময়েই প্রয়োজন হয়। তাই এখন থেকেই মজুদ বাড়ানো জরুরি।’

সম্প্রতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রেক্ষিতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৌদি ও কাতার থেকে আমদানি বাধাগ্রস্ত হলেও আমরা বিকল্প পথে সার আনছি। সার আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সারের সংকট কাটছে, আসছে বিশাল চালান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সার আমদানি নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে পৌঁছাবে নন-ইউরিয়া সারের সাতটি বড় জাহাজ। এসব জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের এই চালানের পর অক্টোবর মাসে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) নিয়ে আরও অন্তত ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, চলতি মাসে মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ আসবে; যার একটি ৮ সেপ্টেম্বর ও অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এছাড়া একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরেকটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও কানাডা থেকে চারটি চালানে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে, যার জাহাজগুলো চলতি সপ্তাহ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে।

বিএডিসির হিসাব মতে, সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে দেশে ডিএপির চাহিদা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ২৭ হাজার টন, এমওপির ৬ লাখ ৭২ হাজার টন এবং টিএসপির ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এই চাহিদা মেটাতে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ ও বোরো আবাদের কারণে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বছরের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এই সময়েই প্রয়োজন হয়। তাই এখন থেকেই মজুদ বাড়ানো জরুরি।’

সম্প্রতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় সার নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রেক্ষিতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৌদি ও কাতার থেকে আমদানি বাধাগ্রস্ত হলেও আমরা বিকল্প পথে সার আনছি। সার আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত