সংবাদ

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, জানুন বিস্তারিত


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, জানুন বিস্তারিত
৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবের রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। ছবি : রয়টার্স

তিনটি দেশকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার অঙ্গীকারবদ্ধ করেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা প্রথম ১০ বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করা যাবে না। তুর্কি সরকার মঙ্গলবার তাদের দেশের সংসদে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল টেক্সট বা পাঠ্য পেশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হলো। এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে, যা অনেকটা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর সমতুল্য।

মিডল ইস্ট আই এক্সক্লুসিভভাবে প্রাপ্ত এই চুক্তির টেক্সটে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো অংশগ্রহণকারী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলো পরস্পরকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো ‘পক্ষ’ (স্বাক্ষরকারী দেশ)-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে পক্ষগুলো সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ বা মাধ্যম ব্যবহার করবে।”

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোনো একটি ‘পক্ষ’-এর ওপর বাহির থেকে আসা সশস্ত্র হামলাকে সব ‘পক্ষ’-এর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।”

“যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা দেশের গোষ্ঠীর দ্বারা সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্যান্য ‘পক্ষ’ তৎক্ষণাৎ আক্রান্ত ‘পক্ষ’-কে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক সহায়তার সব ধরনের উপায় ও মাধ্যম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও যোগ করা হয়েছে যে, সাহায্য বা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের পর যে ধরনের সমর্থন দেওয়া দরকার, তার পরিধি ও প্রকৃতি পক্ষগুলো যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তারা তাদের কাছে থাকা সম্পদ ও সামর্থ্যের (সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ) সীমার মধ্যে থেকে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতার বিধান রাখা হয়েছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারের জন্য একটি কাঠামোর রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত এই চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা মেয়াদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ নেই।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর কেবল ১০ বছর অতিবাহিত হলেই স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্তত তিন মাস আগে অন্যান্য পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ বা বার্তা দিতে হবে।

নিচে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক অনুবাদ দেওয়া হলো:

তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের সরকার, ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার এবং সৌদি আরব রাজ্য সরকার (এরপরে ‘পক্ষ’, ‘পক্ষসমূহ’ বা ‘মূল পক্ষসমূহ’ হিসেবে উল্লেখিত);

সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার কথা বিবেচনায় নিয়ে; এবং ‘পক্ষ সমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণের রূপরেখাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উন্নীত করতে সম্মত হয়ে;

‘পক্ষসমূহ’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বিদ্যমান বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সাধারণ স্বার্থের ভিত্তিতে যৌথ সহযোগিতা, সমন্বয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃকার্যক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের সম্পর্ককে আরও বিকশিত করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে;

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার অখণ্ডতার নীতির গুরুত্ব পুনর্নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক;

আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ প্রয়াস ও সমন্বয়ের গুরুত্ব ব্যক্ত করে;

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষসমূহের’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে;

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে;

‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করে;

নিম্নলিখিত বিষয়ে সম্মত হয়েছে:

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষসমূহ’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার অখণ্ডতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে ‘পক্ষসমূহ’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব মাধ্যম ব্যবহার করবে।

অনুচ্ছেদ ২

কোনো একটি ‘পক্ষ’-এর ওপর বাহির থেকে আসা সশস্ত্র আক্রমণকে সব ‘পক্ষ’-এর ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা দেশের গোষ্ঠীর দ্বারা সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে ‘পক্ষসমূহ’ অবিলম্বে আক্রান্ত ‘পক্ষ’-কে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় বা মাধ্যম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ দ্বারা স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে সহায়তা করার জন্য, সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের পর যে সমর্থন বা সহযোগিতা প্রদান করা হবে তার পরিধি ও প্রকৃতি ‘পক্ষসমূহ’ নির্ধারণ করবে এবং তাদের উপলব্ধ সম্পদ ও সক্ষমতা (সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ) সীমার মধ্যে থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে, ‘পক্ষসমূহ’ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করবে; নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে; এবং প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে সম্মত হওয়া কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

‘পক্ষসমূহ’ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ সভা আয়োজন করবে। তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি ও বিপদ দূর করার জন্য সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র ও যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে একে অপরকে ক্রমাগত এবং কার্যকরভাবে সহায়তা ও সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৫

‘পক্ষসমূহ’ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো আকারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের বিদ্যমান সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা (অপারেশনাল পর্যায়সহ) জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

যুদ্ধের সময় এবং শান্তিকালীন সময়ে, ‘পক্ষসমূহ’ তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কর্মী বা কর্মকর্তা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া এবং 'পক্ষসমূহের' সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যৌথ মিশন পরিচালনা বা মোতায়েনকে উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে, ‘পক্ষসমূহ’ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তাদের প্রতিরক্ষা-শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা-শিল্প সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সহায়তা করবে:

ক) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা;

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা;

গ) কোনো ‘পক্ষ’-এর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্যান্য ‘পক্ষ’ বা দেশের অভ্যন্তরে সামরিক শিল্পকে সহায়তা দেওয়া এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া;

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান শেয়ার করা;

ঙ) ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. যৌথ প্রতিরক্ষার বিষয়ে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান, ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বিকাশ এবং এই চুক্তি বাস্তবায়নের সময় উত্থাপিত যে কোনো বাধা নিরসনে ‘মূল পক্ষসমূহ’ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অফ জেনারেল স্টাফদের সমন্বয়ে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। কমিটি বছরে দুবার বৈঠকে বসবে এবং প্রতিটি ‘পক্ষ’ পর্যায়ক্রমে এর আয়োজন করবে। প্রয়োজনীয় মনে হলে ‘পক্ষসমূহের’ রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানেরা বছরে একবার বৈঠকে বসতে পারেন।

২. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ প্রয়োজনীয় মনে করলে সাব-কমিটি বা উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. এই চুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত ক্ষেত্রগুলোর বাস্তবায়নের জন্য ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তি বা প্রোটোকল সম্পর্কিত আলোচনা পরিচালনা করা হবে।

৪. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ ‘মূল পক্ষসমূহের’ সর্বসম্মতিক্রমে, এই চুক্তিতে অন্যান্য ‘পক্ষের’ যোগদান বা অন্তর্ভুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মাবলী ও নীতি নির্ধারণ এবং অনুমোদন করার জন্য তা কার্যকর বা কর্তৃত্বপ্রাপ্ত হবে।

৫. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’-এর কাজ সম্পাদনের জন্য সৌদি আরব রাজ্যে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। সচিবালয়টি সৌদি আরব রাজ্যের সাথে একটি সদর দপ্তর চুক্তি স্বাক্ষর করবে। সচিবালয়ের কার্যপ্রণালী, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত নীতিমালা পরবর্তী সময়ে ‘মূল পক্ষসমূহের’ সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে একজন মহাসচিব থাকবেন, যিনি ‘মূল পক্ষসমূহের’ মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে ৩ বছরের মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কাজকে প্রভাবিত করবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা তথ্য প্রদানে সহযোগিতা গভীর করা এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের জন্য, ‘পক্ষসমূহ’ তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

রসদ বা লজিস্টিক সহায়তা পরিষেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্য সাপেক্ষে, ‘পক্ষসমূহ’ শান্তিকালীন, যুদ্ধকালীন এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জামসহ লজিস্টিক সহায়তা একে অপরকে প্রদান করবে।

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং ‘পক্ষসমূহের’ সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ আইন ক্ষুণ্ন না করে, ‘পক্ষসমূহ’ এই চুক্তিকে এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি পূর্বে সাক্ষরিত বা সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে উদ্ভূত ‘পক্ষসমূহের’ অধিকার ও বাধ্যবাধকতাকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ক্ষুণ্ন করবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্রের গোপনীয়তা ‘পক্ষসমূহ’ রক্ষা করবে এবং নিজ নিজ দেশের জাতীয় আইনকে শ্রদ্ধা জানাবে।

২. ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় তথ্য ও নথি ‘পক্ষসমূহের’ বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার বা প্রকাশ করা যাবে না।

৩. ক্লাসিফাইড তথ্য এবং নথিপত্রে প্রবেশাধিকার কেবল ‘জানার প্রয়োজন রয়েছে’ (need-to-know) এমন ভিত্তিতে এবং কেবল উপযুক্ত স্তরের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ধারণকারী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন থেকে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অমীমাংসিতভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

এই চুক্তিটি ‘মূল পক্ষসমূহের’ মধ্যে পরামর্শ এবং সর্বসম্মত সম্মতির মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. এই চুক্তিটি প্রতিটি ‘পক্ষের’ জন্য প্রযোজ্য নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী অনুমোদিত হবে এবং ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’-এর সচিবালয়ে অনুমোদনের চূড়ান্ত দলিল জমা দেওয়ার তারিখে এটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. যেকোনো ‘পক্ষ’ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস পূর্বে অন্য ‘পক্ষসমূহ’-কে লিখিতভাবে প্রত্যাহারের ইচ্ছা জানিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে।

৪. এই চুক্তির সমাপ্তি বা এটি থেকে নাম প্রত্যাহার, সমাপ্তি বা প্রত্যাহারের তারিখের আগে ‘পক্ষসমূহ’ দ্বারা সম্মত হওয়া চলমান কোনো কার্যক্রম বা প্রকল্পকে প্রভাবিত করবে না।

৫. চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তি বা এটি থেকে প্রত্যাহারের পরও ক্লাসিফাইড তথ্য ও নথিপত্রের সুরক্ষা এবং সেগুলোর প্রকাশ রোধ করার বিষয়ে ‘পক্ষসমূহের’ দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।

এই চুক্তিটি তুর্কি, আরবি এবং ইংরেজি ভাষায় তিনটি মূল কপিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার প্রতিটি পাঠ্য সমানভাবে প্রামাণিক। পাঠ্যগুলোর মধ্যে ব্যাখ্যার কোনো ভিন্নতা বা পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠ্য প্রাধান্য পাবে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, জানুন বিস্তারিত

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তিনটি দেশকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার অঙ্গীকারবদ্ধ করেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা প্রথম ১০ বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করা যাবে না। তুর্কি সরকার মঙ্গলবার তাদের দেশের সংসদে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল টেক্সট বা পাঠ্য পেশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হলো। এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে, যা অনেকটা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর সমতুল্য।

মিডল ইস্ট আই এক্সক্লুসিভভাবে প্রাপ্ত এই চুক্তির টেক্সটে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো অংশগ্রহণকারী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য দেশগুলো পরস্পরকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো ‘পক্ষ’ (স্বাক্ষরকারী দেশ)-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে পক্ষগুলো সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ বা মাধ্যম ব্যবহার করবে।”

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোনো একটি ‘পক্ষ’-এর ওপর বাহির থেকে আসা সশস্ত্র হামলাকে সব ‘পক্ষ’-এর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।”

“যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা দেশের গোষ্ঠীর দ্বারা সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্যান্য ‘পক্ষ’ তৎক্ষণাৎ আক্রান্ত ‘পক্ষ’-কে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক সহায়তার সব ধরনের উপায় ও মাধ্যম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও যোগ করা হয়েছে যে, সাহায্য বা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের পর যে ধরনের সমর্থন দেওয়া দরকার, তার পরিধি ও প্রকৃতি পক্ষগুলো যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তারা তাদের কাছে থাকা সম্পদ ও সামর্থ্যের (সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ) সীমার মধ্যে থেকে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতার বিধান রাখা হয়েছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারের জন্য একটি কাঠামোর রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত এই চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা মেয়াদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ নেই।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর কেবল ১০ বছর অতিবাহিত হলেই স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্তত তিন মাস আগে অন্যান্য পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ বা বার্তা দিতে হবে।

নিচে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক অনুবাদ দেওয়া হলো:

তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের সরকার, ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার এবং সৌদি আরব রাজ্য সরকার (এরপরে ‘পক্ষ’, ‘পক্ষসমূহ’ বা ‘মূল পক্ষসমূহ’ হিসেবে উল্লেখিত);

সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার কথা বিবেচনায় নিয়ে; এবং ‘পক্ষ সমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণের রূপরেখাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উন্নীত করতে সম্মত হয়ে;

‘পক্ষসমূহ’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বিদ্যমান বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সাধারণ স্বার্থের ভিত্তিতে যৌথ সহযোগিতা, সমন্বয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃকার্যক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের সম্পর্ককে আরও বিকশিত করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে;

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার অখণ্ডতার নীতির গুরুত্ব পুনর্নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক;

আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ প্রয়াস ও সমন্বয়ের গুরুত্ব ব্যক্ত করে;

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষসমূহের’ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে;

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে;

‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করে;

নিম্নলিখিত বিষয়ে সম্মত হয়েছে:

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষসমূহ’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার অখণ্ডতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’-এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপদগ্রস্ত হয়, তবে ‘পক্ষসমূহ’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব মাধ্যম ব্যবহার করবে।

অনুচ্ছেদ ২

কোনো একটি ‘পক্ষ’-এর ওপর বাহির থেকে আসা সশস্ত্র আক্রমণকে সব ‘পক্ষ’-এর ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা দেশের গোষ্ঠীর দ্বারা সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে ‘পক্ষসমূহ’ অবিলম্বে আক্রান্ত ‘পক্ষ’-কে সাহায্য করবে এবং পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় বা মাধ্যম পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ দ্বারা স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে সহায়তা করার জন্য, সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের পর যে সমর্থন বা সহযোগিতা প্রদান করা হবে তার পরিধি ও প্রকৃতি ‘পক্ষসমূহ’ নির্ধারণ করবে এবং তাদের উপলব্ধ সম্পদ ও সক্ষমতা (সামরিক উপায় ও সক্ষমতাসহ) সীমার মধ্যে থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে, ‘পক্ষসমূহ’ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করবে; নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে; এবং প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে সম্মত হওয়া কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

‘পক্ষসমূহ’ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ সভা আয়োজন করবে। তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি ও বিপদ দূর করার জন্য সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র ও যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে একে অপরকে ক্রমাগত এবং কার্যকরভাবে সহায়তা ও সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৫

‘পক্ষসমূহ’ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো আকারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের বিদ্যমান সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা (অপারেশনাল পর্যায়সহ) জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

যুদ্ধের সময় এবং শান্তিকালীন সময়ে, ‘পক্ষসমূহ’ তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কর্মী বা কর্মকর্তা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া এবং 'পক্ষসমূহের' সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যৌথ মিশন পরিচালনা বা মোতায়েনকে উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে, ‘পক্ষসমূহ’ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তাদের প্রতিরক্ষা-শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা-শিল্প সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সহায়তা করবে:

ক) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা;

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা;

গ) কোনো ‘পক্ষ’-এর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্যান্য ‘পক্ষ’ বা দেশের অভ্যন্তরে সামরিক শিল্পকে সহায়তা দেওয়া এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া;

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান শেয়ার করা;

ঙ) ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. যৌথ প্রতিরক্ষার বিষয়ে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান, ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বিকাশ এবং এই চুক্তি বাস্তবায়নের সময় উত্থাপিত যে কোনো বাধা নিরসনে ‘মূল পক্ষসমূহ’ তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অফ জেনারেল স্টাফদের সমন্বয়ে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। কমিটি বছরে দুবার বৈঠকে বসবে এবং প্রতিটি ‘পক্ষ’ পর্যায়ক্রমে এর আয়োজন করবে। প্রয়োজনীয় মনে হলে ‘পক্ষসমূহের’ রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানেরা বছরে একবার বৈঠকে বসতে পারেন।

২. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ প্রয়োজনীয় মনে করলে সাব-কমিটি বা উপকমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. এই চুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত ক্ষেত্রগুলোর বাস্তবায়নের জন্য ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তি বা প্রোটোকল সম্পর্কিত আলোচনা পরিচালনা করা হবে।

৪. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ ‘মূল পক্ষসমূহের’ সর্বসম্মতিক্রমে, এই চুক্তিতে অন্যান্য ‘পক্ষের’ যোগদান বা অন্তর্ভুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মাবলী ও নীতি নির্ধারণ এবং অনুমোদন করার জন্য তা কার্যকর বা কর্তৃত্বপ্রাপ্ত হবে।

৫. ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’-এর কাজ সম্পাদনের জন্য সৌদি আরব রাজ্যে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। সচিবালয়টি সৌদি আরব রাজ্যের সাথে একটি সদর দপ্তর চুক্তি স্বাক্ষর করবে। সচিবালয়ের কার্যপ্রণালী, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত নীতিমালা পরবর্তী সময়ে ‘মূল পক্ষসমূহের’ সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে একজন মহাসচিব থাকবেন, যিনি ‘মূল পক্ষসমূহের’ মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে ৩ বছরের মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা কমিটিগুলোর কাজকে প্রভাবিত করবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা তথ্য প্রদানে সহযোগিতা গভীর করা এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের জন্য, ‘পক্ষসমূহ’ তথ্য নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

রসদ বা লজিস্টিক সহায়তা পরিষেবার প্রাপ্যতা এবং সামঞ্জস্য সাপেক্ষে, ‘পক্ষসমূহ’ শান্তিকালীন, যুদ্ধকালীন এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সরঞ্জামসহ লজিস্টিক সহায়তা একে অপরকে প্রদান করবে।

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং ‘পক্ষসমূহের’ সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ আইন ক্ষুণ্ন না করে, ‘পক্ষসমূহ’ এই চুক্তিকে এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি পূর্বে সাক্ষরিত বা সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে উদ্ভূত ‘পক্ষসমূহের’ অধিকার ও বাধ্যবাধকতাকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ক্ষুণ্ন করবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্রের গোপনীয়তা ‘পক্ষসমূহ’ রক্ষা করবে এবং নিজ নিজ দেশের জাতীয় আইনকে শ্রদ্ধা জানাবে।

২. ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় তথ্য ও নথি ‘পক্ষসমূহের’ বাইরের কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার বা প্রকাশ করা যাবে না।

৩. ক্লাসিফাইড তথ্য এবং নথিপত্রে প্রবেশাধিকার কেবল ‘জানার প্রয়োজন রয়েছে’ (need-to-know) এমন ভিত্তিতে এবং কেবল উপযুক্ত স্তরের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ধারণকারী ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন থেকে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ ‘পক্ষসমূহের’ মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অমীমাংসিতভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

এই চুক্তিটি ‘মূল পক্ষসমূহের’ মধ্যে পরামর্শ এবং সর্বসম্মত সম্মতির মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. এই চুক্তিটি প্রতিটি ‘পক্ষের’ জন্য প্রযোজ্য নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী অনুমোদিত হবে এবং ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’-এর সচিবালয়ে অনুমোদনের চূড়ান্ত দলিল জমা দেওয়ার তারিখে এটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. যেকোনো ‘পক্ষ’ এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস পূর্বে অন্য ‘পক্ষসমূহ’-কে লিখিতভাবে প্রত্যাহারের ইচ্ছা জানিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে।

৪. এই চুক্তির সমাপ্তি বা এটি থেকে নাম প্রত্যাহার, সমাপ্তি বা প্রত্যাহারের তারিখের আগে ‘পক্ষসমূহ’ দ্বারা সম্মত হওয়া চলমান কোনো কার্যক্রম বা প্রকল্পকে প্রভাবিত করবে না।

৫. চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তি বা এটি থেকে প্রত্যাহারের পরও ক্লাসিফাইড তথ্য ও নথিপত্রের সুরক্ষা এবং সেগুলোর প্রকাশ রোধ করার বিষয়ে ‘পক্ষসমূহের’ দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।

এই চুক্তিটি তুর্কি, আরবি এবং ইংরেজি ভাষায় তিনটি মূল কপিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার প্রতিটি পাঠ্য সমানভাবে প্রামাণিক। পাঠ্যগুলোর মধ্যে ব্যাখ্যার কোনো ভিন্নতা বা পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠ্য প্রাধান্য পাবে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত