দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই কলকাতার চোরবাগানে মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলকাতা-সহ গোটা বাংলায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকারি নথিতে ১৯ জনের নাম উঠে এসেছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও।
অন্যদিকে, রোববার সংবাদমাধ্যমের সামনে দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। একজনের দাবি, প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজনের বক্তব্য, মৃতের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হতে পারে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের এই দাবির সঙ্গে সরকারি নথির তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি অভিষেক শ্রীবাস্তব এবং একই জেলার বাসিন্দা অন্যাস শ্রীবাস্তব। হুগলির বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণা পোদ্দার, কলকাতার শ্যামপুকুরের মিঠু মণ্ডল, হাওড়ার বালির আকৃতি কুমারী এবং নিউ টাউনের বর্ণালী হালদারের নামও রয়েছে তালিকায়।
এ ছাড়াও কলকাতার মানিকতলার শুভম সোনকর, নদিয়ার চাকদহের আরতি সরকার বিশ্বাস, নিউ টাউনের গৌরাঙ্গনগরের তানিয়া বিশ্বাস, হাওড়ার সালকিয়ার বিকাশ ভট্টাচার্য এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের স্নেহা ভাণ্ডারির নাম প্রকাশিত হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির সন্দীপ ভেজ ও টগর ভেজ, হুগলির আরামবাগের পিয়ালি প্রামাণিক, পানিহাটির সোদপুরের কল্পনা জানা, নিউ ব্যারাকপুরের প্রিয়া সমাদ্দার, বরানগরের দিলীপ ঘোষ ও দীপালি ঘোষ এবং আগরপাড়ার বিটি রোডের প্রাঞ্জল সরকার।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে একাধিক নাবালক-নাবালিকাও রয়েছেন। তাঁদের অকালমৃত্যু এই দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দিকটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
হাসপাতালভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব সম্পর্কেও নথিতে তথ্য রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এমসিএইচে, একজনের মৃত্যু হয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে এই হিসাবের যোগফল ১৮, যেখানে তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। ফলে হাসপাতালভিত্তিক হিসাব ও মোট মৃতের সংখ্যার মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যে ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে, তা ঘটনাটির ভয়াবহতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমানকে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। সরকারি নথি, হাসপাতালের তথ্য এবং পুলিশের চূড়ান্ত বিবরণ মিলিয়ে প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপুজোর ভিড়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনা জননিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কোথাও কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—তদন্তের মাধ্যমে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষগুলির পরিবারের কাছে এখন অপূরণীয় ক্ষতি। উৎসবের আলো ম্লান করে দেওয়া এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ কলকাতা। একই সঙ্গে, মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য প্রকাশের দিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই কলকাতার চোরবাগানে মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলকাতা-সহ গোটা বাংলায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকারি নথিতে ১৯ জনের নাম উঠে এসেছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও।
অন্যদিকে, রোববার সংবাদমাধ্যমের সামনে দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। একজনের দাবি, প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজনের বক্তব্য, মৃতের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হতে পারে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের এই দাবির সঙ্গে সরকারি নথির তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি অভিষেক শ্রীবাস্তব এবং একই জেলার বাসিন্দা অন্যাস শ্রীবাস্তব। হুগলির বৈদ্যবাটির শ্রীপর্ণা পোদ্দার, কলকাতার শ্যামপুকুরের মিঠু মণ্ডল, হাওড়ার বালির আকৃতি কুমারী এবং নিউ টাউনের বর্ণালী হালদারের নামও রয়েছে তালিকায়।
এ ছাড়াও কলকাতার মানিকতলার শুভম সোনকর, নদিয়ার চাকদহের আরতি সরকার বিশ্বাস, নিউ টাউনের গৌরাঙ্গনগরের তানিয়া বিশ্বাস, হাওড়ার সালকিয়ার বিকাশ ভট্টাচার্য এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের স্নেহা ভাণ্ডারির নাম প্রকাশিত হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির সন্দীপ ভেজ ও টগর ভেজ, হুগলির আরামবাগের পিয়ালি প্রামাণিক, পানিহাটির সোদপুরের কল্পনা জানা, নিউ ব্যারাকপুরের প্রিয়া সমাদ্দার, বরানগরের দিলীপ ঘোষ ও দীপালি ঘোষ এবং আগরপাড়ার বিটি রোডের প্রাঞ্জল সরকার।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে একাধিক নাবালক-নাবালিকাও রয়েছেন। তাঁদের অকালমৃত্যু এই দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দিকটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
হাসপাতালভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব সম্পর্কেও নথিতে তথ্য রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এমসিএইচে, একজনের মৃত্যু হয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে এই হিসাবের যোগফল ১৮, যেখানে তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। ফলে হাসপাতালভিত্তিক হিসাব ও মোট মৃতের সংখ্যার মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে যে ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে, তা ঘটনাটির ভয়াবহতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমানকে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। সরকারি নথি, হাসপাতালের তথ্য এবং পুলিশের চূড়ান্ত বিবরণ মিলিয়ে প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপুজোর ভিড়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনা জননিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কোথাও কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—তদন্তের মাধ্যমে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষগুলির পরিবারের কাছে এখন অপূরণীয় ক্ষতি। উৎসবের আলো ম্লান করে দেওয়া এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ কলকাতা। একই সঙ্গে, মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য প্রকাশের দিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের।

আপনার মতামত লিখুন