সংবাদ

চোরবাগান কাণ্ডে বড়সড় পুলিশি পদক্ষেপ


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

চোরবাগান কাণ্ডে বড়সড় পুলিশি পদক্ষেপ
১৯ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫—ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির অভিযোগে তদন্তের কেন্দ্রে আয়োজক ও নিরাপত্তাকর্মীরা

কলকাতার দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুজো কমিটির পদাধিকারী, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে কৌশিক সাহাকে, যার দায়িত্বের মধ্যে ছিল ভিআইপি পাস যাচাই ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ। ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা পিন্টু দে-কেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো তৈরির কাজে যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ও ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মী সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা নাগাদ চোরবাগান এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। পুজো দেখতে আসা মানুষের ভিড়ের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সংকীর্ণ প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, কোনও ঘোষণা বা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রত্যেকের দায় তদন্তের পরেই নিশ্চিত হবে।

ঘটনার পর শনিবার রাতেই পুলিশ পুজোর উদ্যোক্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এরপর উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাতজনের গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসে। তাদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে শুধু পুজো কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই নন, নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে রবিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতায় তার একাধিক কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেগুলি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে—প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আহতদের প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের ঘোষণাও করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চোরবাগানের এই ঘটনা ফের বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, বৃষ্টির সময় বিকল্প পরিকল্পনা এবং দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা কতটা কার্যকর ছিল—তার উত্তর খুঁজছে তদন্ত।

এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১৯ এবং আহতের সংখ্যা ২৫। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারই অপরাধ প্রমাণ নয়; তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যেকের দায় নির্ধারিত হবে।

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এখন সেদিকেই নজর কলকাতা বাসির। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


চোরবাগান কাণ্ডে বড়সড় পুলিশি পদক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কলকাতার দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুজো কমিটির পদাধিকারী, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে কৌশিক সাহাকে, যার দায়িত্বের মধ্যে ছিল ভিআইপি পাস যাচাই ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ। ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা পিন্টু দে-কেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো তৈরির কাজে যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ও ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মী সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা নাগাদ চোরবাগান এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। পুজো দেখতে আসা মানুষের ভিড়ের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সংকীর্ণ প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, কোনও ঘোষণা বা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রত্যেকের দায় তদন্তের পরেই নিশ্চিত হবে।

ঘটনার পর শনিবার রাতেই পুলিশ পুজোর উদ্যোক্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এরপর উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাতজনের গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসে। তাদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে শুধু পুজো কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই নন, নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে রবিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতায় তার একাধিক কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেগুলি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে—প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আহতদের প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের ঘোষণাও করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চোরবাগানের এই ঘটনা ফের বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, বৃষ্টির সময় বিকল্প পরিকল্পনা এবং দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা কতটা কার্যকর ছিল—তার উত্তর খুঁজছে তদন্ত।

এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১৯ এবং আহতের সংখ্যা ২৫। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারই অপরাধ প্রমাণ নয়; তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যেকের দায় নির্ধারিত হবে।

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এখন সেদিকেই নজর কলকাতা বাসির। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত